দোয়ারাবাজারে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

বাংলারজমিন

মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্ | ২১ এপ্রিল ২০১৭, শুক্রবার
 কোনো ধরনের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ না থাকায় দোয়ারাবাজারে বেপরোয়া মোটরসাইকেলের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলছে। এতে করে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন যাত্রীসহ পথচারীরা। প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। দোয়ারাবাজার উপজেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্গম হওয়ায় এখানকার সড়ক যোগাযোগের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে মোটরসাইকেল দীর্ঘ দিন যাবৎ যাতায়াত বাহন হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু এসব যাতায়াত মোটরসাইকেল ও ভাড়ায় কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় প্রতিনিয়তই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। একটি অসাধু চক্র সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতি কিলোমিটারে যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করছে জনপ্রতি ৭০-১০০ টাকা।
এ ছাড়া রাস্তা-ঘাটে আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে লাইসেন্সবিহীন অসংখ্য চোরাই মোটরসাইকেল। শুধু বেপরোয়া মোটরসাইকেলই নয় ভারাটে মোটরসাইকেলের আদলে রাস্তাঘাটে বখাটে যুবক ও সন্ত্রাসীদের আনাগোনাও ইদানীং বেড়ে চলেছে। এতে করে যাত্রীসহ রেহাই পাচ্ছে না স্কুলগামী শিক্ষার্থীরাও। জানা যায়, গত সোমবার উপজেলার দোয়ারাবাজার সদর টু মহব্বতপুর গামী রাস্তায় যাত্রীবাহী মোটরসাইকেল বেপরোয়া ভাবে চলাফেরার সময় যাত্রীসহ মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়। পরে এলাকাবাসী ধাওয়া করলে চালক দুর্ঘটনায় আহত মহিলা যাত্রীসহ মোটরসাইকেল রাস্তায় ফেলে পলায়ন করে। চালককে না পেয়ে স্থানীয়রা সুরমা ইউনিয়নের টেংরাবাজারে আহত যাত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন এবং আটককৃত মোটরসাইকেলটি টেংরাবাজার কমিটির সভাপতি মো. মেজবাউল গণি সুমনের নিকট হেফাজত রাখেন। টেংরাবাজার কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, দুর্ঘটনার পর থেকে এখনো পর্যন্ত ওই মোটরসাইকেল মালিকের কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি। মোটরসাইকেল মালিকের কোনো হদিস না পাওয়া যাওয়ায় মোটরসাইকেলটি এখনো টেংরাবাজার কমিটির হেফাজতে রয়েছে। এদিকে ওই দুর্ঘটনার একদিন না যেতেই ঘটনার পরের দিন মঙ্গলবার একই সড়কে ঘটে আরেকটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। বাড়ি থেকে যাত্রীবাহী মোটরসাইকেল কর্তৃক স্কুলে যাওয়ার পথে অপহরণের চেষ্টার শিকার হয় এক স্কুলছাত্রী। ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে বুধবার এ ব্যাপারে সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম্য আদালতে সুরমা ইউপি চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। জানা যায়, অভিযুক্ত মোটরসাইকেল চালকের নাম ইদ্রিস আলী। সে লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের পশ্চিম বাংলাবাজারের চানপুর গ্রামের আবদুল মতিনের ছেলে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ভূজনা গ্রামের জয়নাল আবেদিনের মেয়ে স্থানীয় টেংরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া বেগম দোয়ারাবাজার টু ভূজনাগামী রাস্তার পয়েন্ট থেকে যাত্রীবাহী মোটরসাইকেল কর্তৃক স্কুলে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল চালক কর্তৃক পথিমধ্যে অপহরণ চেষ্টার শিকার হন। স্কুল ছাত্রীকে মহব্বতপুর-টেংরাটিলা-দোয়ারাবাজার পয়েন্টে নামিয়ে দেয়ার কথা থাকলেও চালক জোর করে ওই পয়েন্ট ক্রস করে মহব্বতপুরের দিকে অনবরত যেতে থাকে। পথিমধ্যে ওই স্কুলছাত্রী সুমাইয়া বেগম চালককে গাড়ি থামানোর অনুরোধ করলেও চালক গাড়ি থামানোর চেষ্টা না করায় একপর্যায়ে পথিমধ্যে মহব্বতপুরগামী রাস্তায় রবিউলের দোকানের নিকট আত্মরক্ষার্থে ওই ছাত্রী মোটরসাইকেল থেকে লাফ দেয় ও মারাত্মক ভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে এবং মাথা ফেটে রক্ত বের হতে থাকে। পরে স্থানীয়রা ওই মেয়েকে তার অভিভাবকের মাধ্যমে দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সিলেট ওসমানী মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে এখানেই সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মেয়ের অভিভাবকদের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করে জানা যায়, এক্সরে করে সন্তোষজনক না হওয়ায় আহত ওই মেয়েটিকে সিটিস্ক্যান করেছে। মেয়ের শারীরিক অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। অপহরণ চেষ্টায় দুর্ঘটনার পর থেকে মোটরসাইকেলসহ চালক ইদ্রিস আলী এখনো পলাতক রয়েছে।
এদিকে অপহরণ চেষ্টায় অভিযুক্ত মোটরসাইকেল চালককে আইনের আওতায় আনতে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চলাচলসহ মোটরসাইকেল ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে বুধবার দুপুর ১টায় টেংরা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শত শত শিক্ষার্থী ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেন। টেংরা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি শের মাহমুদ ভুঁইয়া জানান, বখাটে মোটরসাইকেল চালকদের কারণে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসা যাওয়া করতে নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হয়। এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেয়া দরকার। টেংরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরঞ্জিত দাস জানান, স্কুলছাত্রীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ এসেছে। এতে বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ছাত্রীটি এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শিগগিরই আইনের আওতাভুক্ত করা হোক। পশ্চিম টেংরাটিলার বাসিন্দা ব্যবসায়ী ও অভিভাবক কাজী মনিরুজ্জামান জানান, অদক্ষ মোটরসাইকেল চালকদের দৌড়াত্ম্যে আমরা সবাই অতিষ্ঠ। লাইসেন্সবিহীন গাড়ি, অদক্ষ চালক আর নিয়ন্ত্রণহীন ভাড়ার কারণে অপারগ হয়ে আমরা তাদের কাছে অনেকটা জিম্মি হয়ে পড়েছি। এই অবস্থার পরিত্রাণ চাই। শিক্ষার্থী রাকিবুর রহমান রাতুল জানান, আমরা এর বিচার চাই। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। পশ্চিম বাংলাবাজার মোটরসাইকেল সমিতির সভাপতি রেজাউল চৌধুরী জানান, আমাদের সমিতির কেউ এ ধরনের বেআইনি কাজে জড়িত নন। অভিযুক্ত ইদ্রিস আলীর বাড়ি আমাদের এলাকায় হলেও তিনি আমাদের সমিতির সদস্য নন। আহত স্কুলছাত্রী সুমাইয়া বেগমের পিতা জয়নাল আবেদিন জানান, আমার মেয়েদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গতকাল (বুধবার) রাত আটটায় অস্ত্রোপচারে নেয়া হয়েছে। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার মামুনুর রশীদ জানান, এ ব্যাপারে আমার এখানে একটি লিখিত অভিযোগ এসেছে। গ্রাম্য আদালতের মাধ্যমে আমরা এটি সমাধানের চেষ্টা করব।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

