ফের সিটিং বাস হাজির

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার | ২১ এপ্রিল ২০১৭, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:১৮
এক রাতের ব্যবধান। গত বুুধবার সারাদিনও রাজধানীতে ছিল তীব্র গণপরিবহন সংকট। অবর্ণনীয় যাত্রী দুর্ভোগ। সেদিন বিকালে আবার পকেট কাটা সিটিংয়ের নাটকীয় ঘোষণা এলো। ব্যাস। তাতেই সারা।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সবকিছু স্বাভাবিক। রাত পেরুতেই টানা চারদিনের বাস সংকট উধাও। রাস্তায় গণপরিবহনের যথেষ্ট উপস্থিতি। কেটে গেল স্বার্থ হাসিলের জন্য বাস মালিকদের সৃষ্ট কৃত্রিম যাত্রী দুর্ভোগও। তবে যাত্রী ঠকানো ও ঝুট ঝামেলা যায়নি। বরং বেড়েছে। সিটিং বৈধতা পেয়েছে এমন মনোভাবে চালক-মালিকরা বাড়তি ভাড়া আদায়ে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
এছাড়া মালিক সমিতি-বিআরটিএ‘র বৈঠকের পর কথিত সিটিং সার্ভিসে নির্ধারিত অভিন্ন ভাড়া নেয়ার ঘোষণা মানছে না সে বাস মালিক, চালক ও সহকারীরা। তারা সিটিং সার্ভিসে আগের স্বঘোষিত বাড়তি ভাড়া আদায় করছে। এ নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে চালক-সহকারীদের গতকালও বাকবিতণ্ডা এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। আবার অনেকে ১৫ দিনের জন্য সিটিং সার্ভিস বন্ধের সিদ্ধান্ত স্থগিতের বিষয়টি না জানায় ঝামেলায় পড়েছেন। তাছাড়া সিটিং সার্ভিস চালুর এই ঘোষণায় যাত্রীদের অনেকে ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
গত বুধবার বেলা ১টা ৫০ মিনিট থেকে ৫৫ মিনিট। মাত্র ৬ মিনিট। এই স্বল্প ব্যপ্তিকালে কাওরান বাজার প্রজাপতি গুহা বা আন্ডারপাস অতিক্রম করতে দেখা গেছে অন্তত ২১টি ছোট-বড় বাস। এগুলো হলো, সময়, বেস্ট, তানজিল, শিখর, এলাইক, বিহঙ্গ, লাব্বাইক, নিউ ভিশন, ট্রাস্ট, ঢাকা পরিবহন, ইউনাইটেড, দিশারী, বিকল্প, ল্যামস, ইটিসি, ওয়েলকাম পরিবহনের একটি করে বাসসহ ১২৩ নম্বর রুটের ৩টি ও বিআরটিএর ২টি বাস। এ সময় অধিকাংশ বাস সিটিং সার্ভিসে যাত্রী পরিবহন করছিল। হাতেগুনা দু’একটি ছাড়া বাকি প্রায় সব বাসেই একাধিক থেকে অর্ধেক সিট খালি ছিল। এর মধ্যেও কয়েকটি লোকাল বাসকে দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে।
শুধু কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ বা এয়ারপোর্ট রোড নয়। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে এ চিত্র দেখা গেছে। মিরপুর বোড়, বেগম রোকেয়া স্মরণীতে একই চিত্রের দেখা মিলেছে। তাছাড়া ফার্মগেট, মগবাজার, হাতির ঝিলের মুখে যাত্রী উঠাতে বাস সহকারীদের হাঁকডাক চোখে পড়েছে। গতকাল সকালে যথারীতি আগের মতো বাসের জন্য যাত্রীদের চাপ থাকলেও গত চারদিনের মতো দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ৫-১০ মিনিটের অপেক্ষায় গাড়ি পেয়েছে যাত্রীরা। তবে অন্যান্য দিনের চেয়ে গতকাল রাস্তায় তুলনামুলকভাবে গণপরিবহনের উপস্থিতিও বেশি চোখে পড়েছে। আগের চারদিন কৃত্রিম সংকট তৈরি করে যাত্রীদের ভোগান্তি দিতে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ না চলা গাড়ির মালিক-চালকরাও ওই সময় রোজগার বঞ্চিত হয়। তাই গতকাল অন্য দিনের চেয়ে বেশি গাড়ি রাস্তায় নামে বলে জানিয়েছেন একাধিক পরিবহন শ্রমিক।
ঢাকা পরিবহনের একটি বাসের (ঢাকা মেট্রো ব ১৪ ২৮৮৩) সহকারী আবদুল কাদের মানবজমিনকে বলেন, সিটিং সার্ভিস আরো ১৫ দিন যে থাকবে তা সকালে জানতে পারিনি। লোকালে এক ট্রিপ মারার পর দুপুরে মালিক বলেছে আগের মতো সিটিং সার্ভিসের ভাড়া নিতে। দ্বিতীয় ট্রিপে তা নিতে গিয়ে যাত্রীদের অনেকের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছে। মারামারির অবস্থা। মালিক তো আমাদের কাছে বেশি টাকা চায়। কিন্তু ঝামেলা তো তাদের পোহাতে হয় না। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বৃহস্পতিবার আর ঝামেলা না করে শুক্রবার থেকে সিটিংয়ের ভাড়া উঠাবো। তবে বৃহস্পতিবার ঢাকা পরিবহনের প্রায় সব বাস চলাচল করেছে বলে জানান তিনি।
তানজিল পরিবহনের এক বাস (গাড়ি নম্বর জ ১৪-১৭৯৬) সহকারী রাকিব বলেন, আমরা আগের নিয়মে সিটিং সার্ভিসের ভাড়া ও ওয়াবিলে আজ গাড়ি চালাচ্ছি। আগে না নামলেও এখন আমাদের দু’একটি ছাড়া প্রায় বাস রাস্তায়। তবে ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে তর্কাতর্কি হচ্ছে। গত চারদিন প্রায় বাস না নামলেও গতকাল বিহঙ্গ পরিবহনের সব বাস নেমেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রো জ ১১-১২২৫ নম্বর বাসের সহকারী মিল্টন। একই বাসের যাত্রী ইডেন কলেজের মাস্টার্সের ছাত্রী এলিজাবেথ সুমি বলেন, গত চারদিনের আসা-যাওয়ায় বাস পেতে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছিল। তার মধ্যে কলেজ ছুটির পর শাহবাগে কয়েকটি গাড়ি মিস করে একঘণ্টা দেরিও হয়েছে। কিন্তু আজ (বৃহস্পতিবার) মিরপুর সাড়ে ১১-তে এসে দেখি কয়েকটি খালি বাস যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছে। তবে ভাড়া নিচ্ছে আগের মতোই। শাহবাগ পর্যন্ত ২৫টাকা নেয়া হয়েছে। সিটিংয়ের নামে এভাবে যাত্রীর পকেট থেকে প্রতি মাসে কোটি টাকা অতিরিক্ত চলে যাচ্ছে মালিকের পকেটে।
এছাড়া কাওরান বাজার মোড়ের কাছে এক ছাতার নিয়ে দাঁড়িয়ে গাড়িতে যাত্রীর সিটিং কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে দেখা গেছে হাজী পরিবহনের চেকার আবু নাইমসহ অন্যান্য গাড়ির ৭ জনকে। আবু নাইম বলেন, গত চারদিন টিকিট চেকিংয়ে যাত্রীর কটূক্তি শুনতে হয়েছে। আজ থেকে আবার সিটিং চালু হওয়ায় তা কমেছে। তবে সিটিংয়ের ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের ঝামেলা বেড়েছে।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Selina

