পাথর কোয়ারিতে শ্রমিকের মৃত্যু

হত্যা মামলা করতে চান স্বজনরা

শেষের পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে | ২১ মার্চ ২০১৭, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:২৩
কোম্পানীগঞ্জে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় পরপর কয়েকটি হত্যা মামলা হলেও জাফলংয়ে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ রেকর্ড করেছে ‘অপমৃত্যু’ মামলা। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে ‘হত্যা মামলা’ দায়েরের আর্জি জানালেও  সেটি আমলে নেয়া হয়নি। উল্টো নিহতদের পরিবারকে ক্রমাগত হুমকির মুখে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ নিহত দুই শ্রমিকের পরিবারের পক্ষ থেকে সিলেটের জেলা প্রশাসন বরাবর আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে তারা দুই শ্রমিক হত্যার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। গত ১৬ই মার্চ জাফলংয়ের নয়াবস্তি এলাকায় গভীর গর্তে পাথর উত্তোলনের সময় আকরাম হোসেন ও লেচু মিয়া নামের দুই শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
এই মৃত্যুর ঘটনার পর স্থানীয় শ্রমিকরাই দুই জনের লাশ উদ্ধার করে। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ দুটি নিয়ে আসে। এ ঘটনায় ওই দিনই গোয়াইনঘাট থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। গোয়াইনঘাট থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ‘নিহত শ্রমিকদের পরিবারের পক্ষ থেকে একজন থানায় ওই ইউডি মামলা দায়ের করেন। এ কারণে পুলিশ দুই শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় ইউডি মামলাই রেকর্ড করেছে। আর কোনো অভিযোগ আসেনি বলে জানান তিনি।’ এদিকে আকরাম ও তার শ্যালক লেচু মিয়া মৃত্যুর ঘটনায় আকরামের চাচাতো ভাই টুকেরগাঁওয়ের নোয়াগাঁওয়ের বাসিন্দা শেখ মখলু মিয়া পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন। ওই আবেদনে তিনি দুই শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় পাথরখেকো সিন্ডিকেটের ১০ জনের নাম উল্লেখ করেছেন। এরা হচ্ছে- গোয়াইনঘাটের জাফলং নয়াবস্তি এলাকার কটাই মিয়ার ছেলে আতাই মিয়া ও মাতাই মিয়া, শফিক মিয়ার ছেলে আবুল মিয়া, মঈন মিয়ার ছেলে শিবলু মিয়া, ইনসান মিয়ার ছেলে আলীম উদ্দিন, মুতলিব মিয়া, সাত্তার মিয়ার ছেলে কালা মিয়া ও নানু মিয়া, সামাদ মিয়ার ছেলে আফাজ উদ্দিন, সাত্তার মিয়ার ছেলে শামীম মিয়া। আবেদনে মখলু মিয়া দাবি করেন আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ওই সব পাথরখেকো সিন্ডিকেটরা সুপারি এবং পান বাগান ধ্বংস করে অবৈধ বোমা মেশিন ও এক্সেভেটর দিয়ে পাথর উত্তোলনের কাজে লাগায়। এতে করে গত ১৬ই মার্চ আকরাম ও তার শ্যালক লেচু মিয়া একটি গর্তে বালিচাপায় মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে পাথরখেকো চক্র স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে থানায় অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করে। আবেদনে মখলু মিয়া দাবি করেন ‘আমাদের বাড়ি সিলেট সদর উপজেলায় হওয়ায় ও আসামিরা অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়ায় আমরা এই মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায় বিচার পাবো না।’ তিনি উল্লেখ করেন পাথর কোয়ারিতে প্রতিদিন ৪-৫ জন মানুষ মারা যাচ্ছে। তাদের লাশ গুম করে ফেলা হয়। থানা ও উপজেলা প্রশাসন অবগত থাকা সত্ত্বেও পাথরখেকোদের বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে না। আবেদনে মখলু মিয়া ওই পাথরখেকো সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরের জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। জাফলংয়ে গর্ত ধসে নিহত আকরাম হোসেনের ছেলে রাসেল জানিয়েছেন, তারা যাতে মুখবন্ধ করে থাকে সে ব্যাপারে প্রায় সময় তাদের মোবাইল ফোনে হুমকি দেয়া হচ্ছে। কারা কোথা থেকে এসব হুমকি দেয় সে ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান। সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাফয়াত মো. সাহেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, শ্রমিকদের ‘গণমৃত্যু’ রোধ করতে হলে সবার আগে প্রশাসনকে চোখ-কান বন্ধ করে কাজ করতে হবে। প্রতিটি কোয়ারিতে এখন ৫০-৬০ ফুট গর্ত। বৃষ্টি হচ্ছে, এসব গর্তে শ্রমিকরা নেমে কাজ করলেই উপরের অংশ ধসে পড়বে। এতে মানুষের বিপর্যয় ঘটবে। তিনি বলেন, আইন প্রয়োগ করলেই সব সমস্যার সমাধান হওয়া সম্ভব। সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইইউ শহীদুল ইসলাম শাহীন রোববার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনেও জোরালো দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক মৃত্যু হলে সেটি ৩০২ ধারায় হত্যা মামলা দায়ের করতে হবে। এবং মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে সাজা দিতে পারলে এ ধরনের ঘটনা কমে আসবে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

সাবেক প্রক্টর কারাগারে, প্রতিবাদে অবরুদ্ধ চবি

আপন জুয়েলার্সের তিন মালিকের জামিন স্থগিত

এবারে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁস

‘বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেনা’

লেবাননে বৃটিশ কূটনীতিককে শ্বাসরোধ করে হত্যা

বিমানে দেখা এরশাদ-ফখরুলের

হলফনামার তথ্য গ্রহণযোগ্য নয়: সুজন

ছিনতাইকারীর টানাটানিতে মায়ের কোল থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু

গুজরাট ও হিমাচলে বিজেপিই জিততে চলেছে

আরো ৪০ রোহিঙ্গা গ্রাম ভস্মীভূত:  এইচআরডব্লিউ

ভর্তি জালিয়াতি সন্দেহে রাবির দুই ছাত্রলীগ নেতা আটক

‘এটাও কিন্তু একটা চ্যালেঞ্জের বিষয়’

সৌদিই ব্যতিক্রম

তাদের কি বিবেক বলে কিছু নেই

ঢাকা উত্তরের উপনির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে

‘উন্নয়ন কথামালায়, মানুষ কষ্টে আছে’