সংখ্যালঘুদের জন্য বাংলাদেশের সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব দাবি কলকাতায়

ভারত

কলকাতা প্রতিনিধি | ৪ এপ্রিল ২০১৭, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:০৩
বাংলাদেশে হিন্দুসহ সংখ্যালঘুদের জন্য সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা চালু করার দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। এছাড়া ভারতের মতো বাংলাদেশেও সংখ্যালঘুদের জন্য আলাদা মন্ত্রক গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।  গত শনি ও রবিবার কলকাতায়  অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের শেষে এক ঘোষণাপত্রে এই দাবি জানানো হয়েছে। সম্মেলনে  দেশ বিদেশ থেকে আগত বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের শতাধিক প্রতিনিধি  বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করে অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশে মঠ-মন্দিরে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, সংখ্যালঘুদের বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, জমিজমা দখল ও উচ্ছেদ, নারী ধর্ষণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের মতো ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে আগামীদিনের কর্তব্য শীর্ষক এই সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন ভারতের ক্যাম্পেইন এগেনস্ট এট্রোসিটিজ অন মাইনরিটিস ইন বাংলাদেশ (ক্যাম্ব) নামের সংস্থা। সূচনায় ক্যাম্বের আহ্বায়ক মোহিত রায় এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, বাংলাদেশের হিন্দুদের উপর নির্যাতন নিয়ে সকলকে সচেতন করার লক্ষ্য নিয়েই এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সম্মেলনে বিভিন্ন বক্তা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের উপর জোর দিলেও সম্মেলনের ঘোষণা পত্রে বাংলাদেশ সরকারের সদিচ্ছার উপর আস্থা রাখা হয়েছে।  সম্মেলনের উদ্বোধন করে  ত্রিপুরার গভর্নর তথাগত রায় বলেন, বাংলাদেশে হিন্দুসহ সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন চলছে দেশ বিভাগের সময় থেকে। এখনও তা অব্যাহত রয়েছে। তিনি ঘটনাক্রম উল্লেখ করে বলেছেন কীভাবে হিন্দুরা বিভিন্ন সময়ে গণহত্যার শিকার হয়েছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের সচেতন ও জাগরুক হতে হবে। তবেই ভারত সরকারের মাধ্যমে বাংলাদেশের উপর চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা মানবাধিকারকর্মী শীতাংশু গুহ আভিযোগ করেছেন, হিন্দুদের উপর নির্যাতন সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছে। তিনি বলেছেন, হিন্দুদের উপর নির্যাতনের কোনও বিচার হয় না। প্রশাসন উল্টে সহায়তা করে দুষ্কৃতকারীদের। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যাতে হিন্দুদের উপর নির্যাতন না হয় তা নিশ্চিত করুন মোদী সরকার। বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচের সভাপতি অ্যাডভোকেট রবীন্দ্র ঘোষও মনে করেন, পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা যদি সজাগ হন এবং বাংলাদেশের সমস্যা নিজের মনে করে এগিয়ে আসেন তবেই সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দেওয়ার আন্দোলন সফল হবে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও এমপি উষাতন তালুকদার বলেছেন, চট্টগ্রামের আদিবাসিদের অবস্থা খুবই খারাপ। প্রশাসনে তাদের অংশিদারিত্বের কোনও সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। বিভিন্ন বাহিনীর মাধ্যমেই সব নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সম্মেলনে থেকে মুক্তিযুদ্ধে হিন্দুদের অবদানকে আলাদাভাবে স্বীকৃতি দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে। আলোচকরা জানিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধে নিহত ৩০ লাখ মানুষের মধ্যে ২৩ লাখই হিন্দু। সম্মেলন শেষে যে ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়েছে তাতে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি ভারত সরকারের কাছেও আরজি জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের কাছে সংখ্যালঘুদের জন্য আলাদা মন্ত্রক ও সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, সংখ্যালঘুদের উপর সমস্ত হিংসাত্মক আক্রমণ বন্ধ করা, সমস্ত দাঙ্গাকারীকে শান্তি দেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া, বিশেষ ক্ষমতা দিয়ে হেট ক্রাইম এবং সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার খর্ব করার বিষয় বিচারের জন্য আলাদা শাখা গঠন, সংবিধান থেকে রাষ্ট্রীয় ধর্ম হিসেবে ইসলাম কথাটির বিলুপ্তি এবং বৈষম্যমূলক আইসিটি অ্যাক্ট বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বাজেয়াপ্ত ও দখল করে নেওয়া হিন্দু সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত করার কথা বলা হয়েছে। সম্মেলন থেকে ভারতের উপর যে আস্থা বিভিন্ন বক্তা প্রকাশ করেছেন তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাংলাদেশের সরকার যাতে ইসলাম তোষণ বন্ধ করে এবং সংখ্যালঘু নিধন বন্ধ করে সেজন্য বাংলাদেশ সরকারের উপর চাপ সৃষ্টির জন্য ভারত সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Banglar Shmorat

