ভবন পৌরসভার জায়গায় অনুমোদন নেই হাসপাতালেরও

বাংলারজমিন

জাবেদ রহিম বিজন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে | ২২ এপ্রিল ২০১৭, শনিবার
পৌরসভার জায়গা দখল করে বহুতল ভবন বানানোর অভিযোগ এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। এরমধ্যেই ওই বিল্ডিংয়ে চালু করা হয়েছে হাসপাতাল। হাসপাতালেরও নেই কোনো অনুমোদন। অভিযোগ কোনো  ক্ষেত্রেই আইন-কানুনের তোয়াক্কা করছেন না ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খ্রিষ্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালের মালিক ডাক্তার ডিউক চৌধুরী। ফেব্রুয়ারির শুরুতে শহরের মুন্সেফপাড়ায় নির্মিত ওই ভবনে ডাক্তার ডিউক তার হাসপাতাল চালু করেন। গত ৩ মাস ধরে সেখানে অবৈধ ভাবে হাসপাতালটি চললেও নীরব সিভিল সার্জন অফিস।
অথচ হাসপাতালটি অবৈধভাবে চালুর পর এলাকার লোকজন সিভিল সার্জন অফিসে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। সিভিল সার্জন অফিস নিশ্চিত করেছে তাদের অনুমোদন ছাড়াই মুন্সেফপাড়ায় হাসপাতাল চালু করেছেন ডাক্তার ডিউক। সিভিল সার্জন অফিসের রেকর্ড অনুসারে তার হাসপাতাল এখনো বণিকপাড়ায়। সিভিল সার্জন অফিস জানিয়েছে, আবেদন পেলে তারা সরজমিন পরিদর্শন করে সব শর্ত পূরণ হয়েছে কিনা তা দেখে হাসপাতাল চালুর অনুমোদন দিতেন। এব্যাপারে ডাক্তার ডিউক চৌধুরী বলেন, আমি বাইরে থেকে আসিনি। ১৫ বছর ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেই আছি। অনুমোদনের সব কাজ হচ্ছে জানিয়ে বলেন, জায়গার সমস্যা সমাধান হলে সবই করবো। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন নিশীথ নন্দী মজুমদার বলেন, অনুমোদন  নিয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই। তাছাড়া, আমি কোনো অভিযোগও পাইনি। অবৈধভাবে কোনো হাসপাতাল চললে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে যে নতুন ভবনে হাসপাতালটি স্থানান্তর করা হয়েছে  সেটি পৌরসভার জায়গা দখল করে নির্মিত হয়েছে বলে দাবি করছে পৌরসভা। জায়গার মালিকানা নির্ধারণে দফায় দফায় মাপজোক চলছে গত ক’মাস ধরে। পৌরসভা দখলকৃত জায়গা মুক্ত করতে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিলেও ডাক্তার ডিউকের বারবার মাপজোকের আবেদনের কারণে জায়গা দখলমুক্ত করতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানান পৌরসভার মেয়র নায়ার কবির। তিনি বলেন, ডাক্তার ডিউক পৌরসভার জায়গা দখল করে রেখেছে- এটাই সত্যি। জায়গা দখলের বিষয়ে এবছরের জানুয়ারি মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন শহরের মুন্সেফপাড়া-বাগানবাড়ি এলাকাবাসী। এতে পৌরসভার পুকুর দখল ও নকশা বহির্ভূতভাবে করা বিল্ডিংটির অবৈধ অংশ অপসারণের দাবি জানানো হয়। পৌর কর্মকর্তারা জানান, শহরের বাগানবাড়ি এলাকায় ১৩.২৩ শতক ভূমি (পশ্চিম পাইকপাড়া মৌজার সাবেক এসএ ১২২ দাগের আন্দরে অবস্থিত) ক্রয় করেন খ্রিষ্টান মিশনারী হাসপাতালের চিকিৎসক ডিউক চৌধুরী ও তার স্ত্রী ডাক্তার এনজেলা চৌধুরী। সেখানে বেইসমেন্টসহ ১০ তলা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণে একটি প্রস্তাবিত নকশা অনুমোদনের জন্য পৌরসভায় জমা দেন তারা। পৌরসভা ইমারত নির্মাণ নির্দেশিকা অনুসারে ডাক্তার দম্পতি কর্তৃক দাখিলা নকশা ও লেআউট প্ল্যান সংশোধিত আকারে অর্থাৎ উত্তরে ১.৯৬ মিটার, দক্ষিণে ১.৫২ মিটার, পূর্বে ২.৩৪ মিটার ও পশ্চিমে ৫.৫৭ মিটার করে ভূমি খালি রেখে নির্মাণ কাজ করার অনুমতি দেয়া হয়। কিন্তু অনুমোদিত নকশা বহির্ভূতভাবে ডাক্তার ডিউক ভবন নির্মাণকাজ শুরু করলে পৌর কর্তৃপক্ষ তাকে নোটিশ দিয়ে কাজ বন্ধ রাখতে বলে। ২০১৫ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি তাকে প্রথম নোটিশ করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে ওই বছরের ৬ই ডিসেম্বর, ২০১৬ সালের ৪ঠা আগস্ট, ১০ই আগস্ট ও ২১শে আগস্ট মোট ৫ দফা নোটিশ প্রদান করা হয়। সর্বশেষ ৩১শে আগস্ট চূড়ান্ত নোটিশ করে পৌরসভা। ওই নোটিশে বলা হয়, বারবার নোটিশের পরও পৌরসভার নির্দেশ অমান্য করে আপনি (ডাক্তার ডিউক) জোরপূর্বক নির্মাণকাজ করছেন এবং পৌরসভার মালিকানাধীন পুকুরের ভূমি জবরদখল করে রেখেছেন। এই নোটিশেও কর্ণপাত করেননি ডাক্তার ডিউক দম্পতি। এরপর গত ১০ই অক্টোবর প্ল্যান বহির্ভূত ও পৌরসভার জায়গায় করা ওই বিল্ডিংটির অবৈধ অংশ ভাঙার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে চিঠি দেয় পৌরসভা। এরপর ডাক্তার ডিউক মাপজোকের সময় চান। গত ক’মাস ধরে দফায় দফায় চলছে মাপজোক।
 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন