ঘরেই শুয়ে-বসে কাটছে টেলিসামাদের সময়

বিনোদন

কামরুজ্জামান মিলু | ২১ এপ্রিল ২০১৭, শুক্রবার
ঢাকাই চলচ্চিত্র, টিভি নাটক এবং মঞ্চের শক্তিমান অভিনেতা তিনি। ৭০ দশক থেকে তাকে পর্দায় দেখেছেন দর্শকরা। এ যাবৎ অসংখ্য চলচ্চিত্র-নাটকে নানা ধরনের  চরিত্রে তার দুর্দান্ত অভিনয় দর্শকের মনে দাগ কেটে আছে দারুণভাবে। তিনি টেলিসামাদ। নজরুল ইসলামের পরিচালনায় ১৯৭৩ সালের দিকে ‘কার বৌ’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে এই অঙ্গনে পা রাখেন এই অভিনেতা। তবে তিনি দর্শকদের কাছে যে ছবিটির মাধ্যমে সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন সেটি হলো ‘পায়ে চলার পথ’।
এরপর অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করেছেন। অভিনয়ের বাইরে ৫০টির বেশি চলচ্চিত্রে তিনি গানও গেয়েছেন। বর্তমানে এই অভিনেতা অসুস্থ হয়ে ঘরে শুয়ে-বসে দিন কাটাচ্ছেন। গতকাল তিনি মানবজমিনকে  বলেন, আমি ভালো নেই। এখন কথা বলতেও কষ্ট হয়। দিনের পর দিন অসুস্থ হয়ে ঘরেই দিন কাটছে আমার। দুই বছর আগে অনিমেষ আইচের ‘জিরো ডিগ্রি’ ছবিতে সবশেষ কাজ করেছিলাম। সামনে শিল্পী সমিতির নির্বাচন। অনেকেই তাকে ফোন করছেন। টেলিসামাদ কি এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে যাবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাকে কয়েকদিন ধরে অনেকেই ফোন দিচ্ছেন। কিন্তু আমার শারীরিক অবস্থা অনেক খারাপ। আমি জানিও না কে কোন পদে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এবার। কেউতো আর তেমন খবর রাখে না আমার। আমি হয়তো ভোট দিতেও যাবো না। চলতে ফিরতে যে শক্তি লাগে তাও আজ আমার নেই বলা চলে। বেশ অভিমান ও কষ্ট নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন এই অভিনেতা। অভিনয়ের বাইরে লেখালিখি, গান ও ছবি আঁকার প্রতিও প্রবল ঝোঁক রয়েছে টেলিসামাদের। কয়েকদিন আগে নিজেই একটি নাটক নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বলেন, গ্রামীণ প্রেক্ষাপটের কাহিনী নিয়ে একটি নাটক নির্মাণের কথা ভেবেছিলাম। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতির জন্য আর কাজটা করা হয়ে ওঠেনি। সামনে কোনো ছবিতে দেখা যাবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বয়স হয়েছে, শরীর নিয়ম অনুযায়ী দুর্বল হয়েছে। যে কারণে চাইলেও আগের মতো যাতায়াত করতে পারি না। এরপরও একটু সুস্থ বোধ করলেই এফডিসিতে  যেতে ইচ্ছে করে আমার। সেখানে গেলে পুরানো দিনের অনেক কথা মনে হয়। প্রায় ছয় শতাধিক ছবিতে আমি কাজ করেছি। জীবনের সময় কত দ্রুত চলে গেল টেরই পেলাম না। অসুস্থতার পর চিকিৎসার জন্য ২০১৪ সালের ২০মে আমেরিকায় যান টেলিসামাদ। দীর্ঘ চার মাস নিউ ইয়র্কে অবস্থান করার পর ২৫শে সেপ্টেম্বর দেশে ফিরেন। এরপর ২০১৫ সালের অক্টোবরে তার পায়ের বুড়ো আঙুলে একটি ক্ষত দেখা দেয়। ওই বছরের ১৮ই অক্টোবর রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এরপর চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরেছেন ঠিকই কিন্তু শারীরিকভাবে আর সুস্থ হতে পারেননি। এদিকে নাম টেলিসামাদ হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা অনেক আগের কথা। বিটিভির ক্যামেরাম্যান মোস্তফা মামুন ভাই এ নামটা দিয়েছিলেন। বিটিভি থেকে একদিন আমার বাসায় চিঠি আসলো আমাকে সেখানে যেতে হবে। সেখানে উপস্থিত হতেই মামুন ভাই বললেন, তোমার নাম আজ থেকে আবদুস সামাদ বাদ দিয়ে টেলিসামাদ। সেই থেকেই আমি হয়ে গেলাম টেলিসামাদ। আরো অনেক কথা জমা আছে টেলিসামাদের মনে। তবে বার বারই বলছিলেন, কষ্ট হচ্ছে কথা বলতে। তাই আর কথা বাড়াতে চাই না। আমার জন্য দোয়া করবেন। দেশবাসীর কাছেও দোয়া চাইছি।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Abdul motalab

২০১৭-০৪-২০ ১৩:১৩:৩২

টেলিসামাদ ভাই, সময় পেলে আর এফ ডি সি তে যেওনা।মসজিদে যেও।

আপনার মতামত দিন

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মার্কিন প্রতিনিধি দল

৭৯ দিন পর বাড়ি ফিরলেন অনিরুদ্ধ রায়

প্যারাডাইস পেপারসে মিন্টু পরিবারের নাম

ফেসবুকে বন্ধুতা, প্রেম ব্ল্যাকমেইল

মাথা ন্যাড়ার শর্তে এসএসসির ফরম পূরণ!

একজন পেশকার মুচিরাম গুড়

চীন কারো পক্ষ নেবে না

হেয়ার স্কুলের দ্বিশতবার্ষিকীতে সম্মানিত জিয়া

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের তাগিদ

নির্বাচনী ডামাডোলে নানা প্রশ্ন

কামাল হোসেন মনে করেন এটা শুভ লক্ষণ

বারী সিদ্দিকী লাইফ সাপোর্টে

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাচ্ছেন না চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এমপি গোলাম মোস্তফা আহমেদ

বিশ্ব সুন্দরীর মুকুট মানসী চিল্লার-এর

তবুও কুমিল্লার কাছে হারলো রংপুর