সেনবাগে বেহাল সড়ক, ভোগান্তি

বাংলারজমিন

এম এ আউয়াল, সেনবাগ (নোয়াখালী) থেকে | ২২ এপ্রিল ২০১৭, শনিবার
সেনবাগ উপজেলার একমাত্র প্রধান সড়ক সওজ বিভাগের সোনাইমুড়ী-সেনবাগ-চন্দেরহাট ২৪ কি.মি. রাস্তা চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তাটি বিগত সরকারের আমলে ২০০৪ সালে ১৮ ফুটে উন্নীত হওয়ার পর থেকে দীর্ঘ ১৩ বছরে ও সংস্কার না করায় প্রায় ৩ হাজার স্পটে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে বাস, ট্রাক, সিএনজি চালিত অটোরিকশাসহ সকল ধরনের যানবাহন ও যাত্রীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। এ সড়কে বিভিন্ন ধরনের কয়েকশ’ যানবাহন ও পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। পুরো রাস্তা ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় প্রতিনিয়ত রিকশা, অটোরিকশা, সিএনজিসহ সকল ধরনের যানবাহনের ক্ষতি হচ্ছে।
সেনবাগের ছাতারপাইয়া, কানকিরহাট, গাজীরহাটমোড়, সাতবাড়ীয়া, সেনবাগ পৌরশহর, রাস্তারমাথা, কল্যান্দী, মিয়ারহাট, ফকিরহাট ও চন্দেরহাট পর্যন্ত রাস্তাটির করুণ দশা। ভুক্তভোগীরা বলছেন এটি একটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এখানে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন নেই, তাই কোনো জবাবদিহিতাও নেই। দীর্ঘ ১৩ বছরেও সড়কটি মেরামত না হওয়ায় চলতি বর্ষায় এটি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদে গত বছর রাস্তাটিতে ৪০ লাখ টাকা মেরামতের অর্থ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা  দায়সারােেগাচের কাজ করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা যদি তদারকি করতো তাহলে ৬ মাসের ব্যবধানে রাস্তা বেহাল হতো না। মেরামতের সময় কাজটি শিডিউল মোতাবেক করার জন্য এলাকাবাসী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ করলে তারা দাম্ভিকতার সঙ্গে বলতো অমুক ভাইয়ের কাজ তমুক ভাইয়ের কাজ বলে দোহাই দিত। বাড়াবাড়ি করলে সমস্যা আছে বলতো । মেরামতের সময় সড়ক বিভাগের কোনো কর্মকর্তা বা সহকারী প্রকৌশলীদের তদারকি ছিল না চোখে পড়ার মতো।
মাঝে মধ্যে সড়ক বিভাগের একটি পিকাপভ্যান হালকা তেলে কনা ভিজিয়ে কিছু কিছু গর্তে সংস্কার করে সরকারি অর্থ অপচয় করেছে। বর্ষা আসার আগে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি মেরামতের জন্য স্থানীয় এমপিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনেকেই যোগাযোগ করেছেন। ছাতারপাইয়া থেকে চন্দের হাট পর্যন্ত সড়কটির পাশে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, মসজিদ, হাসপাতাল, বাজার, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, থানাসহ প্রায় অর্ধশতাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বিধিবাম কারোরই  ভ্রূক্ষেপ নেই। রাস্তাটির করুণদশায় সকলেই বিরক্ত।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে। সমপ্রতি জিলা স্কুল ময়দানে মন্ত্রীকে দেয়া সংবর্ধনা সভায় তিনি রাস্তাটি একনেকে পাস হয়েছে বলে এটির গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তা আজও হয়নি।
সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুর রহমান বৃহস্পতিবার দুপুরে মানবজমিনকে বলেন, সোনাইমুড়ী থেকে গাজীরহাট পর্যন্ত ১৪ কি. মি. রাস্তা দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। অর্থ প্রাপ্তির পর বাকি ১০ কি. মি. রাস্তা সংস্কার হবে।
সড়ক ও সেতুমন্ত্রীর পিআরও আবু নাছের টিপুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, সড়কটি ১৮ ফুট থেকে বৃদ্ধি করে ২৪ ফুটে উন্নীত করা হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোরশেদ আলম মানবজমিনকে বলেন, ১৪ কি. মি. রাস্তায় ৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকার দরপত্র হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি রাস্তাটির মেরামত কাজ সম্পন্ন হবে।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন