দাস হিসেবে বিক্রি হচ্ছে আফ্রিকান শরণার্থীরা

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৩ এপ্রিল ২০১৭, বৃহস্পতিবার
লিবিয়ার বাজারে দাস হিসেবে বিক্রি হচ্ছে আফ্রিকান অভিবাসী ও শরণার্থীরা। লিবিয়া দিয়ে যাওয়া শরণার্থী ও অভিবাসীদের ধরে এনে লিবিয়ার আধুনিক দাস-বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। লিবিয়ার দাসত্ব থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থাকে এ কথা জানিয়েছে। এ খবর দিয়েছে আল-জাজিরা।
খবরে বলা হয়, দ্য ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) মঙ্গলবার জানিয়েছে, সংস্থাটি বেশ কয়েকজন পশ্চিম আফ্রিকান অভিবাসীদের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের ভাষ্যমতে, তাদেরকে লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সাবহায় গ্যারেজ বা পার্কিং করার জায়গায় নিয়ে দাস হিসেবে বিক্রি করা হয়েছিল।  আইওএমের লিবিয়া মিশনের প্রধান ওথমান বেলবেইসি বলেন, ‘সাধারণত ২০০ থেকে ৫০০ ডলার দিয়ে দুই থেকে তিন মাসের জন্যে দাস কেনা হয়।’ তিনি বলেন, ‘অভিবাসীদের এ বাজারে পণ্য হিসেবে বিক্রি করা হয়, চোরাচালানিদের কাছে মানুষ বিক্রি করাটা সাধারণ প্রবণতায় পরিণত হয়ে উঠেছে। আর তার সঙ্গে শক্তিশালী হয়ে উঠছে চোরাচালান কারবারের নেটওয়ার্ক।’ নাইজেরিয়া, সেনেগাল ও গাম্বিয়া থেকে প্রচুর পরিমাণে অভিবাসী ও শরণার্থী লিবিয়ার ভূমধ্য উপকূলের দিকে যাত্রা করে।
এই যাত্রাপথেই অপহরণকারীদের হাতে আটকা পরে তারা। সেখান থেকে কেউ কেউ ইতালির কোনো জাহাজ ধরতে চায়। এছাড়া, সশস্ত্র বাহিনী, মানুষ-পাচারকারীদের হাতে পড়লে কখনো কখনো যাত্রা বহাল রাখতে দিতে হয় অতিরিক্ত অর্থ। বিক্রি হওয়া দাসদের দিনমজুর হিসেবে খাটতে হয়। কেউ কেউ পরিশ্রমের বদলে পারিশ্রমিক পায়। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করে। বেলবেইসি জানান, ‘মেয়েদের ক্ষেত্রে আমরা বাজে ব্যবহার, ধর্ষণ ও জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে ঠেলে দেয়ার মতো ঘটনার কথা আমরা শুনেছি।’
আইওএম লিবিয়ায় দাসত্বের শিকার হয়েছে এমন একজন সেনেগাল অভিবাসীর সঙ্গে কথা বলেছে। তাকে সাবহার একটি বাড়িতে আরও ১০০ জনের সঙ্গে আটকে রাখা হয়েছিল। তার পরিবারকে মুক্তিপণের জন্যে ফোন করেছিল অপহরণকারীরা। পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় তাকে মারধর করা হতো বলে জানায় সে। তাকে পরবর্তীকালে অপর এক লিবিয়ানের কাছে বিক্রি করা হয়। অর্থ দিতে না পারলে বন্দিদের মেরে ফেলা, না খেয়ে মরার জন্য ফেলে রাখার মতো ঘটনা ঘটে বলেও জানিয়েছে আইওএম। একজন অভিবাসী মারা গেলে বা মুক্তি পেলে তার জায়গায় নিয়ে আসা হয় নতুন কাউকে। মৃত্যুর পর কোনো ধরনের পরিচয় নির্ধারণ ছাড়াই কবর দেয়া হয় তাদের। সমপ্রতি লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলি থেকে সফর শেষ করে এসে আইওএম মিশন ও জরুরি অবস্থার পরিচালক মোহাম্মেদ আবদিকের বলেন, ‘পরিস্থিতি খুবই শোচনীয়।’ অনেক অভিবাসী ও শরণার্থীর জন্যে লিবিয়াকে ‘ভ্যালি অফ টিয়ারস’(অশ্রুর উপত্যকা) বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা যা জানি তা হচ্ছে, পাচারকারীদের হাতে যেসব অভিবাসী ধরা পড়ে তারা অপুষ্টিতে ভোগে, যৌন নির্যাতনের শিকার হয়, এমনকি খুনও হয়। গত বছর আমরা খবর পেয়েছিলাম যে, ওই জায়গায় (লিবিয়া) এক মাসে  শুধু অসুখ আর অপুষ্টিতে ভুগে ১৪ জন অভিবাসী মারা গেছেন। আমরা মরুভূমিতে গণকবরের কথাও শুনছি।’
সমুদ্রপথে ইউরোপে যেতে ইচ্ছুক এমন অভিবাসীদের জন্য লিবিয়া হচ্ছে প্রধান প্রবেশপথ। টানা তিন বছর ধরে প্রত্যেক বছর এখান দিয়ে ১ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি করে মানুষ লিবিয়া সীমান্ত পার করছে। ধারণা করা হয়, এখনো পর্যন্ত, ২৬,৮৮৬ জন অভিবাসী ইতালিতে অভিবাসন করেছে। ৬০০’র বেশি মানুষ এ প্রক্রিয়ায় সমুদ্রে ডুবে মারা গেছে। আর যাত্রাপথে উধাও হয়ে গেছে অসংখ্য মানুষ। আইওএম এ বিষয়ে অভিবাসনে ইচ্ছুক এমনদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য লিবিয়া-ফেরত ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য প্রচার করে যাচ্ছে।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের প্রস্তাব, যা বললেন মুখপাত্র...

দুদকের মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন মেয়র সাক্কু

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন টিটু রায়

আনসারুল্লাহ’র দুই জঙ্গি কলকাতায় গ্রেপ্তার

‘আওয়ামী লীগ ৪০টির বেশি আসন পাবে না’

মায়ের বুক থেকে চুরি হওয়া শিশুটি উদ্ধার

চট্টগ্রামে সাইকেল আরোহীর পা ভাঙায় বাসে আগুন

নাইজেরিয়ায় মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত ৫০

উত্তর কোরিয়াকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক বললেন ট্রাম্প

আ’লীগের দুই গ্রুপের সমাবেশ, ১৪৪ ধারা

‘নিজাম হাজারীর ক্যাডাররা খালেদার গাড়িবহরে হামলা করেছে’

যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগে বরখাস্ত মার্কিন এই টিভি উপস্থাপক

নিখোঁজের ৪ দিন পর বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে এ সপ্তাহেই চুক্তি হবে- সুচি

সাকিবকে গুনতে হচ্ছে জরিমানা

সশস্ত্র বাহিনী জাতির এক গর্বিত প্রতিষ্ঠান: খালেদা জিয়া