বৃটেনের আগাম নির্বাচন

নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু লেবার দলের জরিপে এগিয়ে কনজারভেটিভরা

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ২১ এপ্রিল ২০১৭, শুক্রবার
বৃটেনের বিরোধীদলীয় নেতা জেরেমি করবিন প্রথম বড় আকারে তার নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেয়ায় মাঠে নেমে পড়েছেন করবিন। জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, করবিনের দল লেবার পার্টির তেরেসা মে’র কনজারভেটিভ পার্টির তুলনায় অর্ধেক আসন পেয়ে ভরাডুবি হবে। কিন্তু করবিন তা মানতে রাজি নন। নিজের প্রথম নির্বাচনী সমাবেশে তিনি কড়া সমালোচনা করেছেন ‘রাজনৈতিক ক্ষমতাবলয়ে’র (পলিটিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট)। দাবি করেছেন, ‘আরও বেশি ন্যায়সঙ্গত ও শালীন সমাজ’ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলেই অবধারিতভাবে তোপের মুখে পড়তে হয়। প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ‘একপেশে সিস্টেম’ পাল্টানোর। বলেছেন, নির্বাচনের ফল নির্ধারিত হয়ে গেছে এমনটা ভাবার সুযোগ নেই। ‘এস্টাবলিশমেন্ট-এর বিশেষজ্ঞ’দের অনুমান ভুল প্রমাণিত করার ক্ষমতা লেবার পার্টির আছে। এ খবর দিয়েছে ইন্ডিপেনডেন্ট ও বিবিসি।
ইন্ডিপেনডেন্টের খবরে বলা হয়, মধ্য লন্ডনের এই সমাবেশে বেশ আবেগী বক্তৃতার মাধ্যমে নিজের নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু করেছেন লেবার নেতা। তিনি তার সমালোচক ও গণমাধ্যমকে সতর্ক করে বলেছেন, তার জয় পাওয়ার সম্ভাবনা এখনই তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়া উচিত হবে না। কারণ, ২০১৫ সালে লেবার নেতৃত্ব নির্বাচনের সময়ও সব হিসাবনিকাশ পাল্টেই তিনি নেতা নির্বাচিত হন।
সামপ্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে তার দল শাসক দলের চেয়ে ২০ পয়েন্টে পিছিয়ে, হারাতে পারে কয়েক ডজন আসন। এ প্রসঙ্গ তুলে সাংবাদিকরা তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে করবিন বলেন, ২০১৫ সালে বলা হয়েছিল আমার জয়ের সম্ভাবনা ০.০০৫ শতাংশ। কিন্তু আমি জিতেছি।
নিজের বক্তৃতায় করবিন নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময় এস্টাবলিশমেন্টের বেঁধে দেয়া নিয়মে খেলবেন না বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ক্ষমতায় গেলে তার সরকারও ওই নিয়মে চলবে না। তিনি বলেন, তার দল অভিজাতদের নয়, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের স্বার্থই আগে আনবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে আকস্মিকভাবেই আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন। ২০২০ সাল পর্যন্ত বর্তমান সরকারের মেয়াদ থাকলেও, তিনি বলেছেন, নতুন নির্বাচনে তার দল ক্ষমতায় এলে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বৃটেনের প্রস্থানের (ব্রেক্সিট) বিষয়ে দরকষাকষিতে তার সরকারের হাত শক্তিশালী থাকবে।
বেশ সুবিধাজনক সময়েই আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন মে। ইয়োগভ/টাইমস-এর যৌথ জনমত জরিপে দেখা গেছে, তেরেসা মে’র দলের সমর্থন ৪৮ শতাংশের ঘরে। লেবারের সমর্থন মাত্র ২৪ শতাংশ। লিবারেল ডেমোক্রেটরা ১২ ও ইউকিপ ৭ শতাংশ সমর্থন পেয়েছে। গত নয় বছরে এটি কনজারভেটিভ দলের সবচেয়ে ভালো ফল। ১৭২৭ জনের ওই জরিপে প্রধানমন্ত্রী পদে তেরেসা মে’র প্রতি সমর্থন তার দলের চেয়েও বেশি। ৫৪ শতাংশ তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দিয়েছেন। মাত্র ১৫ শতাংশ সমর্থন রয়েছে করবিনের।
নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে দু’পক্ষ একে অপরকে আক্রমণ করা শুরু করেছে। সরকারি দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চায়। তেরেসা মেও বিরোধী দলগুলোর ‘বিশৃঙ্খল জোট’ গঠনের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিরোধী দলগুলো জোট গঠন করে সরকারে গেলে ব্রেক্সিট আলোচনায় বৃটেনের অবস্থান দুর্বল থাকবে। তবে জেরেমি করবিন পার্লামেন্টে তৃতীয় বৃহত্তম দল স্কটল্যান্ডের এসএনপির সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন।
এদিকে ইন্ডিপেনডেন্টের আরেক খবরে বলা হয়, নির্বাচনে লেবার দল হেরে গেলেও নেতৃত্ব ধরে রাখার ব্যাপারে আশাবাদী করবিন। তার খুব ঘনিষ্ঠ দলীয় কয়েকটি সূত্র জানিয়েছেন, নির্বাচনে পরাজিত হলে যদি পদত্যাগের দাবি ওঠে তা তিনি প্রত্যাখ্যান করতে পারেন এবং নতুন করে দলীয় প্রধান নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। লেবার দলের এক ঘনিষ্ঠ সূত্র বলেছেন, তিনি পদে এসেছেন মাত্র দু’বছর। এখনো তিনি পুরো মেয়াদ পূর্ণ করেননি। এরই মধ্যে তাকে দ্বিতীয় দফায় নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রতিযোগিতায় পড়তে হয়েছে। তাই কেন তিনি পদত্যাগ করবেন সে যুক্তি খুঁজে পাই না। আগামী সেপ্টেম্বরে দলের বার্ষিক সম্মেলন। সেখানে করবিনের মিত্ররা গঠনতন্ত্র সংস্কারের জন্য কিছু প্রস্তাব রাখতে পারেন। তবে করবিন-বিরোধী একাধিক এমপি এই খবরে ক্ষুব্ধ। একজন এমপি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, নির্বাচনে যদি প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র কাছে ভয়াবহভাবে হেরে যায় দল, তাহলে পদ ধরে রাখার যোগ্য হবেন না জেরেমি করবিন। আরেকজন এমপি এ পরিস্থিতিকে অদ্ভুত বলে মন্তব্য করেছেন।
এদিকে উগ্র ডানপন্থি দল ইউকিপ-এর একমাত্র এমপি ডগলাস কার্সওয়েল পদত্যাগ করেছেন। তিনি বলেছেন, আগামী নির্বাচনে লড়বেন না। তার পরিবর্তে ভোটারদের শাসক দল কনজারভেটিভ পার্টিকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময় অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে টিভি বিতর্কে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে পরে সামান্য সরে এসে তিনি বলেন, বিতর্কের বদলে টেলিভিশনে ধারণকৃত ভোটারদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি অংশ নেবেন।
তার এমন ঘোষণায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ভয় পাচ্ছেন। এ ছাড়া নজরদারি এড়াতে চান। স্কাই নিউজের একটি জনমত জরিপ অবশ্য বলছে, বেশির ভাগ নাগরিকই টিভি বিতর্কের পক্ষে। ৬৪ শতাংশ বৃটিশ মনে করেন, দলীয় নেতাদের উচিত নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময় টিভি বিতর্কে অংশ নেয়া।
 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন