কক্সবাজারে নারী নির্যাতন মামলার আসামি হলেন ২ ওসি ৩ এসআই

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার থেকে | ২১ এপ্রিল ২০১৭, শুক্রবার
কক্সবাজারে নারী নির্যাতন মামলার আসামি হলেন দুই ওসি ও তিন এসআই। রিমান্ডে নিয়ে এক নারীকে বর্বর নির্যাতনের অভিযোগে কঙবাজার জেলা সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে সদর থানার ওসিসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ মামলা করেন ভুক্তভোগী জীবন আরা। বাদীর করা বিশেষ মামলাটির (বিশেষ ফৌজদারি মামলা নং-১২/২০১৭) প্রাথমিক তদন্ত শেষে মঙ্গলবার কক্সবাজারের সিনিয়র সেপশাল জজ আদালতের বিচারক মীর শফিকুল আলম তা নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। বিচারক একই আদেশে মামলার অভিযোগ তদন্তপূর্বক আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য দুদককে আদেশ দিয়েছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ জাকারিয়া জানিয়েছেন, বাদী এই মামলায় মোট পাঁচজনকে আসামি করেছেন। এছাড়া পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করে সুবিচার চেয়েছেন তিনি।
গত সোমবার সন্ধ্যায় কঙবাজার প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নানা অভিযোগ উত্থাপন করেন কঙবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের লিংক রোড এলাকার বাসিন্দা আলী আহমদের স্ত্রী জীবন আরা। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সদর থানার সাজানো একটি মাদক মামলায় আদালতের মাধ্যমে গত ১৩ই মার্চ আমাকে একদিনের রিমান্ডে নিয়ে যায় পুলিশ।
সেখানে জিজ্ঞাবাদের নামে উপপরিদর্শক (এসআই) মানস বড়ুয়া আমার কাছে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। ওই টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় মানস বড়ুয়া আমার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে বৈদ্যুতিক তারের শক দেন। এ সময় আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি। শকে আমার শরীর মারাত্মক জখম হয়। আমি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ায় একপর্যায়ে আমার চিকিৎসার জন্য আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন আবেদন করি। পরে ২২শে মার্চ আদালতের বিচারক এক নারীকে দিয়ে আমার শরীরের আঘাতের চিহ্ন সম্পর্কে প্রতিবেদন নেন। ওই প্রতিবেদনে গুরুতর জখমের প্রমাণ পাওয়ায় আদালত আমাকে জামিন দেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত এসআই মানস বড়ুয়া বলেন, জীবন আরাকে রিমান্ডে কোনো নির্যাতন করা হয়নি। এরপরও তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছেন।
কঙবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরাজুল হক টুটুল বলেন, এসআই মানসের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এসআই মানসের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ জাকারিয়া জানিয়েছেন, বাদী জীবন আরার করা বিশেষ মামলাটির (বিশেষ ফৌজদারি মামলা নং-১২/২০১৭) প্রাথমিক তদন্ত শেষে মঙ্গলবার কক্সবাজারের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মীর শফিকুল আলম তা নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। বিচারক একই আদেশে মামলার অভিযোগ তদন্তপূর্বক আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য দুদককে আদেশ দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, বাদী এই মামলায় মোট পাঁচজনকে আসামি করেছেন। তারা হলেন- কঙবাজার সদর থানার ওসি আসলাম হোসেন, তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ও বর্তমান চকরিয়া থানার ওসি বখতিয়ারউদ্দিন চৌধুরী, এসআই আবদুর রহিম, এসআই মানস বড়ুয়া ও এসআই মো. ফারুক।


 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন