সুন্দরবনে নিষিদ্ধ ডুবো জালে চলছে মৎস্য নিধন

বাংলারজমিন

দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি | ২২ এপ্রিল ২০১৭, শনিবার
সুন্দরবন পূর্ব ও পশ্চিম বিভাগের অধীনে চাঁদপাই, নলিয়ান রেঞ্জের আওতায় বন বিভাগের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় চলছে মৎস্য সম্পদ নিধনের মহোৎসব। এক দিকে জেলেদের জিম্মি করে  আদায় করা হচ্ছে অর্থ, অন্য দিকে অর্থের বিনিময়ে অবৈধ ডুবো জাল নিষিদ্ধ খালে ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে মাছের প্রজনন ব্যবস্থা ধ্বংস করা হচ্ছে। সমুদ্রের যে সকল শাখা নদী বা খাল সুন্দরবনের মধ্যে মাছের প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত সেখানে মাছ ধরা সরকারিভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ কিন্তু সরকারি ঐ আদেশ বাস্তবায়নে যাদের ওপর দায়িত্ব সেই বন রক্ষীরা নিজেরাই অবৈধ অর্থের লোভে দেশের মৎস্য সম্পদ ধ্বংসে জেলেদের প্রত্যক্ষ ভাবে সহায়তা করছেন এমন অভিযোগ উপকূলবাসীর। নলিয়ান রেঞ্জ অফিসের আওতায় কালাবগী, বানীয়াখালী স্টেশন, আদাচাকী চাঁদপাই রেঞ্জের অধীনে জোংরা টহলফাঁড়ির বন রক্ষীদের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময় নিষিদ্ধ ডুবো জাল ব্যবহারে জেলেদের সহায়তার অভিযোগ উঠেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তারা গতানুগতিক তাদের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ  অস্বীকার করেন। কালাবগী স্টেশনের ঠিক বিপরীত পাড়ে নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে ডিপো পল্লী যে খানে ছোট বড় মিলিয়ে ১৮-২০টি মাছের ডিপো স্থানীয় এবং বহিরাগত দাদুনে জেলেদের মাধ্যমে সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার অব্যাহত রেখেছে।
সূত্রে জানা যায়, জোংরা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রউফ তিনি তার স্টাফদের সমন্বয় মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র ভদ্রা নদীর পার্শ্ববর্তী খাল ঝাপসি খালের পার্শ্ববর্তী ছোট ছোট খালগুলো ডিপো মালিকদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের ২৫-৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছেন এবং প্রতি গোনে জেলে প্রতি ৫-৭ হাজার টাকা টোল আদায় করেন। সেখানে ঐ ব্যবসায়ীরা ছাড়া অন্য কোনো ব্যবসায়ীরা স্থান পাই না। কালাবগী স্টেশনের সুচতুর কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ ডুবো জাল নামের জাল নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও নৌকা প্রতি গোনে পারমিট ছাড়া দেড় থেকে দুই হাজার টাকা টোল আদায় করে মাছ ধরার সুযোগ করে দিচ্ছেন। এভাবেই চলছে মৎস্য নিধন রমরমা ব্যবসা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলেরা জানায়, সাধারনত যে কোনো খালে নিষিদ্ধ ডুবো জাল ব্যবহারে গোনে জাল প্রতি ৬-৭শ’ টাকা হারে উৎকোচ দিতে হয়। কিন্তু মাছের প্রজনন খাল হিসাবে প্রবেশ নিষিদ্ধ হাড্ডোরা, ঝাপসি, জোংরামনোষা খাল, কড়ামারা, ছোট হলদিয়া, বড় হলদিয়া, ঝনঝনিয়া, শিবসা নদীর গড়ারচর, সাহেব খালী, চাউলাবগী খাল, এ সকল এলাকায় মাছের প্রজনন খাল হিসাবে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। অথচ কালাবগী ফরেস্ট স্টেশন অফিস থেকে পারমিট গ্রহণ করে ক্রয়কৃত খালগুলোতে মৎস্য নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করেই চলেছে। নিষিদ্ধ ঐ সকল খালের দখল পেতে জেলেদের মধ্যে চলছে তীব্র প্রতিযোগিতা। এ ব্যাপারে বন কর্মকর্তা আবদুর রউফ তার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হলে সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি। স্টেশন কর্মকর্তা কালাবগীর সঙ্গে সংযোগ নেয়ার চেষ্টা করা হলে তিনিও সকল বিষয়গুলো অস্বীকার করেন। এভাবে বিষ প্রয়োগ ও নিষিদ্ধ ডুবো জাল দ্বারা মাছ ধরার সুযোগ করে দিচ্ছে অসাধু বন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এভাবে ধ্বংস হচ্ছে বাংলার মৎস্য সম্পদ।


 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন