অভ্যুত্থান চেষ্টা: যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ রাজনীতিক, পদস্থ কর্মকর্তা ও শিক্ষাবিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে তুরস্ক

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৬ এপ্রিল ২০১৭, রবিবার
তুরস্কে সংবিধান সংশোধন করা নিয়ে শুরু হয়েছে গণভোট। পাশাপাশি গত বছর সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানকে ক্ষমতাচ্যুত করার ব্যর্থ চেষ্টার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ জন রাজনীতিক, সরকারি পদস্থ কর্মকর্তা ও শিক্ষাবিদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছেন তুরস্কের প্রসিকিউটররা। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যেসব কর্মকর্তা বা রাজনীতিকের বিরুদ্ধে এমন তদন্ত করা হচ্ছে তার মধ্যে অন্যতম হলেন সিআইএ’র সাবেক পরিচালক জন ব্রেনান, সিআইএ’র সাবেক উপ পরিচালক ডেভিড কোহেন, সিনেট সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার, নিউ ইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট-এ যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এটর্নি প্রীত ভারারা, উইলসন সেন্টারে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক কর্মসূচির পরিচালক হেনরি বারকি। শনিবার তুরস্কের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত একটি সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়, এসব কর্মকর্তা গত বছর তুরস্কের বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর সামরিক অভ্যুত্থান চেষ্টায় সহযোগিতা দিয়েছিলেন। ইস্তাম্বুলে প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটরের অফিস এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে নানা দিক থেকে তদন্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এসব কর্মকর্তার তুরস্ক আগমন, তুরস্কে থাকাকালীন তারা কার কার সঙ্গে বৈঠক করেছেন, তুরস্কের নির্বাসিত নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনের সঙ্গে তাদের কোনো যোগসূত্র আছে কিনা, অথবা গুলেন মুভমেন্টের সঙ্গে তারা জড়িত কিনা এসবই উঠে আসবে তদন্তে। উল্লেখ্য, গত বছর ১৫ই জুলাই রক্তাক্ত এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করা হয়। রাস্তায় নামানো হয় ট্যাংক। ইস্তাম্বুলে ও আঙ্কারায় ফেলা হয় বোমা। সেনারা ব্যারাক ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। কিন্তু কিন্তু জনতার প্রতিরোধের মুখে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এতে কমপক্ষে ২৪১ জন নিহত হন। আহত হন ২১৯৪ জন। অভ্যুত্থান চেষ্টার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী তুর্কি  নেতা ফেতুল্লাহ গুলেন ও তার সমর্থকদের দায়ী করে তুরস্ক সরকার। উল্লেখ্য, ১৯৯০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন গুলেন। তিনি উদারমনা মুসলিম ধর্মীয় নেতা। ২০১৩ সালে তার চেয়ে অধিক রক্ষণশীল এরদোগানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার লড়াই করেছিলেন গুলেন। সেই গুলেনের সঙ্গে বা অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ওই ১৭ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এখন তদন্ত হচ্ছে। দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে হেনরি বারকি এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, অনেক বছর গুলেনের সঙ্গে তার কথাই হয় না। তিনি মনে করেন, রোববার যেহেতু সংবিধান সংশোধনের ওপর গণভোট চলছে তাই এ ভোটকে প্রভাবিত করতে পশ্চিমাবিরোধী একটি জিকির তুলতে সরকার এমন ব্যবস্থা নিয়েছে।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন