তিস্তায় ৮ ড্যাম পরিদর্শনে ভারতের পার্লামেন্টারি কমিটি

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৭ এপ্রিল ২০১৭, সোমবার
 পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে সিকিমে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত ৮টি ড্যাম পরিদর্শনে পার্লামেন্টারি কমিটি অন এনার্জির একটি দল পাঠাচ্ছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ২৩শে এপ্রিল ওই দলটির সেখানে যাওয়ার কথা রয়েছে। তারা সেখানে গিয়ে ড্যাম ও তিস্তার প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করবেন। পরীক্ষা করে দেখবেন কোনোভাবে তিস্তার পানি প্রবাহ বিঘ্নিত হচ্ছে কিনা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। এতে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রস্তুত করা একটি রিপোর্ট ইঙ্গিত দেয়, যা বাস্তব বিষয় তা নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে লড়াই চালিয়ে নেয়া উচিত হবে না। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের কৃষকদের শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য যে পরিমাণ পানির প্রয়োজন তিস্তায় বর্তমানে আছে মাত্র ১৬ ভাগ। উল্লেখ্য, এ দুটি দেশেই ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়কে খরা বা শুষ্ক মৌসুম ধরা হয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি ওই রিপোর্ট প্রস্তুত করেছে। এতে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়ে দু’দেশের কৃষকদের প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১৬০০ ঘন মিটার পানির প্রয়োজন। কিন্তু তিস্তায় যে পানি আছে তার প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে মাত্র ১০০ ঘন মিটার। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সচিবালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, ওই রিপোর্টে যে হিসাব তুলে ধরা হয়েছে তা অনুমিত। তবে তিস্তায় পর্যাপ্ত পরিমাণ পানির প্রবাহ নেই। যদি এখন শতকরা ৫০ ভাগ পানি বাংলাদেশকে দিয়ে দেয়া হয় তাহলে তাতে শুধু বাংলাদেশের স্বার্থ পূরণেই ব্যর্থ হবে না। একই সঙ্গে এতে নিশ্চিত হবে, উত্তরবঙ্গ মারাত্মক খরার মুখে পড়বে। ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী বাংলাদেশকে পানি দেয়ার বিরোধী নন। কিন্তু তিনি তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে আপত্তি করছেন। এর কারণ, আদতে তিস্তায় পানি নেই বললেই চলে। তিস্তা বাদে আরো ৫৪টি নদী আছে। এসব নদী পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। রাজ্য সরকার এসব নদীর পানি বণ্টনে প্রস্তুত। উল্লেখ্য, নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতে এই একই কথা বলেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার সরকারের তৈরি করা রিপোর্টটি পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের ১৬ লাখ হেক্টরেরও বেশি জমিতে পানি সরবরাহ আসে তিস্তা থেকে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ৯.২ লাখ হেক্টর। বাংলাদেশে ৬.৮ লাখ হেক্টর। সরকারের ওই কর্মকর্তা বলেছেন, তিস্তার ওপর নির্ভর করে সীমান্তের দু’পাড়ে দুটি দেশের আয়তনের দিকে যদি আমরা একবার তাকাই তাহলে দেখা যাবে প্রতি সেকেন্ডে ৯২০ ঘন মিটার পানি পাওয়া উচিত পশ্চিমবঙ্গের এবং বাংলাদেশের পাওয়া উচিত ৬৮০ ঘন মিটার। কিন্তু ওই নদীর পানির প্রবাহ এখন এতটাই কম যে, তিস্তার ওপর নির্ভর করে যে সেচকাজ হয় তা রাজ্য সরকার মাত্র ৫২ হাজার হেক্টরে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুধু এতে বাংলাদেশ দাবি মিটবে না।

কিন্তু সাম্প্রতিক সফরের সময় শেখ হাসিনা দর কষাকষি করেছেন। তিনি বলেছেন, ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসা পর্যন্তও বাংলাদেশ আরো বেশি পানি পেতো। এখন শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ প্রতি সেকেন্ডে মাত্র ২০ ঘন মিটার পানি পাচ্ছে। এর বেশির ভাগই আসছে তিস্তার শাখা ধরলা থেকে।
তারপর নরেন্দ্র মোদি ও শেখ হাসিনাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, সিকিমে তিস্তার ওপর যে ৮টি ড্যাম নির্মাণ করা হয়েছে তার মাধ্যমে শতকরা ৬০ ভাগ পানি প্রত্যাহার করা হচ্ছে শুষ্ক মৌসুমে। ফলে উত্তরবঙ্গের জন্য পড়ে থাকছে মাত্র ৪০ ভাগ পানি।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন