গণভোটে বিজয়ী এরদোগান ‘অসীম ক্ষমতার মালিক’

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৭ এপ্রিল ২০১৭, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:৫২
সামান্য ভোটের ব্যবধানে গণভোটে বিজয়ী হলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান। আর এর মধ্য দিয়ে অসীম ক্ষমতার মালিক হয়ে উঠলেন তিনি। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে অর্জিত তার এ ক্ষমতাকে পশ্চিমা বিশ্লেষকরা এভাবেই মূল্যয়ান করেছেন। ইচ্ছে করলেই বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ করতে পারবেন। নিজে নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন কখন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হবে কি হবে না। বাতিল করে দিতে পারবেন প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ।
তার এ বিজয়ে উল্লসিত তার সমর্থকরা। অন্যদিকে আতঙ্কে কাঁপছে বিরোধীরা। অনলাইন বিবিসি বলছে, নির্বাচনের শতকরা ৯৯.৪৫ ভাগ ব্যালট গণনা হয়ে গেছে। তাতে রিসেপ তায়্যিপ এরদোগানের পক্ষে বা ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট পড়েছে শতকরা ৫১.৩৭ ভাগ। ‘না’ ভোট পড়েছে শতকরা ৪৮.৬৩ ভাগ। নির্বাচন কমিশন ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়যুক্ত ঘোষণা করেছে। এর ফলে এরদোগান ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার পথ পাকা করলেন। সংশোধিত সংবিধানে বলা হয়েছে একজন প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ দু’দফা ক্ষমতায় থাকতে পারবেন। আগামী প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন হবে ২০১৯ সালের ৩রা নভেম্বর। এর মধ্য দিয়ে তুরস্কে ইতি ঘটছে পার্লামেন্টারি শাসন ব্যবস্থা। তার পরিবর্তে তুরস্ক ফিরেছে প্রেসিডেন্সিয়াল শাসনে। প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সমর্থকরা বলছেন, পার্লামেন্টারি ব্যবস্থার বদলে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতায় দেশ প্রত্যাবর্তনে দেশ আরো আধুনিক হবে। তবে বিরোধী দলগুলো এ নির্বাচনের ফল মেনে নিতে পারছে না। তারা বলছে, নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করবে তারা। বিরোধীদের অন্যতম দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি) মোট ভোটের শতকরা ৬০ ভাগ নতুন করে গণনার দাবি তুলেছে। সিল ছাপ্পর মারা হয় নি এমন ব্যালটও গণনায় ধরা হয়েছে বলে তাদের দাবি। ওদিকে এরদোগানের উল্লসিত সমর্থকরা বড় বড় শহর, বন্দর, পাড়া মহল্লায় বিজয় র‌্যালি বের করেছেন। তবে বিরোধীরা এর প্রতিবাদে র‌্যালি করেছেন ইস্তাম্বুলে। তাদের হাতে এ সময় ছিল নানা রকম হাড়িপাতিল, কড়াই। প্রতিবাদ হিসেবে তারা এগুলোকে ব্যবহার করেছেন। তুরস্কে এটাও প্রতিবাদ জানানোর একটি রীতি। ওদিকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ দিয়ারবাকিরে একটি ভোট কেন্দ্রের কাছে তিন ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। কিভাবে তারা ভোট দিয়েছেন তা নিয়ে বিরোধের এক পর্যায়ে ওই ঘটনা ঘটে। নির্বাচনের পর প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। তারা তুরস্ক কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংবিধান সংশোধনের পর ব্যাপক জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে তা বাস্তবায়ন করতে। আঙ্কারা থেকে বিবিসির সাংবাদিক মার্ক লোয়েন বলছেন, ক্ষমতাসীন দল একে পার্টির (একেপি) প্রধান কার্যালয় আঙ্কারায়। তার বাইরে গত রাতভর ছিল উল্লাস। নেতা সমর্থকরা আনন্দ প্রকাশ করেছেন। প্রেসিডেন্ট এরদোগান ও তার সরকার বলেছে, শতকরা ৫১ ভাগেরও বেশি ভোটার সংবিধান সংশোধনকে অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু বিরোধীরা তাদের এ দাবিকে ‘ফাউল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তারা বলেছে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে ভোটে। বাতিল হয়ে যাওয়া ভোটও গণনায় নেয়া হয়েছে। তাই তারা সুপ্রিম নির্বাচনী বোর্ডের কাছে এ ফলের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানাবে। তবে এরদোগানের দাবি, বিজয় স্পষ্ট। এ বিজয়কে সম্মান জানানো উচিত। ইস্তাম্বুলে সরকারি বাসভবন হুবার প্যালেসে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেছেন, তুরস্ক একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারটি করেছি। এ সময় তিনি নির্বাচনের ফল মেনে নিতে ও তার প্রতি সম্মান দেখাতে আহ্বান জানান সবার প্রতি। তিনি আরো বলেছেন, দেশে শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদন্ড পুনর্বহাল করতে তার দেশ আরও একটি গণভোট করবে। বিশেষ করে গত বছর ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের পর যেসব মানুষকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে অথবা গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের বিচারে হতে পারে সর্বোচ্চ শাস্তি। প্রেসিডেন্ট এরদোগান এ বিষয়ে অনেক আগেই পরিষ্কার করে বলেছেন। তিনি বলেছেন, পার্লামেন্ট অনুমোদন দিলে মৃত্যুদন্ড পুনর্বহাল করার বিলে তিনি স্বাক্ষর করবেন। যদি সেটাই করেন তাহলে তুরস্কে ফাঁসি হতে পারে কয়েক হাজার মানুষের।
কি আছে নতুন সংবিধানে:
নতুন এ সংবিধান অনুযায়ী ২০১৯ সালের ৩রা নভেম্বর তুরস্কে হবে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন। তাতে প্রেকিডেন্টের এক দফার মেয়াদ হবে ৫ বছর। একজন প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ দু’দফায় ক্ষমতায় থাকতে পারবেন। মন্ত্রী সহ যেকোনো শীর্ষ স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাকে সরাসরি নিজেই নিয়োগ দিতে পারবেন প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে একজন বা কয়েকজন ভাইস প্রেসিডেন্ট নিয়োগ দিতে পারবেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম। তার পদ বাতিল হয়ে যাবে। বিচার বিভাগে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবেন প্রেসিডেন্ট। এরদোগানের অভিযোগ গত বছরের ব্যর্থ অভ্যুথ্থানের সঙ্গে জড়িতদের দোসররা বসে আছে এই বিচার বিভাগেও। জরুরি অবস্থা জারির বিষয়ে তিনি একাই সিদ্ধান্ত নেবেন।
কেন এই গণভোট:
গত বছর তুরস্কে সামরিক অভ্যুত্থানের ব্যর্থ চেষ্টা হয়। এরদোগান বলেন, ওই অভ্যুত্থান চেষ্টার ৯ মাস পরে তুরস্কের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের দিকে দৃষ্টি দেয়া হয়েছে। তাই এ পরিবর্তন প্রয়োজন ছিল। অতীতে যে ভঙ্গুর জোট সরকার ছিল সে অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার জন্য এটার প্রয়োজন ছিল। তার যুক্তি এমন একই রকম সরকার আছে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রে।
 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Imran

