উত্তাল ভেনিজুয়েলা, নিহত ৩

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ২১ এপ্রিল ২০১৭, শুক্রবার
সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ভেনিজুয়েলা। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ক্রমেই দানা বেঁধে উঠছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কমপক্ষে ৩ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। রাজধানী ক্যারাকাসে এক তরুণকে এবং কলোম্বিয়া সীমান্তের কাছে স্যান ক্রিস্টোবালে এক নারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আর রাজধানীর দক্ষিণে সরকারি এক নিরাপত্তা রক্ষী নিহত হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি। খবরে বলা হয়, নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও কারারুদ্ধবিরোধী রাজনীতিবিদদের মুক্তির দাবিকে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে বিক্ষোভ করে। প্রেসিডেন্ট মাদুরো বিরোধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ করেছেন। এছাড়া দোকানপাটে লুঠতরাজ চালানোর অভিযোগ করেন তিনি। মাদুরো জানিয়েছেন, কমপক্ষে ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ক্যারাকাসে সরকার সমর্থকরাও পাল্টা সমাবেশ করেছে। বিরোধী নেতা হেনরিক ক্যাপ্রিলেস বৃহস্পতিবার আরো গণবিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্বের সব থেকে বড় তেলের মজুদ থাকা সত্ত্বেও ভেনিজুয়েলা কয়েক বছর ধরে মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে লড়ছে। এছাড়া, অহরহ অপরাধ আর মৌলিক পণ্যের ঘাটতিতে বিপর্যস্ত দেশটি।  ভেনিজুয়েলার সরকারবিরোধী চলমান এ প্রতিবাদ তিন বছরের মধ্যে সব থেকে বড় আকার ধারণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে করে বিরোধীদের সঙ্গে সমঝোতা ও দেশের অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার পথ বের করতে প্রেসিডেন্ট মাদুরোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে। সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা চলমান প্রতিবাদকে ভেনিজুয়েলার ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। উল্লেখ্য, পরবর্তী নির্বাচনের নির্ধারিত সময় ২০১৮ সালে। তবে, বিরোধীরা বলছেন, দেশ অচলাবস্থার দ্বারপ্রান্তে। আইএমএফ জানিয়েছেন, এ বছর মুদ্রাস্ফীতি ৭০০ শতাংশে গিয়ে ঠেকতে পারে। দেশটিতে সাম্প্রতিক সংকটের সূত্রপাত হয় হতো মাসে বিরোধী নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্ট থেকে ক্ষমতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়ে নেয়া সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর। তিন দিন পর সুপ্রিম কোর্ট রায় পাল্টালেও ততক্ষণে শুরু হয়ে যায় সরকারবিরোধী প্রতিবাদ।  এরপর প্রতিবাদকারী ও পুলিশের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সাম্প্রতিক ৩ মৃত্যুসহ এ পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ৮। এছাড়া আহত হয়েছেন অনেকে।
 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন