‘মন্ত্রী চুড়ি পরে বসে থাকবে না’

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে | ২২ এপ্রিল ২০১৭, শনিবার
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী সায়েদুল হক রোববার বিজয়নগরে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন- আপনি (মোকতাদির চৌধুরী) বাধা দেবেন আর মন্ত্রীরা হাতে চুড়ি পরে বসে থাকবে না। আমি শুনলাম রোববার নাকি হরতাল দেয়া হয়েছে। তার বুঝা উচিত আমি ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোনো কাজে সেখানে যাচ্ছি না। মানুষকে সেবা দেয়ার জন্য সরকার নির্মিত বিল্ডিং উদ্বোধন করতে যাচ্ছি। মন্ত্রী বলেন- আপনার সমস্ত শক্তি নিয়ে নামেন, দেখি কই যান। তিনি জেলার পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ্য করে বলেন ওইদিন বিজয়নগরে আপনার সকল ফোর্স মোতায়েন করেন।
দেখি রবি সাহেব (মোকতাদির চৌধুরী) আর তার হরতাল কোথায় যায়। মন্ত্রী সায়েদুল হকের বিজয়নগর সফরের প্রতিবাদে ওইদিন সকাল-সন্ধ্যা বিজয়নগরে হরতাল আহ্বান করে উপজেলা আওয়ামী লীগ। বৃহস্পতিবার বিকালে এই হরতাল ঘোষণার পর সায়েদুল হক আশুগঞ্জে রাতে এক সুধী সমাবেশে এ নিয়ে কথা বলেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীকে বাদ দিয়ে মন্ত্রী ওই উপজেলায় সফর কর্মসূচি দিলে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার সকালে বিজয়নগর উপজেলা পরিষদে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই উপজেলায় মন্ত্রীর সফর স্থগিত করার দাবি জানায়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট তানভীর ভূঁইয়া। এ সময় ২ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, ১০ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এরপর বিকালে বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক ভূঁইয়া হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি জানান- অর্বাচীন মন্ত্রীর অপকর্মের প্রতিবাদে বিজয়নগর আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এই হরতাল আহ্বান করেছে। রোববার রাতে আশুগঞ্জের সুধী সমাবেশে সায়েদুল হক সদর সংসদ সদস্য মোকতাদির চৌধুরীর আরো সমালোচনা করেন। তিনি নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি ও মন্দির ভাঙ্গার জন্য  মোকতাদির চৌধুরীকে দায়ী করেন। বলেন আপনি এ ঘটনার জন্য দেশ ও পৃথিবীর মানুষের কাছে দুষ্কৃতকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। আপনি ক্ষমতার দাপট দেখান। আমি আপনাকে নাসিরনগর সফরের দাওয়াত দিচ্ছি। আমার অবর্তমানে আপনি নাসিরনগর সফর করেন, দেখি আপনার অবস্থা কি দাঁড়ায়। আশুগঞ্জ শ্রমকল্যাণ  কেন্দ্রের মাঠে এই সুধী সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল আলম এমএসসি, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আমানুল হক সেন্টু, সিনিয়র সহ-সভাপতি সাবেক মেয়র হেলাল উদ্দিন, সহ-সভাপতি তাজ মো. ইয়াছিন, সাবেক ছাত্রনেতা কামরুজ্জামান আনসারী, শাহজাহান আলম সাজু, আশুগঞ্জ আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হানিফ মুন্সি। সায়েদুল হকের আশুগঞ্জ সফর নিয়েও ছিল উত্তেজনা। সুধী সমাবেশ চলাকালে কালো পতাকা মিছিল করে আশুগঞ্জ আওয়ামী লীগ। হালে বিভক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগ। একটি গ্রুপ মন্ত্রী সায়েদুল হকের আনুকূল্য পাচ্ছে।
এই গ্রুপের নেতাদের প্রাধান্য দিয়েই সায়েদুল হক ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এখন তার সাম্প্রতিক সফর সাজাচ্ছেন। আর এতেই দেখা দিচ্ছে উত্তেজনা। মন্ত্রী সায়েদুল হকের সঙ্গে সদর সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর বিরোধও পুরনো।


 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘অভিযোগ কাল্পনিক ও বানোয়াট’

মইনকে আশ্বস্ত করেছিলেন প্রণব

ব্লু হোয়েল গেম জায়েজ নয়

শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন চায় জেপি

রোহিঙ্গাদের দেখতে আসছেন জর্ডানের রানী

পেপ্যাল ‘জুম’ সার্ভিস বাংলাদেশে

হাওরে সরকারি প্রকল্পে লুটপাট হয়েছে

প্রার্থী নিয়ে নির্ভার আওয়ামী লীগ-বিএনপি

গণমাধ্যম-সশস্ত্র বাহিনীর সম্পর্ক নিয়ে সেমিনার

সিলেটে ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত, সেক্রেটারিসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

খালেদা জিয়ার পুরো জবানবন্দি

বরিশালে বিচারকের ভূমিকায় বেঞ্চ সহকারী, তোলপাড়

গাজীপুরে প্রাক্তন তিন সেনা সদস্যসহ ৪জন গ্রেপ্তার

খান আতা ইস্যুতে এফডিসিতে চলচ্চিত্র পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

আদালত অঙ্গনে খালেদার আইনজীবীদের হাতাহাতি

বন্যায় ৩০ শতাংশ ধান উৎপাদন কম হতে পারে