উখিয়ায় ভুয়া ডাক্তার

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, উখিয়া থেকে | ২১ মার্চ ২০১৭, মঙ্গলবার
চোখে চশমা, হাতে চিকিৎসার যন্ত্রপাতি, ফার্মেসির ভেতরে চেম্বার, চেম্বারে রোগীর লাইন, রোগীদের দেখেশুনে লিখছেন প্রেসক্রিপশন, দিচ্ছেন দিকনির্দেশনা। অনেক সময় করেছেন কাঁটাছেঁড়াও। বেশভূষাসহ কথা বলার ঢংয়ে মনে হবে এ কোন ডিগ্রিধারী ডাক্তার। তবে অবিশ্বাস্য হলেও সত্য এসব ভুয়া ডাক্তার পরিচয়ধারীরা উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা। এরকম প্রায় দু’ডজন ভুয়া ডাক্তার কুতুপালং বাজারে ফার্মেসির আড়ালে চেম্বার করে দিব্বি চালিয়ে যাচ্ছে ডাক্তারগিরি। এদের মধ্যে কুতুপালং বাজারের শেষ প্রান্তের কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক লাগোয়া সেলিম উল্লাহ ও বাজারের ভেতরে জহিরের ফার্মেসিতে বসা খোরশেদ আলমের নামডাক একটু বেশি।
এসব ভুয়া ডাক্তারের অপ-চিকিৎসায় প্রতারিত হচ্ছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীসহ স্থানীয়রা। এসব ভুয়া ডাক্তাররা অবৈধ ফার্মেসি দিয়ে ডাক্তারি করায় ফার্মেসি খাতে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হতে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। সমপ্রতি কুতুপালং বস্তি ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখা যায় প্রায় অর্ধশতাধিক অবৈধ ফার্মেসিতে ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি চিকিৎসা দিচ্ছে এসব ভুয়া ডাক্তার। এসব ডাক্তারদের মধ্যে ডাক্তার নামধারী রোহিঙ্গা সেলিম উল্লাহ ও খোরশেদ আলমের ফার্মেসির পেছনের চেম্বারে রোগীর সংখ্যা বেশি। তাছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করে চালাচ্ছে ডাক্তারগিরি। এছাড়াও প্রায় দু’ডজন রোহিঙ্গা ডাক্তারি চালিয়ে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এ কুতুপালং বাজারে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রোহিঙ্গা ডাক্তার সেলিম, নুরু ও আব্দুল্লাাহ জানায়, তারা ক্যাম্প পুলিশকে ম্যানেজ করে ওষুধের ব্যবসা চালিয়ে আসছে দীর্ঘদিন থেকে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাঈন উদ্দিন বেশ কয়েকবার কুতুপালং ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে জরিমানাসহ বেশ কয়েকটি অবৈধ ফার্মেসি বন্ধ করে দিলেও এসব রোহিঙ্গার ক্যাম্প পুলিশকে ম্যানেজ করে রমরমা ওষুধ বাণিজ্য চালিয়ে যেতে দেখা গেছে। তাদের ওষুধ সরবরাহ দিচ্ছে বিভিন্ন অখ্যাত কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা। ওষুধ প্রশাসনের শর্ত অনুযায়ী ফার্মেসিতে একজন করে স্বীকৃত ফার্মাসিস্ট দিয়ে সনদপ্রাপ্ত ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ বিক্রয়ে বাধ্যবাধকতা থাকলেও এখানে তা মানা হচ্ছে না। এছাড়া উখিয়া উপজেলা সদর, পালংখালী, থাইংখালী, বালুখালী, কোটবাজার, মরিচ্যা, সোনারপাড়া এলাকা ঘুরে দেখা যায় ব্যাঙের ছাতার মতো অবৈধভাবে গড়ে ওঠা লাইসেন্সহীন ফার্মেসিতে ফার্মাসিস্ট ছাড়াই ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ মানুষের অজ্ঞতার সুযোগে অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধও বেশি মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। অবৈধ আয়ের মাধ্যমে রাতারাতি বড় লোক হওয়ার আশা করে অনেকেই এখন ফার্মেসী বাণিজ্যে নেমে পড়ায় দিন দিন ফার্মেসির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মিসবাহ আহমেদ জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রোহিঙ্গা ডাক্তারসহ অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ফার্মেসির বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান চালানো হবে।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘অভিযোগ কাল্পনিক ও বানোয়াট’

মইনকে আশ্বস্ত করেছিলেন প্রণব

ব্লু হোয়েল গেম জায়েজ নয়

শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন চায় জেপি

রোহিঙ্গাদের দেখতে আসছেন জর্ডানের রানী

পেপ্যাল ‘জুম’ সার্ভিস বাংলাদেশে

হাওরে সরকারি প্রকল্পে লুটপাট হয়েছে

প্রার্থী নিয়ে নির্ভার আওয়ামী লীগ-বিএনপি

গণমাধ্যম-সশস্ত্র বাহিনীর সম্পর্ক নিয়ে সেমিনার

সিলেটে ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত, সেক্রেটারিসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

খালেদা জিয়ার পুরো জবানবন্দি

বরিশালে বিচারকের ভূমিকায় বেঞ্চ সহকারী, তোলপাড়

গাজীপুরে প্রাক্তন তিন সেনা সদস্যসহ ৪জন গ্রেপ্তার

খান আতা ইস্যুতে এফডিসিতে চলচ্চিত্র পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

আদালত অঙ্গনে খালেদার আইনজীবীদের হাতাহাতি

বন্যায় ৩০ শতাংশ ধান উৎপাদন কম হতে পারে