চিঠির অপেক্ষায় মেয়র মান্নান

দেশ বিদেশ

ইকবাল আহমদ সরকার, গাজীপুর থেকে | ২২ এপ্রিল ২০১৭, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:০৪
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে আবারো দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম এ মান্নান। মেয়র পদ থেকে তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ উচ্চ আদালতে দ্বিতীয় দফায় স্থগিত হবার পর তিনি অধির আগ্রহে প্রস্তুতি নিচ্ছেন মেয়রের দায়িত্ব পালনের। রয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের চিঠির অপেক্ষায়। যদিও মান্নানের আইনজীবীগণ বলছেন, মেয়রের দায়িত্ব পালন করতে এখন আর কোন বাধা নেই। চিঠি পেতে দেরি হলে যেকোনো দিন তিনি বসে যেতে পারেন চেয়ারে। এমন কথাই রয়েছে নগরজুড়ে।
তবে রাজশাহীর মত নাটকীয়তায় জড়াতে চান না বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিও) কে এম রাহাতুল ইসলাম আদালতের আদেশের কপিটি গত বুধবার সিটি করপোরেশনের ডাক ফাইলে জমা দেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন।
এমএ মান্নানের আইনজীবী ও গাজীপুর জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মঞ্জুর মোরশেদ প্রিন্স জানান, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও দুই বছর কারাবাসের পর চলতি বছরের ৬ই জানুয়ারি মেয়র এমএ মান্নান গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ থেকে মুক্তি লাভ করেন। পরে তিনি তার পদ ফিরে পেতে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। ওই রিটের শুনানি শেষে গত ১৩ই এপ্রিল হাইকোর্ট তার সাময়িক বহিষ্কারাদেশ তিন মাসের জন্য স্থগিতের আদেশ দেন। এর ফলে মেয়র মান্নানের দায়িত্ব পালনে আইনগত আর কোনো বাধা নেই। এমএ মান্নানের সমর্থকরা বলছেন, শুধু মেয়র হবার কারণেই গাজীপুরের বিএনপি নেতাদের মধ্যে এমএ মান্নানকে পড়তে হয়েছে শাসক দলের রোসনলে। বিএনপির জেলা ও মহানগরের শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের মধ্যে তাকেই বার বার দীর্ঘদিন জেল খাটতে হয়েছে। মারাত্মক অসুস্থতায়ও রেহাই পাননি তিনি। একের পর এক মামলা চলতেই থাকে। জেলে থেকে জামিন মঞ্জুর হবার দিনই দেখা গেছে নতুন মামলায় আদালতে চার্জশিট জমা হয়। আর আটকে যায় মঞ্জুর হওয়া জামিন। এভাবেই একের পর এক করে মোট ২৯টি মামলায় বন্দি থাকেন কারাগারে। লক্ষাধিক ভোটে মেয়র নির্বাচিত হলেও শান্তিতে মেয়রের চেয়ারে বসতে পারেননি দেড়বছরও। চার বছরের মধ্যে তাকে জেলে থাকতে হয়েছে প্রায় দু’বছর। মান্নান একাই নন, তার প্রবাসী ছেলে, ছেলের বউ, এমনকি ছেলের শাশুড়িও নাশকতার মামলায় আসামি হয়েছেন। জেলা বিএনপির আর কোনো নেতা বা তাদের পরিবারের সদস্যদের এমন নাকাল অবস্থায় পড়তে হয়নি। এসব বাস্তবতায় তার সমর্থক এবং তিনি নিজেও মেয়রের চেয়ারে বসা নিয়ে রয়েছেন নানা চিন্তায়, উৎকণ্ঠায়। আবারো গ্রেপ্তার বা নতুন মামলার ভয় পিছু ছাড়ছে না তাদের। যে কারণেই সাময়িক বরখাস্ত উচ্চ আদালতে তিন মাসের জন্য স্থগিতাদেশ হওয়ার পর এবং সেই আদেশের কপি নগর ভবনে পৌঁছার পরও তিনি হুট করে যাচ্ছেন না নগর ভবনে। বসছেন না মেয়রের চেয়ারে। এমএ মান্নানের সাময়িক বরখাস্ত স্থগিত হওয়ার পর ও নিজের দায়িত্ব পালন বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরন বলেছেন, তিনি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দায়িত্ব নিয়ে সিটি করপোরেশনের ৫টি জোনে শত শত কোটি টাকা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। যতক্ষণ না অন্য কারো বরাবরে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে আদালতের নির্দেশ কিংবা মন্ত্রণালয় থেকে তাকে নির্দেশ বা পত্র দেয়া হবে ততক্ষণ তিনি নগরবাসীকে সেবা দিতে দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘অনুপ্রবেশকারীদের ৫০০০ পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না’

‘ক্ষমতা থাকলে সরকারকে টেনে-হিচড়ে নামান’

আগামীকাল আদালতে যাবেন খালেদা জিয়া

‘তদন্তের স্বার্থেই তনুর পরিবারকে ডাকা হয়েছে’

জিম্বাবুয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন ‘কুমির মানুষ’

আশ্রয়শিবিরে সংক্রমণযুক্ত পানির বিষয়ে ইউনিসেফের সতর্কতা

চীন, উত্তর কোরিয়ার ১৩ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ

রোহিঙ্গা সঙ্কট: উচ্চ আশা নিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার বৈঠক শুরু

ঘোড়ামারা আজিজসহ ছয় জনের মৃত্যুদণ্ড

নিবিড় পর্যবেক্ষণে মহিউদ্দিন চৌধুরী

হাফ ডজন গোলে দ্বিতীয় রাউন্ডে রিয়াল মাদ্রিদ

আফ্রিকার স্বৈরাচারদের মেরুদণ্ডে শিহরণ

সাভার আর মানিকগঞ্জে মাটির নিচে পানির 'খনি'

বরুশিয়ার আশা শেষ করলো টটেনহ্যাম

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের প্রস্তাব, যা বললেন মুখপাত্র...

দুদকের মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন মেয়র সাক্কু