রাশিয়া-ইরানের হুঁশিয়ারি

ফের সীমা অতিক্রম হলে শক্তি দিয়ে জবাব দেয়া হবে

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১১ এপ্রিল ২০১৭, মঙ্গলবার
সিরিয়ায় ফের ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করা হলে ‘শক্তি দিয়ে জবাব’ দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়া ও ইরান। দু’দেশের যৌথ এক বিবৃতিতে এ হুঁশিয়ারি দেয়া হয়। বৃটিশ অনলাইন ইন্ডিপেন্ডেন্টের খবরে বলা হয়, খান শেইখৌন শহরে রাসায়নিক হামলার জবাবে শুক্রবার সিরীয় বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে সিরিয়ান প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের মিত্র রাশিয়া ও ইরান। দু’দেশের যৌথ কমান্ড সেন্টারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সিরিয়ায় আগ্রাসন চালিয়ে আমেরিকা যা করেছে তাতে রেড লাইন অতিক্রম করা হয়েছে। এখন থেকে আমরা যে কোনো আগ্রাসনকারীর বিরুদ্ধে বা যে কারো তরফে রেড লাইন লঙ্ঘিত হলে পাল্টা জবাব দেবো। আর আমেরিকা আমাদের জবাব দেয়ার সক্ষমতা সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত।’  
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে শুক্রবার সিরিয়ার আল শায়রাত বিমান ঘাঁটিতে ৫৯টি টমা হক ক্রুজ মিসাইল ছোড়া হয়। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি বিদ্রোহী অধ্যুষিত ইদলিব প্রদেশের খান শেইখৌন শহরে রাসায়নিক হামলা চালাতে এই ঘাঁটি ব্যবহার করেছিল সিরীয় বাহিনী। ওই রাসায়নিক হামলায় নিহত হয় ৮০ জনেরও বেশি মানুষ। রোববার বৃটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্যার মাইকেল ফ্যালন আসাদের লাগাম টেনে ধরতে রাশিয়ার প্রতি দাবি জানান। তিনি দাবি করেন, খান শেইখৌনে ‘প্রতিটি বেসামরিক ব্যক্তির হত্যার জন্য দায়ী মস্কো’। ফ্যালন বলেন, রাশিয়ানদের চোখের সামনে এ হামলা হয়েছে। আসাদের রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে বলে ভ্লাদিমির পুতিন যেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তাকে অবশ্যই তা পূরণ করতে হবে। বৃটেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে যে তারা বিদ্রোহী অধ্যুষিত এলাকায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বিষাক্ত গ্যাস প্রয়োগ করেছে। তবে, সিরিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক চুক্তির পর তারা রাসায়নিক মজুত ধ্বংস করেছে।
রাশিয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাস্য, ‘সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে সিরিয়ান বৈধ বিমান হামলা যে ওয়্যারহাউজে আঘাত হানে তা বিষাক্ত গ্যাস তৈরি ও মজুতের জন্য ব্যবহার করা হতো। সেগুলো ইরাকে পাঠানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ করা হয়। কিন্তু, রাশিয়ার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন বিশেষজ্ঞরা। রাশিয়া-ইরান যৌথ কমান্ড সেন্টার আরও বলেছে যে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সিরিয়াকে ‘স্বাধীন’ করা থেকে নিরুৎসাহিত করবে না। আর দেশটির উত্তরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অবস্থান অবৈধ ‘দখলদারিত্বের’ সামিল। রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট পুতিন ও ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি গেল মঙ্গলবারের রাসায়নিক হামলার বস্তুনিষ্ঠ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন