তুরস্কে গুরুত্বপূর্ণ গণভোট অনুষ্ঠিত

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৭ এপ্রিল ২০১৭, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:৩১
তুরস্কে প্রেসিডেন্ট শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ গণভোটে ভোট দিয়েছে দেশটির জনগণ। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেই পাল্টে যাবে সংবিধান। তুরস্কের শাসন ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রী শাসিত সংসদীয় ব্যবস্থা থেকে প্রেসিডেন্ট-শাসিত ব্যবস্থায় পরিণত হবে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান হবেন সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী। এ খবর দিয়েছে আল-জাজিরা।
খবরে বলা হয়, তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলে সর্বপ্রথম স্থানীয় সময় সকাল সাতটা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ভোটগ্রহণ শুরু হয় সকাল আটটা থেকে। রোববার দিন শেষে অনানুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। গণভোটে জয়ী হলে প্রেসিডেন্টের হাতে নতুন মন্ত্রী নিয়োগ করা, উচ্চ পর্যায়ের রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নিয়োগ দেয়া ও অপসারণের ক্ষমতা থাকবে। এমনকি দেশের সর্বোচ্চ বিচারিক সংস্থাগুলোর অর্ধেকের বেশি সদস্য নিয়োগের ক্ষমতা থাকবে এরদোগানের হাতে। এছাড়াও পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়া, নির্বাহী ডিক্রি জারি ও জরুরি অবস্থা জারির ক্ষমতাও অর্জন করবেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। প্রেসিডেন্ট এরদোগান নিজ শহর ইস্তাম্বুলে সর্বশেষ প্রচারণা সমাবেশে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘(এই নতুন ব্যবস্থা) আমাদের দেশের জন্য প্রয়োজনীয় স্থিতিশীল ও নিরাপদ পরিবেশকে আরো সুদৃঢ় করবে।’ প্রস্তাবিত এই সংবিধান পরিবর্তনে সমর্থন রয়েছে এরদোগান, তার প্রতিষ্ঠিত জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একে পার্টি) ও উগ্র ডানপন্থি ন্যাশনালিস্ট অ্যাকশন পার্টির (এমএইচপি)। প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি), কুর্দিপন্থি পিপলস ডেমোক্রেসি পার্টি (এইচডিপি) ও অন্যান্য দল এই গণভোটের বিরোধিতা করছে।
বিরোধীরা বলছেন, ‘প্রস্তাবিত সংশোধনী সরকারের ক্ষমতার বিভাজনের পতন ঘটিয়ে একজন মানুষকে অনেক বেশি ক্ষমতার অধিকারী করে ফেলবে।’ আঙ্কারাতে ‘না’ ভোট দেয়ার পক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে সিএইচপি নেতা কেমাল কিলিকডারুগ্লু বলেছেন, ‘আমরা তুরস্কের ভবিষ্যতের জন্য ভোট দেব। আপনি কি আপনার সন্তানকে ব্রেকবিহীন ট্রেনে চড়তে দেবেন?’ তুরস্কের সাবেক প্রেসিডেন্টরা সাধারণত নিরপেক্ষ ও নামমাত্র ভূমিকা পালন করে গেছেন। তবে ২০১৪ সালে এরদোগান প্রেসিডেন্টের পদ গ্রহণ করার পর থেকে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়কে রাজনৈতিকভাবে অনেক বেশি সক্রিয় করে তুলেছেন। ২০১০ সালে আরেক গণভোটে কিছু সাংবিধানিক পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিলে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আর এরদোগানই বনে যান নির্বাচনে বিজয়ী প্রথম প্রেসিডেন্ট। সমালোচকরা বলছেন, এরদোগানের শাসন ক্রমেই স্বৈরশাসনে রূপ নিচ্ছে। তাই প্রস্তাবিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় পড়লে, তিনি আরো ক্ষমতা কুক্ষিগত করবেন। ক্ষমতায় থাকা একরকম নিশ্চিত হয়ে যাবে অনেক বছর। উল্লেখ্য, গত বছর একটি সামরিক অভ্যুত্থানের ব্যর্থ চেষ্টা চালানো হয় এরদোগানের বিরুদ্ধে। ওই অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশে জরুরি অবস্থা জারি রয়েছে। অভ্যুত্থানের পর বিরোধী ও ভিন্নমতাবলম্বী বলে পরিচিত হাজার হাজার পেশাজীবীকে আটক করেছে সরকার। জোর করে ভিন্নমতাবলম্বী গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সরকার।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

কর্ণফুলীতে বিএনপির তিন প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন

পূর্ব লন্ডনে এসিড হামলায় আহত ৬

সাদুল্যাপুরে ১১২ মেট্রিক টন চাল জব্দ, গুদাম সিলগালা

রোহিঙ্গা ইস্যুতে এবার বিমসটেকেও ছায়া পড়েছে

রাজধানীতে আগুনে পুড়ে নিহত ১

চতুর্থ দফা ক্ষমতার দিকে দৃষ্টি মার্কেলের

‘অযথা এসব গুঞ্জনের কোন মানে হয় না’

সন্তানের নাড়ি কাটার সময়ও পাননি হামিদা

সেনাবাহিনীর কার্যক্রম শুরু, ফিরছে শৃঙ্খলা

কাল থেকে গণশুনানি

সার্ক সম্মেলন নিয়ে এবারও অনিশ্চয়তা

মাদরাসায় শিক্ষক নিয়োগ মন্ত্রণালয়ে অভিযোগের স্তূপ

যেখানে এখনো পৌঁছেনি ত্রাণ

স্বস্তিতে বিএনপি আওয়ামী লীগ টেনশনে

চলছে পূজার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

বজ্রপাতে নিহত ১১