যুক্তরাষ্ট্রে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট থেকে নামিয়ে দেয়া হলো যুগলকে

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৮ এপ্রিল ২০১৭, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:০৮
মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধান। এর মধ্যেই ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স তার আরেকটি ফ্লাইট থেকে নামিয়ে দিলো বিয়ে করতে যাওয়া এক দম্পতিকে। অতঃপর বিমানে অনেক খালি আসন নিয়েই তা আকাশে উড়ল। এ ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে। সেখানে একটি ফ্লাইটে কোস্টারিকা যাওয়ার কথা ছিল ওই যুগলের। তারা হলেন মাইকেল হোল এবং তার প্রণয়ী অ্যাম্বার ম্যাক্সওয়েল। তারা বলেছেন, ভুল আসনে বসার কারণে তাদেরকে ফেডারেল মার্শালরা বিমান থেকে জোর করে নামিয়ে আনে। ওই যুগল স্থানীয় মিডিয়াকে বলেছেন, বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ফ্লাইটে তাদের কোস্টারিকা যাওয়ার কথা ছিল। এর পরে সেদিন আর কোনো ফ্লাইট ছিল না। ফলে তারা যথারীতি বিমানে ওঠেন। দেখতে পান তাদের জন্য বরাদ্দকৃত ইকোনমি ক্লাসের আসনে বসে ঘুমাচ্ছেন এক ব্যক্তি। এ সময় তারা তাকে বিরক্ত না করার সিদ্ধান্ত নেন। কয়েক সারি সামনে গিয়ে ফাঁকা আসনে বসে পড়েন। মাইকেল হোল বলেন, আমরা কোনো লোভে সামনের সারিতে যাই নি। এমন কি ফার্স্ট ক্লাসের কোনো আসনেও বসি নি। আমাদের কাছে এটা বড় কোনো বিষয় ছিল না। আমরা যা করেছি তা হলো, মাত্র কয়েক সারি সামনে গিয়ে ইকোনমিক ক্লাসের আসনে বসেছি। কিন্তু সমস্যা হলো অন্য জায়গায়। এই যুগল যে আসনে বসেছিলেন তাকে ‘ইকোনমি প্লাস’ ক্যাটাগরিতে ফেলে কর্তৃপক্ষ বিক্রি করে দিয়েছিল। ফলে একজন বিমানবালা তাদেরকে আসন ছেড়ে দিয়ে তাদের আসনে বসতে বলেন। তাদের কথামতো ওই যুগল তাই করেন। মাইকেল হোল বলেন, কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের এয়ার মার্শালরা প্রবেশ করেন বিমানের ভিতরে। তারা তাদেরকে বিমান থেকে নেমে যেতে বলেন। তাদেরকে জোর করে নামিয়ে নেয়া হয়। মাইকেল হোল বলেন, এতে তারা ওই ফ্লাইটে যেতে পারেন নি। ফলে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছে অনেক দেরিতে। কিন্তু বিমান সংস্থাটি যে বক্তব্য দিয়েছে তা মাইকেল হোলের বক্তব্যের বিরোধী। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স বিবৃতিতে বলেছে, কোনো যাত্রী তার প্রত্যাশা থেকে বঞ্চিত হোন এমনটা চাওয়া আমাদের কাছে হতাশার। ওই যুগল বার বারই সামনের আসনে বসার চেষ্টা করেছেন, যে আসনের টিকেন তারা কেনেন নি। তাদের জন্য নির্ধারিত আসনে ফিরে আসার আহ্বানেও তারা সাড়া দেন নি। পরে তাদেরকে পরের দিনের ফ্লাইটে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু মাইকেল হোল বলেছেন, তাদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে তা ভয়ানক। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেও ৬৯ বছর বয়সী একজন চিকিৎসক ডেভিড ডাও’কে জোর করে এ বিমান সংস্থার একটি ফ্লাইট থেকে নামিয়ে আনা হয়। তখন তার নাক মুখ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। সে ছবি সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ার পর বিমান সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অস্কার মুনোজ ক্ষমা চেয়েছেন ডেভিড ডেও-এর কাছে।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন