রফিউর রাব্বিকে গ্রেপ্তারের আলটিমেটাম

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ থেকে | ২২ এপ্রিল ২০১৭, শনিবার
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, মুক্তিযুদ্ধ এবং সংবিধানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অভিযোগে আয়োজিত সমাবেশ থেকে নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বিকে গ্রেপ্তারের দাবি উঠেছে। সমাবেশ থেকে আগামী ৭ই মে’র মধ্যে রাব্বিকে গ্রেপ্তারে প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দেয়া হয়। শুক্রবার বাদ জুমা নগরীর ডিআইটি এলাকায় নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের মুসলমান এর ব্যানারে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশ চলাকালে রফিউর রাব্বি, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও নগর ভবনের সামনে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়েন ছিল। সমাবেশ থেকে আলেম ওলামারা ‘বিসমিল্লাহ’ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় রফিউর রাব্বিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। সমাবেশে থেকে ইসলাম ধর্মের অবমাননাকারীদের কোনো রকম ছাড় দেয়া হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দেয় আলেম সমাজ। নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের মুসলমান এর ব্যানারে সমাবেশের আয়োজন হলেও এর নেপথ্যে সাংসদ শামীম ওসমানই মূল উদ্যোক্তা ছিলেন বলেন স্থানীয় নানা সূত্রে জানা গেছে। শামীম ওসমান অনুসারীদের সমাবেশ স্থলের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে। ডিআইটি মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুল আউয়ালের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। সমাবেশে তিনি বলেন, আমি এসেছি একজনের মুসলমানের পুত্র হিসেবে প্রতিবাদ জানাতে। বিসমিল্লাহকে কটূক্তি করবে সেই যে-ই হোক তার বিরুদ্ধে কেউ মাঠে না নামলেও আমি সবার আগে নামবো। আগে দেখবো প্রশাসন কি করে। তিনি বলেন, হুজুরদের সঙ্গে বসলেই কারো কারো গা জ্বলে। কাদের জ্বলে বুঝতে হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন আল্লাহওয়ালা মানুষ। আলেমদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নাস্তিকদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তারা ইসলামের বিরুদ্ধে নানা কথা বলে উস্কে দেয়ার চেষ্টা করছে। ইসলামে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, অন্যের ধর্মকে সম্মান করতে। রফিউর রাব্বি নাস্তিক হলে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা হলো রফিউর রাব্বি আমাদের ধর্ম নিয়ে কোনো কটূক্তি করতে পারবে না। আমাদের আল্লাহ, রসূল ও বিসমিল্লাহ নিয়ে কথা বলবে, আর আমি শামীম ওসমানকে যে আল্লাহ সম্মান দিয়েছে, এমপি বানিয়েছে তার প্রতিবাদ করব না এটা হতে পারে না। শুধু বিসমিল্লাহ নয়, মুসলিম হয়ে অন্য ধর্মকে সম্মান করার দায়িত্ব আমাদের রয়েছে। মসজিদ, মন্দির ও চার্চ কোনো ধর্মকে অসম্মান করা যাবে না। করলে সেখানে পাশে দাঁড়াব।  তিনি বলেন, ইসলামকে নিয়ে কটূক্তি করলে আমি শামীম ওসমান একা মাঠে নেমে যাব। সে যে-ই হোক। কিশোর ত্বকী হত্যার বিচার দাবি করে শামীম ওসমান বলেন, আমিও চাই ত্বকী হত্যার বিচার হোক। ত্বকীকে কারা কোথায় কিভাবে হত্যা করেছে তার সব জানি। সত্য প্রকাশ করলে অনেকের নাম প্রকাশ হয়ে পড়বে। কিন্তু সব কথা বলতে পারি না, কারণ আমি আওয়ামী লীগের এমপি। আমার গায়ে আওয়ামী লীগের সীল রয়েছে।
উপস্থিত আলেম সমাজকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আদালতে ৭ই মে পর্যন্ত মামলাটি তদন্তর সময় দিয়েছে। আপনারা সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। ওই সময়ের মধ্যে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নিলে আপনাদের লাগবে না, আমি শামীম ওসমানই মাঠে মানবো। রাব্বিকে শায়েস্তা করার জন্য আপনাদের প্রয়োজন নেই-আমিই যথেষ্ট। কিন্তু আমার হাত-পা বাঁধা। কারণ আমি আওয়ামী লীগ করি। আমি আওয়ামী লীগের এমপি।  
সমাবেশ বক্তব্যকালে অন্যান্য আলেমগণ অবিলম্বে রফিউর রাব্বির গ্রেপ্তার দাবি করেন। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ সংবিধান নিয়ে প্রশ্ন তোলায় রাব্বির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করারও দাবি জানান।  সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন নারায়ণঞ্জ মহানগর হেফাজতের আহ্বায়ক ও রফিউর রাব্বির বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান, মুফতি সিরাজুল ইসলাম মুনীর, মুফতি জাবির হোসাইন কাসেমী, মুফতি বশিরউল্লাহ, মাওলানা কামালউদ্দিন দায়েমী, মুফতি তৈয়ব আল হোসাইনী, মুফতি আনিস আনসারী, মাওলানা আব্দুল মতিন, জেলা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক সামিউল্লাহ মিলন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বর্তমান ডেপুটি কামান্ডার অ্যাডভোকেট নূরুল হুদা, নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আবু জাহের, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদসহ প্রমুখ। মঞ্চে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদলও উপস্থিত ছিলেন।



 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন