ভেজাল মসলায় সয়লাব শ্রীমঙ্গল

বাংলারজমিন

এম ইদ্রিস আলী, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) থেকে | ২১ এপ্রিল ২০১৭, শুক্রবার
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বিভিন্ন মসলা মিলে পচা মরিচের বীজের সঙ্গে ধানের তুষ, চালের গুঁড়া ও বাসন্তি রং মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে খাঁটি ধনিয়া, জিরার ও মরিচের গুঁড়া। আর হলদির সঙ্গে চালের গুঁড়া ও হলুদ রং মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে হলুদের গুঁড়া। এভাবে ধনিয়ার সঙ্গে ধানের তুষ, কাঠের গুঁড়া ও এক ধরনের সেন্ট মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ধনিয়া ও জিরার গুঁড়া। আর এসব গুঁড়াই বিক্রি করা হচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ও গ্রামগঞ্জের বিভিন্ন দোকানে। প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ ভেজাল মসলা কিনে নিয়ে তৈরি করছেন দৈনন্দিন খাবারের তরিতরকারিসহ বিভিন্ন খাবার। এসব ভেজাল খাবার খেয়ে নিজের অজান্তেই মানুষ হয়ে পড়ছেন অসুস্থ। অনেকে নানা রোগ ব্যাধিতে মারাও যাচ্ছেন। প্রায়ই শ্রীমঙ্গল শহরে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয় ভেজাল ব্যবসায়ীদের। জরিমানা করার পর কিছু দিন অতিবাহিত হতে না হতেই তারা আবারো শুরু করে দেয় পুরোনো এ ব্যবসা।
এর আগে গত ৩রা এপ্রিল ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এবং আয়োডিনের অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধ আইন ১৯৮৯ এর বিভিন্ন ধারায় ৫টি প্রতিষ্ঠানকে ভেজাল লবণ বিক্রির দায়ে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৬.৫ টন আয়োডিনবিহীন লবণ জব্দ করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওইদিন বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পুরান বাজার ও পাইকারি বাজার সেন্ট্রাল রোডে এ অভিযান চালানো হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বজিৎ কুমার পালের নেতৃত্বে অভিযানে ছিলেন মৌলভীবাজার বিসিকের ডিএম ও প্রজেক্ট ডিরেক্টর হামিদুল হক চৌধুরী। গত সোমবার দুপুরে শ্রীমঙ্গল শহরের নতুনবাজার সোনারবাংলা রোডে আঙ্গুর মিয়ার মালিকানাধীন মাসুম মসলা মিলে দরজা বন্ধ করে ভেজাল মসলা তৈরি করা হচ্ছে এমন খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বজিৎ কুমার পাল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাতেনাতে ধরেন এ ভেজাল মসলা তৈরির সামগ্রী। সঙ্গে সঙ্গে মাবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এ প্রতিষ্ঠানের মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন আদায় করেন তিনি।  এসময় শ্রীমঙ্গল থানার এসআই ফজলে রাব্বি, এএসআই এনামুল হকসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্বজিৎ কুমার পাল বলেন, ফ্যাক্টরিতে ঢুকে দেখলাম হলুদ এবং মরিচের গুঁড়ার সঙ্গে ধানের তুষ ও রং মিশিয়ে তারা এগুলো বাজারজাত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এসময় আমরা মিলের তিন কর্মচারীকে আটক করি। তারা স্বীকার করে মসলার সঙ্গে এগুলো মিশায়’। মিলের শ্রমিকরা উপস্থিত জনগণের সামনেই মিলে তারা যেভাবে মসলায় ভেজাল দ্রব্য মিশ্রণ করে তা স্বীকার করে। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রায় ৪০০ কেজি ভেজাল মসলা জব্দ করে। পরে এ ভেজাল মসলাগুলো শহরতলির হবিগঞ্জ সড়কের ভুরবুড়িয়া ছড়ায় ফেলে দেয়া হয়।
জানতে চাইলে স্বাস্থ্য বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার সিভিল সার্জন সত্যকাম চক্রবর্তী জানান, যেকোনো খাদ্যের সঙ্গে অন্য যেকোনো খাদ্য মিশ্রণ দূষণীয়। এর ফলে দুই ধরনের মসলার সংমিশ্রণে সে মসলার গুণাগুণের বিকৃতি ঘটে। যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এর সঙ্গে সঙ্গে যদি ক্যামিকেল দিয়ে তৈরি এসব রং মানুষের পেটে যায় তখন বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি করে। এতে মানুষের গ্যাস্ট্রিক ও আন্ত্রিক রোগের সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও এই মসলার সঙ্গে ক্যামিকেল রং পেটে শোধন হওয়া পর পর এটি লিভার ও কিডনিকে ডেমেজ করার ক্ষমতা রাখে। এর দ্বারা অনেক সময় আমাদের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রও আক্রান্ত হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বজিৎ কুমার পাল বলেন, পর্যায়ক্রমে আমরা শ্রীমঙ্গল উপজেলার সবকটি মসলার মিলেই অভিযান পরিচালনা করব। ভেজাল ধরা পড়লেই তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসব।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন