মিশরের কপটিক চার্চে হামলা, নিহত ৪০

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ৯ এপ্রিল ২০১৭, রবিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৮:৪৩
মিশরের কপটিক খ্রিষ্টানদের দুইটি চার্চে বোমা হামলায় কমপক্ষে ৪০ জন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। এই খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিবস পাম সানডে উদযাপনকালে এই দু’টি হামলা ঘটে। মিশরের উত্তরাঞ্চলের তানতা শহরে পাম সানডে উপলক্ষে প্রার্থণা চলাকালে সেইন্ট জর্জ কপটিক চার্চে বোমা বিস্ফোরিত হয়। এতে ২৯ জন নিহত ও ৭০ জনেরও বেশি আহত হয়। চার্চের প্রধান প্রার্থনা ঘরের একটি আসনের নিচে ওই বিস্ফোরক ডিভাইস রাখা হয়। অপরদিকে আলেক্সান্দ্রিয়ার মার্ক কপটিক অর্থোডক্স ক্যাথেড্রালের বাইরে এক আত্মঘাতি বোমা হামলায় ১১ জন নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়।
এ সময় চার্চের ভেতরে অবস্থান করছিলেন কপটিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ দ্বিতীয় তাওয়াড্রোস। হামলা দু’টির দায় স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। এ খবর দিয়েছে সিএনএন ও বার্তাসংস্থা এপি।
এপির খবরে বলা হয়, নিজেদের আমাক বার্তাসংস্থায় হামলা দু’টির দায় স্বীকার করেছে আইএস। তবে এতে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। সংবাদে দেখানো বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, তানতার চার্চে অনুসারীরা একসঙ্গে প্রার্থণা করছে। হঠাৎ, হামলার ফলে মানুষের আর্তচিৎকার দেখা যায়। হামলাপরবর্তী অবস্থা প্রত্যক্ষ করেছেন পিটার কামেল। তিনি বলেন, চার্চের ভেতর সব ধ্বংস হয়ে গেছে। মার্বেল পিলারে রক্তের ছাপ। তিনি বলেন, দৃশ্যত মূল মঞ্চের কাছেই বোমা রাখা হয়। হতাহতদের মধ্যে রয়েছেন চার্চের প্রিস্ট ও গায়কদল। সিএনএন’র খবরে বলা হয়, আলেক্সান্দ্রিয়ার চার্চে হামলা স¤পর্কে তেমন বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। এ শহরটি ভূমধ্যসাগরে অবস্থিত। এখানে প্রচুর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীর বাস।
মিশরের সংখ্যালঘু কপটিক খ্রিষ্টানরা অনেকদিন ধরেই নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার হয়েছে। তবে সাবেক স্বৈরশাসক হোসনি মোবারককে উৎখাতের পর এটি বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতিগত বিভিন্ন সংঘাতে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরেও কায়রোর একটি কপটিক চার্চে হামলায় প্রায় ৩০ জন নিহত হয়েছে। ওই হামলারও দায় স্বীকার করে আইএস’র শাখা বলে পরিচিত স্থানীয় জঙ্গিগ্রুপ সিনাই পেনিনসুলা। সিএনএন’র খবরে বলা হয়, মিশরের কপটিক চার্চের নিয়মানুযায়ী, পাম সানডে হলো ইস্টারের পূর্বের রোববার। খ্রিষ্টানদের পবিত্র সপ্তাহ বা হলি উইকের শুরু এই রোববার থেকে।
রোববারের বিস্ফোরণের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে টুইট করে বলা হয়, সন্ত্রাসবাদ আবারো মিশরে আঘাত হেনেছে। এবার পাম সানডে উপলক্ষে সকল মিশরীয়র বিরুদ্ধে আরেকটি জঘন্য কিন্তু ব্যর্থ চেষ্টা।
মিশরের ৯.১ কোটি জনসংখ্যার ১০ শতাংশ কপটিক খ্রিষ্টান। তাদের ধর্মতত্ত্ব অ্যাপোস্টোল মার্কের শিক্ষানুযায়ী পরিচালিত হয়। তিনিই মিশরে খ্রিষ্টীয়বাদের প্রচার শুরু করেন। এ মাসে কায়রোতে যাওয়ার কথা খ্রিষ্টানদের সবচেয়ে বড় শাখা ক্যাথলিক-এর সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপের। সেখানে কপটিক অর্থডক্স চার্চের প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা তার। তানতার ওই চার্চে হামলার পর সারাবিশ্বের অনেক ধর্মীয় নেতা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ক্যাথলিক পোপ ফ্রান্সিস এই হামলার পর শোক প্রকাশ করেছেন। মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গ্রান্ড শেখ আহমেদ এল-তায়েব এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। চার্চ অব ইংল্যান্ডের প্রধান দ্য আর্চবিশপ অব ক্যান্টারবুরি এই হামলাকে ‘অশুভ’ আখ্যা দিয়ে সকলের প্রতি হতাহতদের জন্য প্রার্থণার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া ফ্রান্স, জার্মানি, ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের হামাস এই হামলা দু’টির নিন্দা জানিয়েছে।
সিএনএন’র খবরে বলা হয়, মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাতাহ আল-সিসিকে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বরণ করে নেয়ার কয়েকদিন পরই এ হামলার ঘটনা ঘটলো।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

মৌলভীবাজারে শোকের মাতম

বিয়ানীবাজারের খালেদের দুঃসহ ইউরোপ যাত্রা

১১ দফা প্রস্তাব নিয়ে ইসিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ

‘প্রধান বিচারপতি ফিরে এসেই কাজে যোগ দিতে পারবেন’

খালেদা জিয়া ফিরছেন আজ

ব্লু হোয়েলের ফাঁদে আরো এক কিশোর

তিন ইস্যু গুরুত্ব পাবে সুষমার সফরে

প্রি-পেইডে সুবিধা বেশি আগ্রহ কম

ভারত থেকে ৩৭৮ কোটি টাকার চাল কিনছে সরকার

ছাত্রলীগ কর্মী মিয়াদ খুন নিয়ে উত্তপ্ত সিলেট

ইস্যু হতে পারে সমস্যার পাহাড়

দ্বিতীয়বার সংসার না করায় খুন

যেভাবে পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা, ড্রোন থেকে নেয়া ভিডিও

সিলেটে কাল থেকে পরিবহন ধর্মঘট

ফুটবলকে বিদায় জানালেন কাকা

৩৬তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