পানামা পেপারস: নেতাকর্মীদের ৩ দিন ইসলামাবাদে অবস্থানের নির্দেশ ইমরান খানের

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ২০ এপ্রিল ২০১৭, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:০৩
পানামাগেট কেলেঙ্কারির রায়কে কেন্দ্র করে রাজধানী ইসলামাবাদে তিন দিন অবস্থান করতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ও পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ (পিটিআই) প্রধান ইমরান খান। আজ পাকিস্তানের স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় সুপ্রিম কোর্টের কোর্ট রুম-১ থেকে এ মামলায় চূড়ান্ত রায় দেবে সুপ্রিম কোর্ট। তাতে অভিযুক্ত হলে প্রধানমন্ত্রীর পদ হারাতে পারেন নওয়াজ শরীফ। পানামাগেট কেলেঙ্কারিতে ইমরান খানের নামও আছে। তিনি আয়কর ফাঁকি দিতে অফসোর কোম্পানিতে বিনিয়োগ করার কথাও স্বীকার করেছেন লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে। ফলে আজকের রায়ে তার বিষয়টিও থাকবে কিনা তা স্পষ্ট জানা যাচ্ছে না। পাকিস্তানের অনলাইন ডন লিখেছে, পিটিআই প্রধান ইমরান আজকের রায়কে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি যে নির্দেশনা দিয়েছেন তাতে বোঝা যায় তার বিষয়েও সিদ্ধান্ত দিতে পারেন আদালত।  দলীয় কৌশল নির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ নির্দেশনা দিয়েছেন। এ দলের নেতা শাহ মেহমুদ কুরেশি বুধবার এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন। বানি গালা’য়  এদিন দলীয় কেন্দ্রীয় মূল কমিটির বৈঠক হয়। তাতে যোগ দেয়ার পথে তিনি এ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তারা পানামা পেপারস ফাঁস নিয়ে আলোচনা বন্ধ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। তারা চেয়েছে এ ইস্যুটি মারা যাক। কিন্তু ইস্যুটিকে বাঁচিয়ে রেখেছে পিটিআই। তিনি বলেন, যদি তাদের দল এ ইস্যুটিকে এভাবে সামনের দিকে ঠেলে না দিতো তাহলে এ বিষয়টি অতলে হারিয়ে যেতো। তিনি আরো বলেছেন, পাকিস্তানের জনগণের সঙ্গে কথা বলেছে পিটিআই। এতে পরিষ্কার হয়েছে যে, তারা দুর্নীতি পছন্দ করে না। এক্ষেত্রে তিনি মিডিয়ার ভূমিকার প্রশংসা করেন। বলেন, সাংবাদিকরা টকশোর মাধ্যমে এবং পত্রিকাগুলো লেখনির মাধ্যমে এ ইস্যুটিকে টিকিয়ে রেখেছে। বেশ কিছুদিন আগে ইমরান খান বলেছিলেন, ১০ মাস ধরে পানামা পেপার ফাঁস নিয়ে পুরো দেশকে দ্বিধাদ্বন্দের মধ্যে ছিল। কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্র এ বিষয়ে কিছুই করছে না। তারা শুধু প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকেই সুরক্ষা দিচ্ছে। তার ভাষায় পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ) নেতৃত্বাধীন সরকার রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১৪ই মে অনলাইন ডন আরো একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, অফসোর কোম্পানির মাধ্যমে ইমরান খান লন্ডনে একটি ফ্লাট কিনেছেন বলে যে ডকুমেন্ট প্রকাশ হয়েছে তা তার দল প্রত্যাখ্যান করলেও ইমরান খান নিজে তা স্বীকার করেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন বৃটিশ আয়কর ফাঁকি দিতে ১৯৮৩ সালে লন্ডনে একটি ফ্লাট কিনতে গঠন করেছিলেন একটি অফসোর কোম্পানি। ওই রিপোর্টে বলা হয়, লন্ডনে হিথ্রো বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় ইমরান খান বলেন, আমার আয়ের শতকরা ৩৫ ভাগ পরিশোধ করেছি। তাই বাকি আয়কর ফাঁকি দিতে একটি অফসোর কোম্পানির মাধ্যমে একটি ফ্লাট কিনি। যেহেতু আমি বৃটিশ নাগরিক নই, তাই এ অধিকার আমার ছিল। 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন