পাহাড়-পর্বত আর বরফের দেশে

প্রবাসীদের কথা

মাহবুব মাসুম, জাপানের নাগানো থেকে | ২৬ মার্চ ২০১৭, রবিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৫৪
সত্যি অবাক করার মত একটা অঞ্চল জাপানের নাগানো। যত দূর চোখ যায় কেবল পাহাড় আর পর্বত মিলে আকাশ ছোঁয়েছে। শীতকালে পাহাড়-পর্বত একাকার হয়ে সাদা বরফে রুপান্তরিত হয়েছে। মনে হয় এ যেন সাদা পাহাড়ের দেশ!নাগানো অঞ্চলে রয়েছে ডজন খানেক পর্বতমালা। এছাড়া পুরো নাগানোটাই যেন পাহাড়ে ঢাকা। এ যাত্রায় উদ্দেশ্য বরফের দেশটাকে ঘুরে দেখা।
প্রতিটা পর্বতের ভাজে ভাজে বিনোদনের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে রকমারি স্কি পার্ক। যে সব পার্কে শীতের এ সময়টাতে হাজারো মানুষ আসে বরফের মধ্যে স্নো বোটিং করতে। কেউ আসে স্নো স্কি খেলতে। বিশাল পর্বতের উচু ভাজ থেকে সাই করে নিচের দিকে পড়ছে স্কেটিং করতে আসা স্কি প্রেমীরা। টেলিভিশনে বরফের মধ্যে এসব খেলা দেখেছি। কিন্তু এবার বাস্তবে দেখলাম। মনের ভেতরে আনন্দ। বাইরে হিম হিম বাতাশে মাইনাস ১৩ থেকে ১৫ ডিগ্রির মধ্যে শরীর যেন পুরোটাই বরফ হয়ে যাচ্ছে। নি:শ্বাসটাও যেন বরফের এক একটা খণ্ড! এই সময়টাতে জাপানের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ প্রফেশনাল স্কি খেলোয়াররাও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে থাকে।
টোকিও থেকে নাগানোর বিভিন্ন শহর ঘুরে চলে গেলাম চিনো সিটির স্কাই পার্কে। নাম কুরোমাইয়ামা স্কাই পার্ক। এ এক বিশাল পর্বতের ভাজে গড়ে তোলা হয়েছে। কিরিগামিনে পর্বতের ১২টি ভাজ কেটে এটি তৈরী করা হয়েছে।  বিশাল এক অঞ্চল জুড়ে তুষারের আবরন। হাজারো মানুষ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খেলছে। পাশে রয়েছে একাধিক রিসোর্ট। এ যেন বরফের রাজ্যে বিনোদনের আয়োজন।
পাহাড়ের বুক চিরে আকাঁবাকা পথে টোকিও থেকে প্রায় ৩শ’ কিলোমিটার দূরে নাগানোর চিনো সিটির স্কাই পার্ক রিসোর্টে উঠলাম। যাত্রা পথে কখনো মাইলের পর মাইল বিশাল পাহাড়ের নিচ দিয়ে আবার কখনো পাশ দিয়ে চলে গেছে হাইওয়ে রোড। বিশাল বিশাল এসব রাস্তা যে কত বছরে কত অর্থ ব্যয়ে তারা তৈরী করেছে তা ভাবতেও অবাক লাগে।
 
জীবনে কখনো বরফ পড়া দেখিনি! সেখানে বরফে স্নোবোটিং বা স্কি খেলবো কিভাবে। শরীরে গরম পোষাক থাকলেও পায়েতো জাপানিজদের মতো এতা শক্তি নেই। কি আর করা! অনেক চেষ্টা করেছি! কোনটাই ঠিকমত খেলতে পারিনি। এতো ঠাণ্ডা যে মোবাইলটা বেড় করে ছবিতোলার মতো অবস্থা নেই। তারপরও কষ্ট করে কিছু স্মৃতি সঙ্গে করে নিয়ে আসলাম। 
নাগানো কেন্ হল জাপানের মূল দ্বীপ হোনশুর চুউবু অঞ্চলে অবস্থিত। ঐতিহাসিকভাবে জানা যায় নাগানো অঞ্চল শিনানো প্রদেশ নামে পরিচিত ছিল। সেন্‌গোকু যুগে শিনানো প্রদেশকে একাধিক বার বিভিন্ন সামন্ত প্রভু ও দুর্গনগর রক্ষকদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। এই দুর্গনগরগুলির মধ্যে ছিল কোমোরো, ইনা ও উয়েদা।  ১৮৭১ এ মেইজি পুনর্গঠনের সময় হান্‌ ব্যবস্থার লোপ এবং প্রশাসনিক অঞ্চল ব্যবস্থার প্রবর্তনের সময় শিনানো প্রদেশকে নাগানো ও চিকুমা প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করা হয়। ১৮৭৬ এ আবার এই দুই অঞ্চলকে একত্র করে নাগানো প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে গঠন করা হয়।
 
পাহাড় পর্বত ও পার্বত্য হ্রদ অধ্যুষিত নাগানো প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভিন্ন মনোরম প্রাকৃতিক স্থানকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পের বিকাশ হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম উচ্চতম গিজার বা প্রাকৃতিক উষ্ণ ফোয়ারা সুওয়ায় অবস্থিত। কিরিগামিনে পর্বত একটি তুষারাবৃত সুপ্ত আগ্নেয়গিরি। এছাড়া অঞ্চলটির ঐতিহাসিক গুরুত্বও এক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে। সুওয়া তাইশা জাপানের প্রাচীনতম তীর্থস্থানগুলি অন্যতম।এছাড়া মাৎসুমোতো দুর্গ জাপানের অন্যতম জাতীয় সম্পদ। রয়েছে জিগোকুদানি বানর উদ্যান, যেখানকার উষ্ণ প্রস্রবণে বিখ্যাত জাপানি ম্যাকাক জাতীয় বানরদের প্রায়ই স্নানরত দেখা যায়। এছাড়া নাগানো জুরে রয়েছে হরিণের বিশাল বিচরণক্ষেত্র। নাগানো নগরে ১৯৯৮ খ্রিঃ শীতকালীন অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সারা বছরই এ এলাকা দেশি বিদেশী পর্যটকে মুখর থাকে।
 
লেখক: প্রবাসী সাংবাদিক
 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

সমাপনীতে অনুপস্থিত ১৪৫৩৮৩ শিক্ষার্থী

ঈদ-ই মিলাদুন্নবি ২ ডিসেম্বর

দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য তারেক রহমানকে দরকার: এমাজউদ্দিন

দল থেকে বরখাস্ত মুগাবে

দেখা হলো, কথা হলো কাদের-ফখরুলের

আখতার হামিদ সিদ্দিকী আর নেই

ইইউ প্রতিনিধি ও তিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন

‘এবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো সুযোগ নেই’

নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না শেখ হাসিনার সরকার-নৌ মন্ত্রী

‘আমি ব্যবসায়িক প্রতিহিংসার শিকার’

সেনা মোতায়েন নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি : সিইসি

২০১৮ সালে প্রবল ভুমিকম্পের আশঙ্কা!

কেয়া চৌধুরী এমপি’র উপর হামলার ঘটনায় মামলা

বাংলাদেশের রাজনীতি, বিকাশমান মধ্যবিত্ত এবং কয়েকটি প্রশ্ন

সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এমপি গোলাম মোস্তফা আহমেদ

খেলার মাঠে দেয়াল ধসে দর্শক যুবকের মৃত্যু