দুই নারীর একজন স্বামী, অন্যজন স্ত্রী

আ’লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১৫

নওগাঁয় যুবককে কুপিয়ে হত্যা

গার্মেন্টে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত করছে এইচ অ্যান্ড এম

নাশকতার অভিযোগে ২০ শিবিরকর্মী আটক

বিএনপির বিজয় র‌্যালিতে যুবলীগ-ছাত্রলীগের হামলা

বিজয় উৎসব পালন করতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ মুক্তিযোদ্ধাসহ আহত ৯

আমৃত্যু এক যোদ্ধার কথা

ছাত্রদলের পুষ্পস্তবক ছিঁড়লো ছাত্রলীগ

ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত ২

‘স্বাধীনতার ৪৬ বছরে জাতির প্রত্যাশা অনেকটাই পূরণ হয়েছে’

বঙ্গবন্ধুর গৃহবন্দি পরিবারকে যেভাবে উদ্ধার করেছিলেন কর্নেল তারা

মিয়ানমারে আটক দু’সাংবাদিককের মুক্তি দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও

জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি খালেদার শ্রদ্ধা

ভারতে তিন তালাক বিরোধী খসড়া আইনে সরকারের অনুমোদন

বিরোধীরা আসলেই কাগুজে বাঘ: মোজাম্মেল হক