প্রবাস আমাকে শিখিয়েছে স্বাধীনতার যথার্থতা

প্রবাসীদের কথা

রাকেশ রহমান | ২৬ মার্চ ২০১৭, রবিবার
স্বাধীনতা, স্বাধীনতা স্বাধীনতা। স্বাধীনতা ছোট একটি শব্দ, কিন্তু তার অর্থ বিশদ। দেশ থেকে বাইরে অনেক বছর। এত বছরে হারানোর ভিতরে হারিয়েছি ভালোবাসার মানুষগুলোর ভালোবাসা। অপরদিকে অর্জন করেছি, শিখেছি অনেক। অর্থ উপার্জন দিয়েই যেমন সবকিছু হয়না।
তেমনি প্রবাস মানেই শুধু অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্র নয়। জীবনে শিক্ষার জন্যও অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। যেমন অনেকে প্রবাস থেকে বস্তা বস্তা অর্থ নিয়ে ফিরে। আবার অনেকে সুন্দর পরিছন্ন পরিকল্পিত মার্জিত জীবন যাপন শিখে।  সভ্য স্বাধীন মানুষে পরিনত হয়।
আমরা এখন বিদেশি, আমরা প্রবাসী, আমরা পরবাসী। আমরা যখন অবসর সময় পাই তখন বাংলাদেশের মানুষদের পাই না। এটাই বড় কষ্ট। ইচ্ছে হলেই দেশি খাবার খেতে পারিনা। ইচ্ছে হলেই নিজ দেশের নিজ শহরের প্রিয় স্থানগুলোতে বসতে বা ঘুরতে পারিনা। অনেকটা নিজকেন্দ্রীক কাজেই আমরা প্রবাসীরা বেশি ব্যস্ত। তবে বর্তমানে দেশের মানুষরাও এখন যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে তাদের ভিতর আগের সেই আন্তরিকতা আর খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রবাস আমাদের মনকে করে তুলেছে কোমলিত। কারন আমরা মিথ্যা, প্রতারণার মুখোমুখি হই খুব কম।
মার মতে স্বাধীনতার দুটি ভাগ রয়েছে, প্রথমটি নিজের মৌলিক অধিকারের স্বাধীনতা ও অপরটি অপরের মৌলিক অধিকার হননের স্বাধীনতা। আমরা আমাদের দেশে ছেলে বেলা থেকে দেখে এসেছি অতি উৎসবের মাধ্যমে স্বাধীনতা দিবস পালনের উৎসব। কিন্তু বাস্তবে কখনও নিজের মৌলিক অধিকারের স্বাধীনতা দেখিনি, শুনিনি। যেমন সমাজের শ্রেনী বৈষম্য, শোষণ, নিপীড়ন, মানবাধিকার লঙ্ঘন ইত্যাদিতে আমরা অভ্যস্ত।
প্রবাস মানেই আমরা জানি বুঝি চরম স্বাধীনতার দেশ। হ্যাঁ, বাস্তবে আসলেই তাই। যদিও না অপরের মানব অধিকার হরণ করা হয়। কিছু উদাহরন দিলে হয়তো আমরা পার্থক্য গুলো পরিষ্কার বুঝতে পারবো। আমাদের দেশে আমরা কখনই মেয়েদের রাত দুইটা তিনটায় একা একা চলাচল করতে দেখিনি বা ভাবতেও পারিনা। কিন্তু প্রবাসে এটা নতুন কিছু না শত বছরের অভ্যাস। আমাদের দেশে আমরা কখন পকেটে অর্থ নিয়ে রাতবিরাত বাসে চলে যাতায়াত করিনি। প্রবাসে এটা স্বাভাবিক ঘটনা। অপরের মৌলিক অধিকার হনন আমাদের দেশে কোন ঘটনাই না আর প্রবাসে নিজের স্ত্রীর সাথেও চিৎকার করে কথা বললে পুলিশ চলে আসে বাসায়। আমরা নিজের সন্তানকে শাসন করা মানেই বুঝি গায়ে হাত তোলা। আর প্রবাসে শাসন মানেই ছেলে বেলা থেকে শিক্ষা দিয়ে গঠে তোলা। ভালোমন্দের মিশ্রনেই একটি দেশ একটি জাতি। তবে একটি জাতি বা একটি দেশের আশি শতাংশ মানুষের ভালোদিক গুলোই পরিচিত করে দেয় ঐ দেশ বা জাতি সম্পর্কে। আমাদের দেশের ব্যক্তিত্বহীন মানুষ গুলোকে প্রবাসে এনে ছেড়ে দিলে হয়তো স্বাধীনতার মর্ম কিছুটা হলেও শিখানো যেতো। আমাদের দেশের মানুষগুলোর সবচেয়ে বড় সমস্য তারা অপরের স্বাধীনতা মানব অধিকার হননের জন্য কেমন জানি ক্ষুধার্ত হয়ে ঘুরে। প্রবাসেও বহু উদাহরণ রয়েছে আমাদের দেশি বাংলাদেশীদের। তবে যদিও তাদের পরিমান কম। তবুও দেশের পরিচিতি বহন করায় খারাপ কাজের দূর্নাম তো গোটা জাতিকেই বহন করতে হয়। সভ্য দেশগুলোতে বসবাস করে পূর্ন স্বাধীনতা রক্ষা করে চলাই যথার্থ । প্রবাস আমাকে শিখিয়েছে স্বাধীনতা মানে নিজের মতন করে অন্যকে ভালোবাসা। স্বাধীনতা মানে কারো সাথে উচ্চু গলায় কথা না বলা। স্বাধীনতা মানে নারীর প্রাপ্ত সম্মান প্রদর্শন করা। স্বাধীনতা মানে নারীদের সাথে কূউক্তি না করা। স্বাধীনতা মানে অপরের ভালোমন্দের খবর রাখা। আশাকরি আধুনিকতার ছোয়ায় আমার দেশ বাংলাদেশেও স্বাধীনতার পূর্নতা মিলবে।

লেখক: ইটালি প্রবাসী

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এমপি গোলাম মোস্তফা আহমেদ

বিশ্ব সুন্দরীর মুকুট মানসী চিল্লার-এর

তবুও কুমিল্লার কাছে হারলো রংপুর

খেলার মাঠে দেয়াল ধসে দর্শক যুবকের মৃত্যু

‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মৃত্যু ঘটেছে’

কুমারিত্বের দাম ৩ মিলিয়ন ডলার!

ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আকরাম ৮ দিনের রিমান্ডে

১৫৪ টার্গেট গেইল-ম্যাককালামের

বাড়ি ফিরেছেন নিখোঁজ ব্যবসায়ী অনিরুদ্ধ রায়

শিক্ষার্থীদের মাথা ন্যাড়ার শর্তে এসএসসি’র ফরম পূরণ!

ইতিহাস বিকৃতিকারীদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে জাগ্রত হতে হবে

একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ

‘সমাবেশে জোর করে লোক আনা হয়েছে’

সিরিয়া ইস্যুতে আবারো রাশিয়ার ভেটো

ইরাক ও ইসরায়েল সুন্দরী একসঙ্গে সেলফি তুলে বিপাকে

‘বিএনপিকে দূরে রেখে নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে’