রামপাল নিয়ে জ্যোতিষনির্ভর অভিযোগ করা হচ্ছে: হাছান মাহমুদ

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ২১ এপ্রিল ২০১৭, শুক্রবার
রামপাল নিয়ে অভিযোগ অনুমাননির্ভর, আবেগ এবং জ্যোতিষ বিদ্যানির্ভর বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ। সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে গতকাল এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে দলটি। হাছান মাহমুদ বলেন, যারা অভিযোগ করছেন, তাদের শীর্ষ ব্যক্তিদের অভিযোগ অনুমান কিংবা আবেগনির্ভর নয়, ষড়যন্ত্রনির্ভর। যারা আবেগের কারণে আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন। তাদের আমরা সম্মান জানাই। কিন্তু যাদের অভিযোগ জ্যোতিষ বিজ্ঞাননির্ভর, তাদেরকে বিজ্ঞাননির্ভর যুক্তি উপস্থাপনের আহ্বান জানাই। এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে  সুলতানা কামাল অভিযোগ করেন রামপাল নিয়ে সরকার দেশে-বিদেশে অসত্য তথ্য দিয়ে যাচ্ছে। ভারতের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দিচ্ছে না। এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় হাছান মাহমুদ বলেন, সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন না। সুলতানা কামালের প্রতি সম্মান রেখে আমি বলছি, তিনিসহ যারা এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তারাই জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন। এক্সিম ব্যাংক ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে অর্থায়ন করছে। তাই এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অবান্তর। তিনি বলেন, রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশেপাশের এলাকার পরিবেশ রক্ষায় প্রথমে সুপার ক্রিটিক্যাল পদ্ধতি ব্যবহার করার কথা ছিল। কিন্তু সরকার অধিকতর নিরাপত্তার জন্য আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল পদ্ধতি ব্যবহার করছে। এ জন্য যন্ত্রপাতি আমদানি করছে সরকার। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিঃসরিত ছাই কিনতে বাংলাদেশের বিভিন্ন সিমেন্ট কারখানা এখনই যোগাযোগ করছে বলেও জানান তিনি।  এসময় তিনি বলেন, বড় পুকুরিয়া কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে সেখানকার ক্ষেত-খামারের উৎপাদন না কমে, কোনো কোনো জায়গায় তা বৃদ্ধি পেয়েছে। সনাতন পদ্ধতির বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে যেখানে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয়নি। সেখানে আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল পদ্ধতির কারণে ওইসব এলাকার কোনো ক্ষতি হবে না। সুন্দরবন রক্ষা কমিটির সংবাদ সম্মেলনে ভাড়াটে বিশেষজ্ঞ ব্যবহার করা হয়েছে দাবি করে হাছান মাহমুদ বলেন, গতকালকের সংবাদ সম্মেলনে যেসব আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতামত উপস্থাপন করেছেন, তাদের কয়েকজনকে আমি চিনি। পৃথিবীতে টাকা দিলে অনেক ভাড়াটে বিশেষজ্ঞ পাওয়া যায়। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র সরানোর সরকারের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের সরকার প্রধান বলেছেন সকল প্রকার সুরক্ষা নিয়েই আমরা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছি। তাই এ প্রকল্প অন্যত্র সরানোর কোনো সম্ভাবনাই নেই। রামপাল ইস্যুতে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পদ্মা সেতু নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল, তখন একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ ও সচিব গ্রেপ্তার হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সরকারের বক্তব্যই প্রমাণিত হয়েছে। রামপাল ইস্যুতে এখন যারা জাতিকে বিভ্রান্ত করে ষড়যন্ত্র করছেন তাদের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হবে। এবারও সরকারের বক্তব্যই সত্য বলে প্রমাণিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ফরিদুন্নাহার লাইলী, আবদুস সোবহান গোলাপ, মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আব্দুস সবুর, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য গোলাম রাব্বানী চিনু, রিয়াজুল কবির কাওছার, মারুফা আক্তার পপি প্রমুখ।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন