খোঁড়াখুঁড়িতে নগরজুড়ে দুর্ভোগ

এক্সক্লুসিভ

শুভ্র দেব | ২১ এপ্রিল ২০১৭, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৯:৫৯
 শারমিন আক্তার শিলা স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে নিয়ে ফিরছেন মালিবাগের বাসায়। কাকরাইল থেকে রিকশা দিয়ে শান্তিনগর আসার পর রিকশার চাকা গর্তে পড়ে উল্টে পড়েন তারা। মা মেয়ে দুজনই তখন কাদায় মাখামাখি। বাম পায়ের হাঁটুতে ব্যথাও পেয়েছেন। খোঁড়াখুঁড়ি করে চলাচলের অনুপযোগী করে রাখা হয়েছে রাস্তা। রাজধানীর যানজট নিরসনে নির্মিত ফ্লাইওভার এবং সিটি করপোরেশন, মেট্রোরেল, ওয়াসা, বিদ্যুৎ বিভাগের খোঁড়াখুঁড়িতে অতিষ্ঠ নগরবাসী। গতকাল নগরীর মালিবাগ, শান্তিনগর, রাজারবাগ, মালিবাগ রেলগেট, আগারগাঁও, কাজিপাড়া, শেওড়াপাড়া, মিরপুর-১০, ১১ গিয়ে দেখা যায় জনদুর্ভোগের এক ভয়ানক চিত্র। মালিবাগ মোড়ে দেখা যায়, মালিবাগ থেকে মগবাজার-শান্তিনগর-রাজারবাগের রাস্তা আর ফুটপাথের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া দুরূহ। রাস্তায় মধ্যে ছোট বড় অসংখ্য গর্ত। গর্তে হাঁটু সমান পানি। আর এই গর্তে পড়ে অনেক পথচারী, রিকশা গাড়ি মোটরসাইকেল উল্টে ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। মালিবাগ মৌচাক এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী জানান, ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফরচুন শপিংমল, মৌচাক মার্কেট, হোসাফ প্লাজা, কর্ণফুলী গার্ডেন, সেন্টার পয়েন্ট, আনারকলি মার্কেটসহ আশপাশের সব শপিং মলে এখন ব্যবসায় মন্দা যাচ্ছে। ফরচুন মার্কেটের ব্যবসায়ী শাহীন আলম বলেন, এ মার্কেটের সামনে প্রধান সড়কটি গত কয়েক মাস ধরে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। রিকশা গাড়ি চলাচল করতে পারে না। এমনকি পায়ে হেঁটে মানুষ চলাচল করার রাস্তাও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আর বাকি যে কটি রাস্তা খোলা আছে সেসব রাস্তায় বড় বড় গর্ত আর এতে জমে আছে হাঁটু সমান পানি কাদা। তাই এসব রাস্তা দিয়ে এখন তেমন গাড়ি রিকশা চলাচল করে না। তাই এ এলাকায় এসে মানুষ তাদের কেনাকাটা সারতে চায় না। দুর্ভোগ পোহানো থেকে বাঁচার জন্য অনেকেই এখন অন্য এলাকায় গিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সারছেন। মৌচাক মার্কেটের ব্যবসায়ী আনোয়ার আলী বলেন, শুধু ফ্লাইওভারের কাজের জন্য এখানে সমস্যা সৃষ্টি হয়নি। সিটি করপোরেশন, ডিপিডিসির বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনের কাজও এখানে চলছে। এজন্য আরো বেশি দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। উন্নয়ন কাজের নামে এখানে সাধারণ মানুষের ক্ষতি করা হচ্ছে। আজ কতদিন ধরে কর্মচারীর বেতন, দোকান ভাড়া পর্যন্ত উঠানো যাচ্ছে না। তার ওপর পরিবার  আছে। তাদের খরচ চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। গত ছয় মাস ধরে ব্যবসার পুঁজি ভেঙে ভেঙে সব খরচ মেটাচ্ছি। মৌচাক মোড় থেকে মালিবাগ মোড় যাওয়ার পথে দেখা যায় ফুটপাথ কেটে ড্রেন নির্মাণ করছে সিটি করপোরেশন। নির্মাণ কাজের এক শ্রমিক জানান, এ কাজ অনেক দিন ধরে চলছে। আরো কিছুদিন চলবে। মৌচাক মোড় থেকে মালিবাগ রেলগেট যাওয়ার পথে দেখা যায়, এ রাস্তাটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মাটি খননের মেশিন দিয়ে বড় বড় গর্ত করা হচ্ছে। ফলে এই রাস্তা দিয়ে পায়ে হাঁটা মানুষও চলাচল করতে পারে না। আগারগাঁওয়ে উত্তর সিটি করপোরেশনের ড্রেনেজ নির্মাণের কারণে রাস্তা কেটে একাকার করা হয়েছে। ফলে রাস্তা অনেক সরু হয়ে পড়েছে। ব্যস্ততম  এ রাস্তা দিয়ে এখন অনেকটা ধীরগতিতে গাড়ি চলাচল করে। ফলে যানজট লেগে থাকে সবসময়। বিকল্প অটো বাসের এক যাত্রী বলেন, এ রাস্তায় আগে কখনো যানজট থাকতো না। কিন্তু সিটি করপোরেশনের খোঁড়াখুড়িঁর কারণে এখন যানজট থাকে। একই অবস্থা কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়ার। কিছুদিন আগে এখানে মেট্রোরেল নির্মাণের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়েছে। তাই এখনো রাস্তার সংস্কার কাজ ভালোভাবে শেষ করা হয়নি। মূল সড়কের সঙ্গে ফুটপাথ মিশে একাকার হয়ে গেছে। বিভিন্ন সামগ্রী রাস্তার পাশে এখনো পড়ে আছে। পথচারী এবং গাড়ি চলাচল এখনো নির্বিঘ্নে করতে পারে না। মিরপুর ১০ থেকে ১১ নম্বর পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশ দিয়ে মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ চলছে। সেখানে রাস্তার দুদিকেই খোঁড়াখুঁড়ির কারণে একদিকে যেমন রাস্তা সরু হওয়ার কারণে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিকভাবে করতে পারছে না, অন্যদিকে পুরো এলাকা ধুলায় ধূসর হয়ে থাকে সবসময়। নির্মাণ শ্রমিকরা জানান, এখনো মেট্রোরেলের মূল কাজ শুরু হয়নি। পরে আরো বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হবে। একাধিক যাত্রী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের  সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, খোঁড়াখুঁড়ির কারণে মিরপুর ১০-১১ এলাকার বাসিন্দারা অনেক দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ঘরবাড়ি দোকান সব কিছু ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকে। রাস্তা সরু থাকার কারণে গাড়ি চলাচলে ধীরগতি। যানজট লেগে থাকে সবসময়। সিএনজি চালক আলম বলেন, এ এলাকায় আসলে সময় নষ্ট হয় অনেক। যাত্রীরা বাড়তি ভাড়া দিতে চায় না। সরজমিন দেখা যায়, কোথাও সিটি করপোরেশনের ড্রেন ও ফুটপাথ নির্মাণের কাজ, আবার কোথাও ওয়াসার উন্নয়ন কাজ চলছে। এসব কাজের জন্য প্রধান সড়ক ছোট করা হলেও বিভিন্ন এলাকার ছোট ছোট অনেক রাস্তা একেবারে বন্ধ করে দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এসব কারণে এলাকার বাসিন্দারা স্বাচ্ছন্দ্যে পথ চলাচল করতে পারছেন না। নগরবিদরা বলছেন, নির্মাণ কাজের সঠিক নিয়মনীতি মেনে না চলা এবং কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে এরকম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। নগরীর ভিতরে উন্নয়ন কাজ করতে হলে একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিতে হয়। এবং ওই সময়ের ভিতরে কাজ শেষ হবে। পথচারী চলাচলের সময় কাজ বন্ধ রাখতে হবে। পথচারী চলাচলের সুযোগ করে দিতে হবে। এ বিষয়ে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ফ্লাইওভার সংশ্লিষ্ট) হাতেম আলী বলেন, ফ্লাইওভারের কাজ প্রায় শেষের দিকে। আর এখন নিচে আমাদের কোনো কাজ নেই। আমরা ছাড়া এখানে সিটি করপোরেশন, ডিপিডিসি, ওয়াসার উন্নয়ন কাজ চলছে।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