২০১৭-০৪-২১ ১০:০০:৫১

Hindu's living there without justice, everyday Muslims majority disturbing them.....

kamal

২০১৭-০৪-০৪ ০৬:১৫:১১

বাংলাদেশে হিন্দুসহ সংখ্যালঘুদের জন্য সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা চালু করার দাবি করছেন l বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে সরকার হিন্দুদের বেশি বেশি সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। প্রশাসন থেকে শুরু করে সবখানেই এখন হিন্দুদের আধিপত্য। কিন্তু যে হিন্দুদেরকে সরকার এত সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে সে হিন্দুরাই এখন সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।হিন্দুরা এখন অনলাইন-অফলাইনে সরকারের বিরুদ্ধে জোর প্রচারণা চালাচ্ছে। এতেও হিন্দুদের আলাদা স্বার্থ জড়িত। ইতিমধ্যে অনলাইনে হিন্দুরা সরকারের বিরুদ্ধে অনলাইনে উঠেপরে লেগেছে। বাংলাদেশে কথিত সংখ্যালঘু নির্যাতনের জন্য সরকার দোষী করে সরকারের বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দিচ্ছে হিন্দুরা। গত কয়েক মাস থেকে অনলাইনে হিন্দুদের লিখালিখির একটা বড় বিষয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণা।এরপেরও কি বাংলাদেশ সরকার হিন্দুদেরকে জা্মাই আদার করবে ? এরপরেও কি দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী হিন্দুদেরকে সরকার বিশ্বাস করবে ? এরপরেও কি বাংলাদেশের জনগণ হিন্দুদেরকে আপন মনে করে কাছে টেনে নিবে ?

Kazi

২০১৭-০৪-০৪ ০৫:০৫:৩২

Did they also claim similar law in india for Muslims and other religions group.

আপনার মতামত দিন

মধুপুরে রোহিঙ্গা সন্দেহে যুবক আটক

ম্যানচেস্টারে এবার মসজিদের বাইরে একজন ডাক্তারকে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কলেরা সংক্রমণের আশঙ্কা বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থার

স্বামীকে বেঁধে গৃহবধূকে ধর্ষণ, আটক ১

২৮ ‘হিন্দু’র খুনী কে!

ভেঙ্গে গেল স্পর্শিয়ার সংসার

নির্বাচিত মারকেল, ইসলামবিরোধী এএফডির উত্থান, কঠিন চ্যালেঞ্জ সামনে

মালিতে নিহত সার্জেন্ট আলতাফের বাড়িতে শোকের মাতম

বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী নিহত হওয়ায় জাতিসংঘ মহাসচিবের শোক, নিন্দা

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় আরও তিন দেশ

‘যেভাবে ভাবি সেভাবে এখনো ক্যামেরার সামনে অভিনয় করতে পারিনি’

​ জার্মানির নির্বাচনে শেষ হাসি মার্কেলেরই

রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের ব্যাপক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন: ইউএনএইচআরসি

মার্কেল?

ফের সীমান্তে রোহিঙ্গা স্রোত

ট্রাকচালক থেকে সপরিবারে ইয়াবা ব্যবসায়ী