দৃষ্টিনন্দন টোকিও’র ফুজি টিভি এলাকা ওদাইবা

প্রবাসীদের কথা

মাহবুব মাসুম, টোকিও থেকে | ২২ মার্চ ২০১৭, বুধবার

পর্যটক মুখরিত টোকিও’র সবচেয়ে বড় আর্টিফিশিয়াল আইল্যান্ড ওদায়বা এলাকা। এখানেই অবস্থিত জাপানের জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী টেলিভিশন স্টেশন ফুজি টিভি। প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের ভীরে মুখরিত থাকে দৃষ্টিনন্দন এ এলাকাটি। কৃত্রিমভাবে তৈরী এ দ্বপিটিতে রয়েছে পাঁচতারকা মানের বেশ কয়েটি ইন্টারন্যাশনাল চেইন হোটেল। বিশাল আকৃতির কয়েকটি শপিং সেন্টার। এই ওবায়দার সমুদ্র সৈয়কতের একটি অংশে গড়ে তোলা হচ্ছে ২০২০ সালের অলিম্পিকের জন্য অত্যধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর সিটি। শুধু তাই নয়। অত্যাধুনিক অলিম্পিক সিটির জন্য ভরাট করা হচ্ছে সমুদ্রের এক বিশাল অংশও। এই অলিম্পিক সিটি নিয়ে অন্য একদিন বিস্তারিত লিখবো ইনশাল্লাহ।আজ শুধু জানাবো ওবাইদার দৃষ্টিনন্দন ফুজি টেলিভিশন সম্পর্কে।
ছোটবেলা থেকেই আমি ভ্রমন প্রিয়। যে খানেই থাকি কাজের ফাঁকে ভ্রমণ করতে আমার ভীষন ভালো লাগে।আর সাংবাদিকতা ছিল আমার নেশা ও পেশা। অনেকদিন থেকেই ভাবছিলাম টোকিও’র ওবাইদায় অবস্থিত জাপানের সবচেয়ে পুরাতন টেলিভিশন স্টেশন ফুজি টিভি এলাকাটা একটু ঘুরে দেখবো। হুট-হাট করে গতকালই বেড়িয়ে পরলাম। দৃষ্টিনন্দন এ এলাকাটির সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য সুন্দর বোট পাওয়া যায়। যারা দেখতে আসে সবাই এসব বোটে চরে পুরো এলাকা ঘুরে বেড়ায়। কি সৌন্দর্য! বাস্তবে না দেখলে বুঝানো যাবে না। টোকিও’র কুলঘেষে গড়ে তুলা কৃত্রিম দ্বীপটি ও তার আশপাশে টোকিও সিটির বাণিজ্যিক ভবনগুলো ছবির মতো দাঁড়িয়ে আছে।মুল শহরের সাথে যোগাযোগের জন্য তৈরী করা হয়েছে রেইনবো ব্রিজ। এটি বিশ্বের অন্যতম সুন্দর ও প্রযুক্তি নির্ভর ব্রিজ। এক ব্রিজেই রয়েছে উপরে হাইওয়ে। সাধারণ গাড়ি চলাচলের রোড। নিচের অংশে রয়েছে ট্রেন চলাচলের একাধিক রোড। রাতে এ ব্রিজটির সৌন্দর্য আরো বেড়ে যায়। নানা আলোক সজ্জায় সজ্জিত এ ব্রিজটির নাম দেয়া হয়েছে রেইনবো ব্রিজ।

যাইহোক ফুজি টেলিভিশনটি ১৯৫৭ সালের ১৮ নভেবম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে এটি চালু হয়েছে ১৯৫৯ সালের মার্চে। বর্তমানে এ টিভির আওতাধীন অনেকগুলো পৃথক চ্যানেল রয়েছে। যেমন নিউজ, খেলাধুলা, কার্টুন, রান্না-বান্না ও বিনোদনসহ আরো বিষয়ে তারা অনুষ্ঠান প্রচার করে। জাপানের সবচেয়ে বড় মিডিয়াগ্রুপ এটি। এ টেলিভিশনের মাধ্যমে নিজেদের সংস্কৃতি যেমন বিশ্বের বুকে তুলে ধরা হচ্ছে। তেমনি আন্তর্জাতিক নিউজ সেকশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে খবর পরিবেশনা করা হচ্ছে। এছাড়াও শক্তিশাল অনুসন্ধানী রিপোর্টিং টিম রয়েছে। ২০১৫ সালে এ টিভিতেই প্রথম আমাদের দেশের রহস্যময় পুরুষ প্রিন্স ড. মুসা বিন শমসেরকে নিয়ে ডকুমেন্টারি প্রতিবেদন তৈরী করা হয়েছিল। যা বিশ্বে আলোচিত হয়েছিল। দীর্ঘদিন বাংলাদেশে অবস্থান করে ফুজি টেলিভিশন প্রতিনিধি দল ড. মুসার গুলশান বাসভবন, বনানী অফিসসহ তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর সফর করে তথ্য সংগ্রহ করে।

আপনারা যারা জাপানে ভ্রমনে আসবেন তারা একটি বারের জন্য হলেও ঘুরে যাবেন ওদাইবা এলাকাটি। বৃহত্তম কৃত্রিম দ্বীপটি রাজধানী টোকি’র বুকে কিভাবে গড়ে তুলা হয়েছে।না দেখলে সৌন্দর্য উপলদ্ধি করা যাবে না। মনকে ফ্রেশ করতে প্রতিবছর লাখো বিদেশি পর্যটক এ এলাকাটি ভ্রমণ করে থাকে। এছাড়া দেশি পর্যটকতো রয়েছেই। নিরাপত্তা নিয়ে বিন্দু মাত্রও ভাবতে হবে না। ২৪ ঘন্টা মন খুলে ঘুরতে পারবেন। কেউ কাউকে বিরক্তও করবে না। নেই বাংলাদেশের মতো ছিনতাইকারী কিংবা চুরি-বাটপারি। প্রতিটি কদমে পাবেন অধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া। মানুষের সততা ও সহযোগিতার মনোভাবেও আপনি মুগ্ধ হবেন। হোটেল বা বাসা থেকে বেড়িয়েছেন কিন্তু ফিরে যাওয়ার রাস্তা ভুলে গেছেন! নো চিন্তা। পুলিশ প্রয়োজনে আপনাকে রুমে পৌঁছে দেবে।
লেখক: প্রবাসী সাংবাদিক


এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন