তুরস্কে গুরুত্বপূর্ণ গণভোট আজ

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৬ এপ্রিল ২০১৭, রবিবার
তুরস্কে বহুল বিতর্কিত গণভোট আজ। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান যদি এ গণভোটে বিজয়ী হন তাহলে ২০২৯ সাল পর্যন্ত তিনি তুরস্কের ক্ষমতা আঁকড়ে থাকবেন। এমনিতেই সংবিধান সংশোধন নিয়ে তুরস্ক পুরোপুরি দুটি শিবিরে বিভক্ত। তার ওপর তিনি এ গণভোটে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করলে তাতে দেশটিতে বিভক্তি আরো ছড়িয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিরোধীরা। লন্ডনের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, রোববার কঠোর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ নির্বাচনে ভোট দেবেন দেশের নাগরিকরা। এর মধ্য দিয়ে তুরস্ক পরিণত হতে পারে প্রেসিডেন্সিয়াল প্রজাতন্ত্রে। অটোম্যান সাম্রাজ্যের পতনের পর এটাই হবে সেখানে সাংবিধানিক সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের ঘটনা। গত বছর ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন কমপক্ষে ২৬৫ জন। তারপর সরকার শুরু করে বেধড়ক দমনপীড়ন। প্রতিবেশী দেশ সিরিয়ায় চলছে গৃহযুদ্ধ। এমন পরিস্থিতির মধ্যে এরদোগান তার ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এ ভোট দিয়ে বসেছেন। এ নিয়ে দু’ভাগ হয়ে গেছে দেশটি। সরকারের সমর্থকরা বলছেন, যারা সংবিধান পরিবর্তনের বিরুদ্ধে ‘না’ ভোট দেবেন তারা সন্ত্রাসী গ্রুপের। অন্যদিকে যারা বিরোধী শিবিরের প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা বলছেন, যারা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন তারা ফ্যাসিস্ট, স্বৈরশাসক। জনমত জরিপ থেকে স্পষ্ট করে কোনো ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না। ভোটাররা আসলে জরিপকারীদের কাছে তাদের মনোভাব সম্পর্কে কিছু বলছেন না। এর কারণ অন্য। নিজের অবস্থান প্রকাশ করলে রোষানলে পড়তে পারেন এমন আশঙ্কা তাদের। গণভোটের প্রচারণায় অভ্যুত্থান পরবর্তী ধরপাকড় ইস্যুও উঠে এসেছে। ওই সময়ে হাজারো শিক্ষাবিদ, বিচারক, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য, সেনা কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। গণভোটকে সামনে রেখে কয়েক মাসে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক বিরোধীদলীয় নেতা ও কয়েক ডজন সাংবাদিককে। একপর্যায়ে তুরস্ক তার পশ্চিমা মিত্রদের দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে রাশিয়ার জোট বাঁধার চেষ্টা করে। কিন্তু রাশিয়ার সঙ্গে তিনি শুরুতেই বিবাদ লাগিয়ে বসে আছেন। রোববারের গণভোটে যদি ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হয় তাহলে সংসদীয় গণতন্ত্র থেকে প্রেসিডেন্ট নেতৃত্বাধীন প্রজাতন্ত্রে রূপ নেবে তুরস্ক। সেখানে সর্বময় ক্ষমতার মালিক হবেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান। তিনি আরো দু’দফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে পারবেন।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন