এক কিংবদন্তির বিদায়

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২২ এপ্রিল ২০১৭, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:০৪
 আমায় ডেকো না, ফেরানো যাবে না/ফেরারি পাখিরা, কুলায় ফেরে না। অবশেষে নিজের    পৃষ্ঠা ৮ কলাম ৪
 জনপ্রিয় গানের মতো করেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন কিংবদন্তি সুরকার, শিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা লাকী আখান্দ। গতকাল দুপুরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত মিটফোর্ড হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না...রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬১ বছর। দু’দিন আগে হাসপাতালে আড়াই মাস কাটিয়ে খানিক সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেই গান নিয়ে বসেছিলেন লাকী আখান্দ।
কিন্তু গান আর পুরোপুরি বাঁধা হলো না তার। দীর্ঘদিন ধরে মরণব্যাধি ক্যানসারে ভুগছিলেন তিনি। তার মৃত্যুতে গোটা সংগীত তথা সংস্কৃতি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। লাকী আখান্দ জীবদ্দশায় অসংখ্য কালজয়ী গান উপহার দিয়ে গেছেন। তাকে আধুনিক বাংলা সংগীতের স্রষ্টাও বলা হতো। খ্যাতিমান এ শিল্পীর জন্ম ১৯৫৬ সালের ১৮ই জুন। ৫ বছর বয়সেই তিনি তার বাবার কাছ থেকে সংগীত বিষয়ে হাতেখড়ি নেন। তিনি ১৯৬৩-১৯৬৭ সাল পর্যন্ত  টেলিভিশন এবং রেডিওতে শিশুশিল্পী হিসেবে সংগীত বিষয়ক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে এইচএমভি পাকিস্তানে সুরকার হিসেবে তালিকাভুক্ত হন লাকী আখান্দ। সুরকার হিসেবে আরো কাজ করেছেন এইচএমভি ভারত এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রেও। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন তিনি। দেশ স্বাধীন করে আবারও বাংলা গান নিয়ে কাজ শুরু করেন। তার নিজের সুর করা গানের সংখ্যা দেড় হাজারেরও বেশি। এদিকে ৮০’র দশকে লাকী আখান্দ সুরকার ও শিল্পী হিসেবে অর্জন করেন আকাশছোঁয়া খ্যাতি। ১৯৮৪ সালে সারগামের ব্যানারে লাকী আখান্দের প্রথম একক অ্যালবাম ‘লাকী আখান্দ’ প্রকাশ পায়। তিনি ব্যান্ড দল হ্যাপি টাচ্‌ এর সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ   বেতার এর পরিচালক (সংগীত) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। লাকী আখান্দের উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে- ‘এই নীল মনিহার’, ‘আমায় ডেকো না’, ‘কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে’, ‘যেখানে সীমান্ত  তোমার’, ‘মামনিয়া, ‘বিতৃঞ্চা জীবনে আমার’, ‘কি করে বললে তুমি’ ‘লিখতে পারি না কোনও গান, ‘ভালোবেসে চলে যেও না’ প্রভৃতি। শিল্পীর সহোদর ক্ষণজন্মা হ্যাপী আখন্দের সঙ্গে ছিলো তার আত্মার সম্পর্ক। ভাইয়ের মৃত্যুর পর দীর্ঘকাল তিনি নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন। অনেক পরে আবারও গানে ফেরেন তিনি। এদিকে গুণী এই সংগীতজ্ঞ দীর্ঘ সময় ধরেই মরণব্যাধী ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। ছয় মাসের চিকিৎসা শেষে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক  থেকে ২০১৬ সালের ২৫শে মার্চ দেশে ফেরেন। সেখানে কেমোথেরাপি নেয়ার পর শারীরিক অবস্থার অনেকটা উন্নতি হয়েছিল তার। একই বছরের জুনে আবারও থেরাপির জন্য ব্যাংকক যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে আর সেখানে যাওয়া হয়ে উঠেনি। অসুস্থতার প্রথম  থেকেই লাকী আখান্দ ও তার পরিবার কোনোরকম আর্থিক সহযোগিতা গ্রহণ করতে চাননি। দেশের শীর্ষ শিল্পীদের উদ্যোগে সহযোগিতা করতে চাইলেও বিনয়ের সঙ্গে লাকী আখান্দ অনাগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে ব্যাংককে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় লাকী আখান্দের চিকিৎসার জন্য পাঁচ লাখ টাকা সহায়তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রীয় ভালোবাসা হিসেবে সেটি তিনি গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ‘শিল্পীর পাশে ফাউন্ডেশন’ থেকেও তার চিকিৎসার জন্য ৪০ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। সর্বশেষ গত ৫ই ফেব্রুয়ারি বরেণ্য এ শিল্পীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিএসএমএমইউ-এর  সেন্টার ফর প্যালিয়েটিভ কেয়ারের ভর্তি করা হয়। তিনি সেখানে অধ্যাপক নেজামুদ্দিন আহমেদের অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আড়াই মাসের চিকিৎসা শেষে গেল সপ্তাহে শরীরের অবস্থার খানিকটা উন্নতি হলে তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু গতকাল আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। আর হাসপাতালে নেয়ার পরই চিরতরে সবাইকে কাঁদিয়ে চলে যান এ কিংবদন্তি শিল্পী-সুরকার।
 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মার্কিন প্রতিনিধি দল

৭৯ দিন পর বাড়ি ফিরলেন অনিরুদ্ধ রায়

প্যারাডাইস পেপারসে মিন্টু পরিবারের নাম

ফেসবুকে বন্ধুতা, প্রেম ব্ল্যাকমেইল

মাথা ন্যাড়ার শর্তে এসএসসির ফরম পূরণ!

একজন পেশকার মুচিরাম গুড়

চীন কারো পক্ষ নেবে না

হেয়ার স্কুলের দ্বিশতবার্ষিকীতে সম্মানিত জিয়া

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের তাগিদ

নির্বাচনী ডামাডোলে নানা প্রশ্ন

কামাল হোসেন মনে করেন এটা শুভ লক্ষণ

বারী সিদ্দিকী লাইফ সাপোর্টে

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাচ্ছেন না চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এমপি গোলাম মোস্তফা আহমেদ

বিশ্ব সুন্দরীর মুকুট মানসী চিল্লার-এর

তবুও কুমিল্লার কাছে হারলো রংপুর