২০১৭-০৪-১৭ ০১:৩১:১২

Great lieder.

Abdus samad

২০১৭-০৪-১৭ ০০:০৪:৩৬

I agree with Erdogan. He is a cherismetic leader at this time. His working is for Turky's people & muslim ummah. May Allah help him.

Iman Uddin

২০১৭-০৪-১৬ ২৩:০৩:২৬

Congratulations

আপনার মতামত দিন

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের প্রস্তাব, যা বললেন মুখপাত্র...

দুদকের মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন মেয়র সাক্কু

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন টিটু রায়

আনসারুল্লাহ’র দুই জঙ্গি কলকাতায় গ্রেপ্তার

‘আওয়ামী লীগ ৪০টির বেশি আসন পাবে না’

মায়ের বুক থেকে চুরি হওয়া শিশুটি উদ্ধার

চট্টগ্রামে সাইকেল আরোহীর পা ভাঙায় বাসে আগুন

নাইজেরিয়ায় মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত ৫০

উত্তর কোরিয়াকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক বললেন ট্রাম্প

আ’লীগের দুই গ্রুপের সমাবেশ, ১৪৪ ধারা

‘নিজাম হাজারীর ক্যাডাররা খালেদার গাড়িবহরে হামলা করেছে’

যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগে বরখাস্ত মার্কিন এই টিভি উপস্থাপক

নিখোঁজের ৪ দিন পর বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে এ সপ্তাহেই চুক্তি হবে- সুচি

সাকিবকে গুনতে হচ্ছে জরিমানা

সশস্ত্র বাহিনী জাতির এক গর্বিত প্রতিষ্ঠান: খালেদা জিয়া