বাংলামোটরে বাস চাপায় রিকশা চালক নিহত, গাড়িতে আগুন

চীন, ভারত ও রাশিয়ার সঙ্গে ব্যাপকভিত্তিক আলোচনায় ঢাকা

গলায় ছুরি বসানোর পর যেভাবে বেঁচে আসেন রোহিঙ্গা যুবক

স্মার্টকার্ড প্রকল্পে তালগোল সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দিতে চায় ইসি

রিজলভের জরিপ কী বার্তা দিচ্ছে

রোহিঙ্গাদের বাঙালি বানানোর কুপরিকল্পিত বর্মী কৌশল

এবার ধরা খেলেন সচিব ও পুলিশ কর্মকর্তা

কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা

সংখ্যালঘুরা সরকার গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে

গলা টিপে ধরতেই আফসানার দেহ নিথর হয়ে পড়ে

আওয়ামী লীগে স্নায়ুযুদ্ধ বিএনপি’র শেখ সুজাত

রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক কাল

ভুটানে ব্যান্ডউইথ রপ্তানি নিয়ে নতুন জটিলতা

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চট্টগ্রামে ১০ শিক্ষকের জামিন

সীমান্তে স্থল মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবক নিহত

সাংবাদিক শিমুল হত্যা: পলাতক ৯ আসামীর আত্মসমর্পণ