কেন্দুয়ায় পানির নিচে কয়েক হাজার একর জমির ফসল

বাংলারজমিন

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি | ২২ এপ্রিল ২০১৭, শনিবার
 নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় জালিয়া হাওরের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর উজানের ঢলের পানিতে উপজেলার সবক’টি হাওর, বিলসহ নিচু এলাকায় বন্যা ব্যাপক আকার ধারণ করে সীমাহীন ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। হাওড় ও বিলগুলো প্লাবিত হয়ে হাজার হাজার একর  বোরো পাকা ধান তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় শত কোটি টাকার ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার বন্যা কবলিত হাওর ও বিল ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার পৌরসভাসহ ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের মাছুয়াইল বিল, মাসকা ইউনিয়নের ধাড়াইল, পাইকুড়া ইউনিয়নের বাড়লা হাওর, চিরাং ইউনিয়নের কালিয়ান বিলসহ, মোজাফ্‌ফরপুর, বলাইশিমুল, নওপাড়া, কান্দিউড়া ও সান্দিকোনা ইউনিয়নের সবক’টি হাওড় ও বিলের বোরো ফসল ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। প্লাবিত হওয়া হাওড় এবং বিলগুলোর পানি নিষ্কাশনে সুব্যবস্থা না থাকায় ঢলের পানিতেই বন্যা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। কৃষকদের কোমর ও বুক পানিতে পাকা ধান কাটতে দেখা গেছে। এই শীতল পানিতে বেশি সময় ধান কাটতে পারেন না বলে জানান কৃষকরা।
এদিকে প্রশাসন মোজাফফরপুর ও কান্দিউড়া ইউনিয়ন ছাড়া অন্য এলাকার দিকে নজর একেবারেই কম জানান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের কৈলাটি গ্রামে কৃষক ইসলাম উদ্দিন জানান, মাছুয়াইল বিলে কখনো ভাটি এলাকার বন্যার পানি না ঢুকলেও সামান্য বৃষ্টিতে প্রতি বছরই এ বিলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে অকালে বন্যা হয়। এ বছর তিনি বি-২৮,হাইব্রিডসহ দেশীয় জাতের প্রায় আড়াই একর জমিতে ধান রোপণ করেছিলেন। এক/দুই দিনের মধ্যে ধান কাটা শুরু করতেন। এর মধ্যে উজানের ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে সব। তিনি আরো জানান, এই বিলে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ ও গৌরীপুর উপজেলার বেশির ভাগ পানি কয়েকটি খাল দিয়ে এ বিলে নির্গত হয় কিন্তু পানি নিষ্কাশনের জন্য রয়েছে একটি মাত্র খাল। এই খালটিতে পলি জমে বিলের চেয়ে উচুঁ হওয়ায় বিলে বন্যার আকার সৃষ্টি না হলে এই খাল দিয়ে পানি চলে যায় না। এছাড়া অন্য এলাকার হাওর ও বিল এলাকার কৃষকদের একই বক্তব্য পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা থাকলে আজ তারা এই ক্ষতির সম্মুখীন হতেন না। এদিকে নিচু এলাকার ফসল রক্ষা করতে খালে বাঁধ দিয়ে স্যালোমেশিন দিয়ে বিল থেকে পানি সরানো প্রাণপণ চেষ্টাও চালাচ্ছেন কৃষকরা। গত সোমবার রাতে জালিয়া ও সুনই হাওরে বাঁধ ভেঙে উপজেলার প্রায় সাড়ে ৩ হাজার একর জমির বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ায় ১১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার ক্ষতি সাধিত হওয়ার কথা জানিয়েছিল উপজেলা কৃষি অফিস । বর্তমানে ক্ষতির পরিমাণ কয়েকগুণ হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে বন্যাদুর্গত এলাকা দুইদিন আগে পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ড, মুশফিকুর রহমান। উপজেলা কৃষি অফিসার হাসান ইমাম জানান, গত সোমবার পর্যন্ত সরকারি হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। কিন্তু অব্যাহত বন্যায় গত দু’দিনে ক্ষতির পরিমাণ আরো অনেক বেড়ে যাবে।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন