কমতে শুরু করেছে হাকালুকির পানির দূষণ

বাংলারজমিন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি | ২২ এপ্রিল ২০১৭, শনিবার
মৌলভীবাজারের হাওর হাকালুকিতে মাছ এখন আর মরছে না। পানির কোয়ালিটির উন্নতি হয়েছে। ২/১ দিনের মধ্যে মাছ ধরার অনুমতি দেয়া হবে। চুন ছিটানো এবং বৃষ্টির কারণে পানি স্বাভাবিক পর্যায় এসেছে বলে দাবি করেছে মৌলভীবাজার জেলা মৎস্য অফিস। এ দিকে বৃহস্পতিবার মৎস্য বিভাগের বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল হাওর এলাকা পরিদর্শন ও পানি পরীক্ষা করেছেন। সম্প্রতি অতি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন হাওরের প্রায় সাড়ে সতের হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়। কুলাউড়া, বড়লেখা ও জুড়ি উপজেলা নিয়ে সবচেয়ে বড় হাওর হাকালুকি হাওর। কাঁচা এবং আধাপাকা বোরো ধানের বেশি ক্ষতি হয় এই হাওরের। এই ধান  পচে ব্যাপক পানি দোষণের সৃষ্টি হয। এর প্রেক্ষিতে গত ১৫ এপ্রিল থেকে হাওরের মাছ মরে ভেসে উঠতে থাকে। জেলা মৎস্য অফিস জানায় এই সময় পানির পিএইচ (ক্ষারীয় বা অম্লীয়) মাত্রায় তারতম্য দেখা দেয়। যেখানে এই পিএইচ (ঢ়ঐ-ঢ়ড়ঃবহঃরধষ যুফৎড়মবহ) এর মাত্রা সাধারণত ৭.০ থাকলে পানির স্বাভাবিক অবস্থা ধরা হয়। এই মাত্রা ৭ এর নিচে গেলে এসিড এবং উপরে গেলে ক্ষার হয়। জানা গেছে এই সময় পিএইচ ৪.৫ এ নেমে আসে। এতে এসিড বেড়ে যায় এবং অক্সিজেন কমে আসে। এই ঘটনা জানার পর জেলা মৎস্য বিভাগ গত ১৭ এপ্রিল থেকে হাওর হাকালুকিতে মাছ ধরা বন্ধ রাখার জন্য মাইকিং করে এবং উদ্যোগ নেয়। সঙ্গে সঙ্গে তিন উপজেলার হাওর এলাকায় চুন ছিটানোর উদ্যোগ নেয়। এ দিকে হাওরের এই অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং পানি পরীক্ষার জন্য গত বৃহস্পতিবার মৎস্য বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল হাকালুকি পরিদর্শন করেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সৈয়দ মেহদি হাসান,মৎস্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: রমজান আলী, মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাসুদ খান এবং মৌলভীবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আ ক ম শফিক-উজ-জামান। গতকাল দুপুরে কুলাউড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ মুঠোফোনে জানিয়েছেন  চুনছিটানো এবং বৃষ্টির পর এখন হাকালুকি হাওরের পানির কোয়ালিটি ভালো হয়েছে। ২/১ দিনের মধ্যে হাওরে মাছ ধরার অনুমতি দেয়া হবে।  মৌলভীবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আ ক ম শফিক-উজ-জামান গতকাল মানবজমিনকে জানান এখন হাওর হাকালুকির পানির মান ভালো হয়েছে। মাছ  আর মরছে না। বিশেষজ্ঞরাও দেখে গেছেন। তারাও বলেছেন ভাল। অক্সিজেন বেড়ে হয়েছে ৫.৮ পিপিএম। অ্যামোনিয়া ০.২ পিপিএম এবং পিএইচ (পটেনশিয়াল হাইড্রোজেন) ৭.০ অর্থাৎ স্বাভাবিক বলা যায়।


 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন