আজ ভিকারুননিসার গভর্নিং কমিটির নির্বাচন, ২৯শে এপ্রিল আইডিয়ালের

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ২২ এপ্রিল ২০১৭, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৯:২৭
প্রায় ৯ বছরের জট খুলে আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং কমিটির নির্বাচন। আর আগামী ২৯শে এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে আরেকটি নামি প্রতিষ্ঠান আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নির্বাচন। দুটি প্রতিষ্ঠানে এমপি, মন্ত্রীর দখল, মামলা, অ্যাডহক কমিটি, আরো নানা গ্যাঁড়াকলের কারণে প্রায় নয় বছর আটকে ছিল নির্বাচন। এ নির্বাচন ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক রাজনীতি। পোস্টার-ব্যানার আর ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে প্রতিষ্ঠানটির আশপাশের এলাকা। শেষ মুহূর্তে প্রার্থীরা ছুটছেন অভিভাবকদের কাছে।
গত বৃহস্পতিবার স্কুল দুটিতে সরজমিন দেখা গেল জাতীয় কোনো নির্বাচনের মতো পরিবেশ। নির্বাচনে জয়ী হতে প্রার্থীরা অভিভাবকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। অভিভাবকদের স্বার্থরক্ষার নানা প্রতিশ্রতি দিচ্ছেন। বহু বছর পর নির্বাচন হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের ঢেউ লেগেছে। তবে আইডিয়ালের দুই স্তরের নির্বাচনে প্রার্থীদের জোর করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানান, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির নির্বাচন আজ সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের চার শাখায় একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। চারটি শাখায় ভোটার সংখ্যা প্রায় ২৩ হাজার। এর মধ্যে বেইলি রোডের প্রধান শাখায় ভোটার প্রায় ১৩ হাজার, বসুন্ধরা শাখায় সাড়ে পাঁচ হাজার, ধানমন্ডি শাখায় এক হাজার সাত শত ও আজিমপুর শাখায় প্রায় দুই হাজার ৮০০। অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন ৬ জন। তাদের মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্তরে দুজন করে, প্রাথমিক স্তরে একজন সাধারণ ও একজন সংরক্ষিত নারী অভিভাবক সদস্য অভিভাবকদের ভোটে নির্বাচিত হবেন। তিনজন শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। এর মধ্যে কলেজ ও বিদ্যালয় স্তরে একজন করে এবং একজন সংরক্ষিত নারী সদস্য। নয়টি পদে ৪২ জন লড়াই করছেন। অধ্যক্ষ পদাধিকার বলে গভর্নিং বডির সদস্য সচিব মনোনীত হবে। আরেকজন বিদ্যোৎসাহী সরকার কর্তৃক মনোনীত হবেন। এরপরে ১১ জনের  ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হবেন। নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত শিক্ষা অফিসার আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন। গত বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায় চারদিকে বাহারি ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারে ছেয়ে গেছে। অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ নানা দিক তুলে ধরে ভোট চাইছেন। প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য রক্ষাসহ অভিভাবকদের স্বার্থরক্ষার জন্য নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। নির্বাচিত হলে শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধেরও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন অনেকে। একাধিক অভিভাবক জানিয়েছেন, তারা প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত তথ্য সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। বিগত দিনে বাড়তি টিউশন ফি বন্ধে অভিভাবকদের সঙ্গে থেকে আন্দোলন করেছেন, তাদেরই তারা বেছে নেবেন। প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুফিয়া খাতুন বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে দিনরাত পরিশ্রম করছি। নির্বাচনের সকল প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন শুধু ভোট গ্রহণের অপেক্ষা।
এদিকে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে আগামী ২৯শে এপ্রিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক স্তরের অভিভাবক প্রতিনিধি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জাহিদুল ইসলাম টিপু নির্বাচিত হয়েছেন। আর দাতা সদস্য হিসবে ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আশ্রাফ তালুকদার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। মাধ্যমিক স্তরের ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন জাহিদুল ইসলাম টিপু, সোহেল আহমেদ সিদ্দিকী, ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রব মিয়া, মোহাম্মদ আলী, মো. সজল মিয়া, মো. আছমত আলী, মো. সাইফুল্লাহ। কলেজ স্তরে আহসান উল্লাহ মানিক ও ইউসুফ আলী এবং প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সংরক্ষিত নারী অভিভাবক পদে নার্গিস আক্তার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এ প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৪ হাজার ভোটার রয়েছে। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিটি ক্যাম্পাসে আলাদা নির্বাচন হলেও আইডিয়ালে সব শাখার একত্রে ভোট হবে। প্রতিষ্ঠানটির অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতারা কাউকে কাউকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন। তারপরও যারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন তাদের প্রত্যাহার করতে বাধ্য করেছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বলেন, নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি কমিটি কাজ করছে। তারা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। অভিভাবকদের নির্বাচনে অংশ নেয়া না নেয়া তাদের বিষয়। এ নিয়ে কোনো অভিভাবক আমার কাছে অভিযোগ করেনি। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে যা যা করা দরকার তাই করা হবে। গত নয় বছর ধরে এ দুটি প্রতিষ্ঠান অ্যাডহক কমিটি দিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে। সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। আগেও যখন নির্বাচন হতো তখন সংসদ সদস্যরাই সভাপতি হতেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশে এখন থেকে কোনো সংসদ সদস্য প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হতে পারবেন না। যে কারণে এবারের নির্বাচন অভিভাবকদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘অনুপ্রবেশকারীদের ৫০০০ পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না’

‘ক্ষমতা থাকলে সরকারকে টেনে-হিচড়ে নামান’

আগামীকাল আদালতে যাবেন খালেদা জিয়া

‘তদন্তের স্বার্থেই তনুর পরিবারকে ডাকা হয়েছে’

জিম্বাবুয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন ‘কুমির মানুষ’

আশ্রয়শিবিরে সংক্রমণযুক্ত পানির বিষয়ে ইউনিসেফের সতর্কতা

চীন, উত্তর কোরিয়ার ১৩ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ

রোহিঙ্গা সঙ্কট: উচ্চ আশা নিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার বৈঠক শুরু

ঘোড়ামারা আজিজসহ ছয় জনের মৃত্যুদণ্ড

নিবিড় পর্যবেক্ষণে মহিউদ্দিন চৌধুরী

হাফ ডজন গোলে দ্বিতীয় রাউন্ডে রিয়াল মাদ্রিদ

আফ্রিকার স্বৈরাচারদের মেরুদণ্ডে শিহরণ

সাভার আর মানিকগঞ্জে মাটির নিচে পানির 'খনি'

বরুশিয়ার আশা শেষ করলো টটেনহ্যাম

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের প্রস্তাব, যা বললেন মুখপাত্র...

দুদকের মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন মেয়র সাক্কু