২০১৭-০৪-২০ ১৬:৫৩:৫৯

Needs coordinated drastic step.

আপনার মতামত দিন

সমাপনীতে অনুপস্থিত ১৪৫৩৮৩ শিক্ষার্থী

ঈদ-ই মিলাদুন্নবি ২ ডিসেম্বর

দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য তারেক রহমানকে দরকার: এমাজউদ্দিন

দল থেকে বরখাস্ত মুগাবে

দেখা হলো, কথা হলো কাদের-ফখরুলের

আখতার হামিদ সিদ্দিকী আর নেই

ইইউ প্রতিনিধি ও তিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন

‘এবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো সুযোগ নেই’

নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না শেখ হাসিনার সরকার-নৌ মন্ত্রী

‘আমি ব্যবসায়িক প্রতিহিংসার শিকার’

সেনা মোতায়েন নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি : সিইসি

২০১৮ সালে প্রবল ভুমিকম্পের আশঙ্কা!

কেয়া চৌধুরী এমপি’র উপর হামলার ঘটনায় মামলা

বাংলাদেশের রাজনীতি, বিকাশমান মধ্যবিত্ত এবং কয়েকটি প্রশ্ন

সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এমপি গোলাম মোস্তফা আহমেদ

খেলার মাঠে দেয়াল ধসে দর্শক যুবকের মৃত্যু