আগাম নির্বাচন: সর্বনাশ হতে পারে লেবার দলের, ধ্বংস হতে পারে ইউকিপ

বিশ্বজমিন

ড্যারেন ম্যাকাফ্রে | ১৯ এপ্রিল ২০১৭, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:০৫
১৯৮৩ সাল। লেবার দলে তখন জনপ্রিয়তা নেই এমন একজন নেতা একজন নারী প্রধানমন্ত্রীর মুখোমুখি। ওই নারী প্রধানমন্ত্রী (মার্গারেট থ্যাচার) তখন অনায়াসেই ডাউনিং স্ট্রিট নিশ্চিত করেছেন। চারদিকে তখন আশাবাদ, কনজার্ভেটিভ দল বিজয়ী হবে (থ্যাচার এ দলেরই নেত্রী)।
মিসেস থ্যাচার পেরেছিলেন। তখন লেবার দল পেয়েছিল ২০৯ আসন। তার ফলশ্রুতিতে লেবার দলের তখনকার নেতা মাইকেল ফুট পদত্যাগ করেন।
৩৪ বছর পর সেই ইতিহাস কি আবার ফিরে আসবে?
ভালো কথা। যদি জনমত জরিপ সঠিক হয় তাহলে সেই সময়ের চেয়ে ২০১৭ সালে লেবার দল আরো অনেক অনেক বেশি খারাপ করবে।
মঙ্গলবার ইউগভ জরিপ প্রকাশিত হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, কনজার্ভেটিভ দল ২১ পয়েন্টে এগিয়ে আছে। সপ্তাহান্তে কমরেস জরিপ প্রকাশ করে। তাতেও একই ফল দেখা গেছে।
বর্তমান যে পরিস্থিতি বা পূর্বাভাষ মিলছে তাতে বিরোধী লেবার দল ২০০ আসনেরও কম পেতে পারে নির্বাচনে। ১৯৩৫ সালের নির্বাচনের পর এত কমসংখ্যক আসন কখনো পায়নি লেবাররা। ওই সময়ে তারা মাত্র ১৩৫টি আসনে বিজয় পেয়েছিল।
বিস্ময়ের কিছু নেই। প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে আগাম নির্বাচন ঘোষণা করেছেন।
এতে ঘায়েল শুধু লেবাররাই হবে এমন নয়।
পূর্বাভাষ মিলছে, এই নির্বাচনে আরো বেশি ঘায়েল হবে ইউকিপ দল। নির্বাচন কি কার্যত এই দলটিকে নিঃশ্বেষ করে দেবে?
ইউকিপ দলে বর্তমানে কোনো এমপি নেই। (অর্থাৎ পার্লামেন্টে তাদের কোনো প্রতিনিধি নেই)। প্রতিনিধিত্বের দিক দিয়ে এর চেয়ে আর কি খারাপ করার আছে তাদের। ব্রেক্সিট গণভোটের পর তাদের কার্যক্রম দৃশ্যত হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। তারা ২০১৫ সালে ৩৯ লাখ ভোট পেয়েছিল। সেই ভোট কি বিধ্বস্ত স্তূপে পরিণত হবে এবং একটি বড় রাজনৈতিক দলের মর্যাদা এভাবে হারিয়ে যাবে?
কি এক বিস্ময়কর রাজনৈতিক পরিণতি! কনজার্ভেটিভ নেতা, যিনি বিরোধী লেবার দলকে দুমড়ে মুষড়ে (ক্র্যাশড) দিয়েছেন, ধ্বংস করে দিয়েছেন ইউকিপকেÑ তার কাছে এটা সম্ভব।
তারপরও বিরোধীরা টিকে থাকবে। স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (এসএনপি) হয়তো দুর্ভোগে পড়বে। তা সত্ত্বেও তারা সীমান্তের উত্তরাঞ্চলে প্রাধান্য বিস্তারকারী শক্তি হিসেবে থাকবে।
আর রইল লিবারেল ডেমোক্রেট (লিব ডেম) দলের কথা। সেই ১৯৮৩ সালের কথায় ফিরে যাই। তখন এসডিপি-লিবারেল এলায়েন্স শতকরা মাত্র ২৫ ভাগ ভোট পেয়েছিল। হ্যাঁ, মাত্র ২৫ ভাগ। তখন তারা মাত্র ২৩টি আসন পেয়েছিল।
জনমত জরিপ অনুযায়ী সেই লিবারেল ডেমোক্রেটরা এখন সমর্থন পেয়েছেন শতকরা মাত্র ১২ ভাগ। ফলে তারা সেই সময়ের শতকরা ২৫ ভাগ ভোট যে এবার পাবে তাও অনুমান করা দুস্কর। তবে তাদের জনপ্রিয়তা ক্রমশ উন্নত হচ্ছে। তারা সর্বশেষ স্থানীয় উপনির্বাচনে কয়েক ডজন স্থানে বিজয়ী হয়েছে। অতি সম্প্রতি জিতেছে রিচমন্ডে। সেই বিষয় জুনের নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হয়। বিশেষ করে শহুরে মধ্যবিত্তরা তাদের ভোট দিতে পারে। তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ক্ষমতাসীন কনজার্ভেটিভ।
১৯৮৩ সালের সঙ্গে তুলনা করা সত্ত্বেও, জনমত জরিপ সত্ত্বেও এ জন্যই এখনও অনেকে বলেন প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে-র সামনে ঝুঁকি আছে।
লক্ষ্য রাখার বিষয় হলোÑ আগের অন্য নির্বাচনগুলোর মতো নয় ৮ই জুনের নির্বাচন। এ নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জয়-পরাজয়ের লড়াই নয়। এটা গত বছরের ব্রেক্সিট সংক্রান্ত গণভোটের একটি অব্যাহত ধারা। এটাকে বলা যেতে পারে ব্রেক্সিট ইলেকশন।
কিছু আসনে এ বিষয়টি খুব প্রভাব ফেলবে। এতেও কি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে থাকা না থাকা নিয়ে ভোটাররা তাদের গোপন বাসনার প্রকাশ ঘটাবেন। এমনই অনেক প্রশ্ন এখন বৃটেনে। আর ৫১ দিন পরেই জানা যাবে এসব প্রশ্নের উত্তর। ততক্ষণ পর্যন্ত মাথা ঠাণ্ডা রাখুন।
(ড্যারেন ম্যাকাফ্রে স্কাই নিউজের পলিটিক্যাল করেসপন্ডেন্ট। আজ বুধবার অনলাইন স্কাই নিউজে প্রকাশিত তার লেখার অনুবাদ)
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন