হাটহাজারীতে আল্লামা শফীকে সংবর্ধনা

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে | ২১ এপ্রিল ২০১৭, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:১৫
কওমি স্বকীয়তা অক্ষুণ্ন রেখে ভারতের দেওবন্দের আদলে কওমি মাদরাসার সনদের স্বীকৃতি অর্জন করায় আল্লামা শাহ আহমদ শফী সংবর্ধিত। গতকাল হাটহাজারী পার্বতী হাইস্কুল মাঠে হাটহাজারী ওলামা পরিষদের পক্ষ থেকে আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। সংবর্ধনা সভায় আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, কওমি মাদরাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে ও দারুল উলুম দেওবন্দের মূলনীতিসমূহকে ভিত্তি করে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্সের সমমান প্রদান করায় মহান আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করছি। দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। তিনি সনদ বিষয়ে উলামায়ে কেরামের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানকে আরো দৃঢ় রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
হাটহাজারী উলামা পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ শফীর সভাপতিত্বে হাটহাজারী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা নাছির উদ্দীন মুনির ও মাওলানা মীর ইদ্রিসের সঞ্চালনায় সংবর্ধনা সভায় বক্তব্য রাখেন, মাওলানা আজিজুল হক আল-মাদানী, মাওলানা মোহাম্মদ রফিক নানুপুর মাদরাসা, মুফতি হাবিবুর রহমান নাজিরহাট বড় মাদরাসা, মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী বাবুনগর মাদরাসা, মুফতি জসিম উদ্দীন, মুফতি কেফায়েত উল্লাহ হাটহাজারী মাদরাসা, মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফতেহপুর মাদরাসা, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা জাফর আহমদ বাথুয়া মাদরাসা, মুফতি মুহাম্মদ আলী মেখল মাদরাসা, মাওলানা আহমদ দিদার হাটহাজারী মাদরাসা, মাওলানা কুতুব উদ্দীন, আব্দুর রহমান চৌধুরী, মাওলানা কাজী নূরুল আলম, মাওলানা আব্দুর রহিম ইসলামাবাদী, মুফতি আবদুল আজীজ রশিদিয়া মাদরাসা, মাওলানা হাবীবুল্লাহ নদভী, মাওলানা মুহাম্মদ নছিম, মাওলানা কাজী শফী উল্লাহ শাহ ওয়ালিউল্লাহ মাদরাসা, মাওলানা আবু তৈয়ব আবদুল্লাহপুরী, মুফতি শিহাব উদ্দীন, মাওলানা মাহমুদ হোসাইন, মাওলানা হাবীবুল হক (বাবু), মাওলানা জাহাঙ্গীর মেহেদী, মাওলানা জাকারিয়া নোমান, মাওলানা এমরান শিকদার, মাওলানা কামরুল কাসেমী, মাওলানা হাবীবুল্লাহ গড়দুয়ারী, মাওলানা আনাস জমিরী প্রমুখ।  
সংবর্ধনা সভায় বেফাক সভাপতি শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ  থেকে গ্রিক দেবী থেমিস মূর্তি অপসারণ এবং সনদের স্বীকৃতি সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের জোর তাগিদ জানান। কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদের সরকারি মানগ্রহণ বিষয়ে গত ১১ই এপ্রিল গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওলামায়ে কেরামের বৈঠক নিয়ে কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করে বলেন, বেফাকসহ অপরাপর কওমি মাদরাসা বোর্ডসমূহের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের আলোকেই সেদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে এবং দাওরায়ে হাদিসের সনদের মান গ্রহণে আমাদের পূর্বঘোষিত শর্তে সামান্যতমও ছাড় দেয়া হয়নি। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন আমাদের পূর্ব ঘোষিত যৌক্তিক অবস্থান গ্রহণ করেই যে সনদের মান প্রদান করা হয়েছে, তাতেই আমরা যে নীতিতে অবিচল অটল ছিলাম, সেটা স্পষ্ট হয়েছি। তিনি বলেন, সবসময় উলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতার বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমি কাজ করে আসছি।
আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের ফলেই গত ১১ই এপ্রিল রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ স্তর থেকেই উলামায়ে কেরাম সম্মানিত হয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী কওমি মাদরাসার গৌরবময় ঐতিহ্য ও ইসলামী শিক্ষার গুরুত্বের কথা স্বীকার করে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি দেওবন্দের উসুল ও কওমি স্বকীয়তা শতভাগ অক্ষুণ্ন রেখে আমাদের প্রত্যাশা মতে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্স-এর সমমান দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে স্থাপিত গ্রিক মূর্তি অপসারণের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি প্রদান, স্বাধীনতা সংগ্রামে কওমি উলামায়ে কেরামের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার উল্লেখসহ ইসলাম ও মুসলিম স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনেক ইতিবাচক বক্তব্য দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র হলে এদেশের মানুষ তা মেনে নিবে না। আল্লামা আজিজুল হক বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গ্রিক দেবীর মূর্তি অপসারণ করে আপনি নিজেকে একজন সত্যিকারের ইমানদার হিসেবে প্রমাণ করুন। সভায় হাটহাজারী, ফটিকছড়ী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়াসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে লক্ষ্যাধিক মানুষ মিছিলসহকারে সমবেত হয়।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

kamal

২০১৭-০৪-২১ ০৬:৩৪:৩৬

-জাতীয় পার্টির মত হেফাজতকেও বর্তমানে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাচ্ছে। এই কারনেই জাতীয় পার্টি রাজনৈতিক ভাবে অনেক দূর্বল হয়ে পড়েছে। হেফাজতও যদি এমন ফাদে পা দেয় তবে তারাও তাদের অর্জিত সম্মান ও জনপ্রিয়তা ধুলোয় মিশিয়ে দেবে।

আপনার মতামত দিন