হাইতিতে শান্তিরক্ষী বাহিনীর বিরুদ্ধে শিশু যৌন নির্যাতনে জড়িত থাকার অভিযোগ

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৬ এপ্রিল ২০১৭, রবিবার
হাইতিতে নিযুক্ত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীরা তিন বছর ধরে নয় শিশুর উপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছে। এমনকি সেখানে শ্রীলঙ্কান শান্তিরক্ষীরা শিশু যৌন চক্রও খুলে বসে। নির্যাতন চালায় বছরের পর বছর। বার্তা সংস্থা এপির এক তদন্ত প্রতিবেদনে এ খবর বেরিয়ে এসেছে। এপির খবরে বলা হয়, এ শিশু যৌন নির্যাতনে যেসব সদস্য জড়িত তারা সেখানে গেছে বাংলাদেশ, ব্রাজিল, জর্দান, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, উরুগুয়ে ও শ্রীলঙ্কা থেকে।
খবরে আরও বলা হয়, ২০০৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে শুধু হাইতিতে শান্তিরক্ষীদের বিরুদ্ধে ১৫০টি নির্যাতন ও শোষণের অভিযোগ নথিবদ্ধ হয়। আর পুরো বিশ্বজুড়ে এই সংখ্যা ২০০০ অতিক্রম করেছে। এদের মধ্যে ৩ শতাধিক ঘটনায় ভুক্তভোগী হলো শিশু। কিন্তু এদের মধ্যে খুব অল্পসংখ্যক দোষী ব্যক্তি জেল খেটেছে।
১৩৪ জন শ্রীলঙ্কান শান্তিরক্ষীরা শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের একটি চক্র তৈরি করেছে। দরিদ্রতায় ভোগা শিশুদেরকে  ক্যান্ডি, অল্পকিছু অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে এ ধরনের নির্যাতন করে আসছে তারা। এ বিষয়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের অভিযুক্ত করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করলে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয়। তবে কেউই শাস্তি ভোগ করেনি। নির্যাতনের শিকার এক মেয়ে জানায়, ‘আমার তখন স্তন পর্যন্ত ছিলো না।’ তবুও ১২ বছর বয়স থেকে শুরু করে ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ৫০ জনের বেশি শান্তিরক্ষী তার ওপর নির্যাতন চালায়। নির্যাতনকারী শান্তিরক্ষীদের মধ্যে একজন কমান্ডেন্টও ছিল বলে জানায় ওই মেয়ে। শ্রীলঙ্কান শান্তিরক্ষীরা ১২ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের সঙ্গেও যৌনক্রিয়া করতে চাইতো।
এপির খবরে বলা হয়, শান্তিরক্ষী কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর কাছে জানতে চাওয়া হয়, তাদের কয়জন সদস্য এসব অভিযোগে অভিযুক্ত এবং অভিযুক্তদের কারও বিরুদ্ধে তদন্ত চালানো হয়েছে কি না। বারবার চেষ্টার পরও খুব কমসংখ্যক দেশই জবাব দিয়েছে। দোষীদের পরিচয় গোপন রাখা হয়। ফলে জবাবদিহি নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। ২০১১ সালে উরুগুয়ের শান্তিরক্ষীরা এক কিশোর ছেলেকে গণধর্ষণ করে। এমনকি তারা মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় এই ঘটনা ধারণ করে। কয়েক ডজন হাইতিয়ান নারী বলেছেন, তারা ধর্ষিত হয়েছেন। আরও অনেকে বলেছেন, বেঁচে থাকার তাড়নায় তারা যৌনক্রিয়ায় জড়িত হতে বাধ্য হন। এক হাইতিয়ান আইনজীবী এখন এক ডজন নারীর জন্য ক্ষতিপূরণ পাওয়ার দাবিতে লড়ছেন। ওই নারীদের গর্ভে সন্তান জন্ম দিয়ে দেশ ছেড়ে চলে গেছে শান্তিরক্ষীরা।
২০০৪ সালে হাইতির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিন-বারত্রান্দ আরিস্টাইড ক্ষমতাচ্যুত হলে প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কান শান্তিরক্ষীরা পা ফেলেন সেখানে। আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে জাতিসংঘ এ ধরনের নির্যাতনকারীদের শাস্তি দেয়ার ক্ষমতা রাখে না। তাদের নিজ নিজ দেশ তাদের শাস্তি দেয়ার ক্ষমতা রাখলেও তা খুব কমই ঘটতে দেখা গেছে। শান্তিরক্ষীদের বিরুদ্ধে প্রথম যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে আরও দশ বছর আগে। কিন্তু তা থামাতে তেমন কোনো পদক্ষেপই নেয়া হয়নি। ২০১৬ সালে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে শতাধিক মানুষ শান্তিরক্ষী দ্বারা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেয়ার জন্য অভিযুক্ত তীব্র নিন্দার শিকার হতে হয়েছে জাতিসংঘকে।
গত বৃহস্পতিবার হাইতিতে শান্তিরক্ষা অভিযানের সমাপ্তি টানার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভোটাভুটি হয়।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন