পিএসসি থেকে এসএসসি

ধাপে ধাপে হারিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা

এক্সক্লুসিভ

চৌধুরী মুমতাজ আহমদ, সিলেট থেকে | ২০ এপ্রিল ২০১৭, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:১২
 শিক্ষা নিয়ে ব্যাপক সচেতনতার পরও সিলেটে ধাপে ধাপে ঝরে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক এ পর্যন্ত পৌঁছতে না পৌঁছতে শিক্ষাঙ্গন থেকে নাই হয়ে যাচ্ছে এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি শিক্ষার্থী। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিএসসি) পরীক্ষায় অংশ নেয়া প্রথম তিনটি ব্যাচের ধারাবাহিক বিশ্লেষণে আশঙ্কাজনক এমন চিত্র ধরা পড়েছে। পাঁচ বছরের পথ পরিক্রমায় মাধ্যমিক পরীক্ষার (এসএসসি) আগেই থেমে যাচ্ছে বিশাল অংশের শিক্ষাজীবন। এ পর্যন্ত পিএসসিতে অংশ নেয়া ৩টি ব্যাচ এসএসসিতে অংশ নিতে পেরেছে। সিলেট বিভাগে পিএসসি’র প্রথম ব্যাচে অংশ নেয়া ৩৯ ভাগই পৌঁছতে পারেনি এসএসসি পর্যন্ত। আর দ্বিতীয় ব্যাচের ৩৩ ভাগই আটকে যায় এসএসসি’র দুয়ার পর্যন্ত যাওয়ার আগেই। তৃতীয় ব্যাচের ৩৬ ভাগের সুযোগ হয়নি এসএসসি দেয়ার।
২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় সিলেট বিভাগ থেকে অংশ   পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ১
 নেয় ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৬৭ জন। সিলেট শিক্ষা বোর্ড থেকে পাওয়া তথ্য মতে এসএসসি পর্যন্ত পৌঁছুতে পৌঁছুতে এর মধ্য থেকে কমে যায় ৩৮.৭৮ ভাগ শিক্ষার্থী। ২০১০ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় সিলেট বিভাগ থেকে অংশ নেয় ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৫৪ জন। ৫ বছরের পথ পাড়ি দিয়ে এসএসসি পর্যন্ত পৌঁছতে পারেনি এর ৩৩.২৭ ভাগ শিক্ষার্থীই। ২০১১ সালে পিএসসিতে অংশ নেয়া ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৫৫ জন শিক্ষার্থীর ৩৬.০৯ ভাগই এসএসসি পরীক্ষার মঞ্চে উঠতে পারেনি।
সিলেট শিক্ষা বোর্ড ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সরবরাহকৃত তথ্যমতে, ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত পিএসসি যুগের প্রথম পরীক্ষায় সিলেট বিভাগ থেকে অংশ নেয় ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৬৭ জন শিক্ষার্থী। পিএসসি’র বাধা ডিঙিয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয় ৯২ হাজার ৭৬ জন। এরপর ৭ম ও অষ্টম শ্রেণির পাঠ শেষে পিএসসি’র প্রথম ব্যাচটি ২০১২ সালে অবতীর্ণ হয় জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায়। সে বছরের জেএসসিতে অংশ নেয় ৯০ হাজার ৬শ’ জন। অর্থাৎ পিএসসি থেকে জেএসসি পর্যন্ত পৌঁছুতে পৌঁছুতে কমে গেছে ২৭ হাজার ৬৭ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্য থেকে জেএসসি’র বৈতরণী পেরোতে সক্ষম হয় ৮১ হাজার ৯৪৯ জন। নবম ও দশম শ্রেণির পাঠ শেষে ২০১৫ সালে যখন পিএসসি’র প্রথম ব্যাচটি এসএসসি পরীক্ষার সামনে দাঁড়িয়ে তখন শিক্ষার্থীর সংখ্যা এসে ঠেকেছে ৭২ হাজার ২৪ জনে। শিক্ষাজীবনের পাঁচ বছরের পথ পাড়ি দিতে গিয়ে আটকে যায় ৪৫ হাজার ৬৪৩ জন শিক্ষার্থী।
২০১০ সালে পিএসসি’র দ্বিতীয় ব্যাচটি যখন পিএসসি পরীক্ষার মঞ্চে তখন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৫৪ জন। ২০১৩ সালে জেএসসি পরীক্ষা দেয়ার সময় এ ব্যাচের শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৫ হাজার ২৫০ জনে। ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার সময় তা গিয়ে ঠেকে ৮৪ হাজার ৪৪৮ জনে। শতকরা হিসেবে পাঁচ বছরে কমে গেছে ৩৩.২৭ ভাগ।
সিলেট শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৯৪ হাজার ১৬৭ জন। পিএসসি’র তৃতীয় ব্যাচটিই এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী। ২০১১ সালে যখন এ ব্যাচটি পিএসসিতে অংশ নিয়েছিলো তখন পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৫৫ জন। ২০১৪ সালে যখন এ ব্যাচটি জেএসসি’র লড়াইয়ে তখন পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৯ হাজার ৪৮৫ জনে। অর্থাৎ পাঁচ বছরে ধাপে ধাপে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৫৩ হাজার ১৮৮ জনে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অনেকেরই বক্তব্য পরীক্ষায় বাদ পড়ারা আসলে ঝরে পড়ছে না। পরের বছরগুলোতে তারা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। তবে বাস্তব চিত্র হচ্ছে পরীক্ষায় অকৃতকার্যদের মধ্যে বেশিরভাগই আর পরের বছরের অপেক্ষায় থাকে না। বিশেষ করে হাওর অধ্যুষিত সুনামগঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দাসহ বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই আর পড়ালেখার পথে যায় না। বই-খাতা গুটিয়ে অন্য পথ ধরে তারা।
ধাপে ধাপে শিক্ষার্থীর কমে যাওয়া প্রসঙ্গে কথা হয় শিক্ষাবিদ ও সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির এমিরেটাস প্রফেসর অধ্যাপক আবদুল আজিজের সঙ্গে। মানবজমিনকে তিনি বলেন, অন্যান্য দেশে নিচু স্তরে প্রায় সকল শিক্ষার্থীই উপরের দিকে উঠতে পারলেও আমাদের এখানে এমনটি হচ্ছে না। শিক্ষার হার বাড়াতে গিয়ে মানের প্রতি গুরুত্ব কমে যাওয়ায়ই এমনটি ঘটছে বলে এ শিক্ষাবিদ মনে করেন। সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির এ এমিরেটাস প্রফেসর মানবজমিনকে বলেন, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা যথেষ্ট শক্তিশালী নয়, স্কুল পর্যায়ে পড়ালেখার মান ভালো না হওয়ায় উপরের পর্যায়ে তারা আর প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে পিছিয়ে যায়, ঝরে পড়ে।
মানের কারণে শিক্ষার্থীরা ধাপে ধাপে ঝরে পড়ছে এটা মানতে চান না সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া তাপাদার। তবে তিনিও স্বীকার করেছেন পিএসসি পরীক্ষা খুব একটা মানসম্পন্ন হয় না। তিনি যোগ করেন এটা আসলে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলতেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মানের সংকট না হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে মেধার সংকট রয়েছে বলে তিনি মানবজমিনের কাছে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মেধার সংকটের কারণে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতেও যেমন অকৃতকার্য হচ্ছে শিক্ষার্থীরা তেমনি নবম শ্রেণি এবং টেস্ট পরীক্ষাতেও অনেকে আটকে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এলাকাভিত্তিক সমাজব্যবস্থা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পিছিয়ে থাকাও এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

যুবলীগ নেতাকে অস্ত্রের মুখে অপহরন

ধুমপানে বাধা দেয়ায় দোকানিকে সিগারেটের ছ্যাঁকা

পারমাণবিক যুদ্ধের হিম আতঙ্ক

লেবার নেতা হিসেবে সাদিক খানকে দেখতে চান বৃটিশ ভোটাররা

রোহিঙ্গাদের সমর্থনে বোস্টনে প্রতিবাদ বিক্ষোভ

কর্ণফুলীতে বিএনপির তিন প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন

মনিপুর থেকে ১০৭ ‘বাংলাদেশী’ পুশব্যাক

পূর্ব লন্ডনে এসিড হামলায় আহত ৬

সাদুল্যাপুরে ১১২ মেট্রিক টন চাল জব্দ, গুদাম সিলগালা

রোহিঙ্গা ইস্যুতে এবার বিমসটেকেও ছায়া পড়েছে

রাজধানীতে আগুনে পুড়ে নিহত ১

চতুর্থ দফা ক্ষমতার দিকে দৃষ্টি মার্কেলের

‘অযথা এসব গুঞ্জনের কোন মানে হয় না’

সন্তানের নাড়ি কাটার সময়ও পাননি হামিদা

সেনাবাহিনীর কার্যক্রম শুরু, ফিরছে শৃঙ্খলা

কাল থেকে গণশুনানি