পদ্মা সেতুর ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা জানাতে সময় বেঁধে দিলো আদালত

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার | ২১ মার্চ ২০১৭, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৩৩
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির মিথ্যা গল্প সাজানোর নেপথ্য প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে তদন্ত কমিটি বা কমিশন গঠনে কি ব্যবস্থা  নেয়া হয়েছে তা জানাতে দেড় মাস সময় বেঁধে দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ৯ই মে’র মধ্যে এ বিষয়ে আদালতকে অবহিত করতে আদেশ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে জারি করা এক রুলের শুনানি শেষে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ্‌র সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট গতকাল এ আদেশ দেয়। আদালতের রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস। সাংবাদিকদের তিনি জানান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র  সচিব, আইন সচিব, যোগাযোগ সচিব, দুদক চেয়ারম্যান ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে ৯ই মের মধ্যে এ বিষয়ে জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির মিথ্যা গল্প সৃষ্টিকারী ও প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের কেন বিচারের আওতায় আনা হবে না- তা জানতে চেয়ে গত ১৫ই ফেব্রুয়ারি স্বতঃপ্রণোদিত রুল জারি করেন হাইকোর্টের
সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ।
একই সঙ্গে প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে ১৯৫৬ সালের ইনকোয়ারি অ্যাক্ট  এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন অনুযায়ী কমিশন বা কমিটি গঠনের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না- তা বিবাদীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়। এছাড়া ইনকোয়ারি কমিশন গঠনে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে- সে বিষয়ে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নির্দেশ দেয়া হয়।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে পাঁচ কোটি ডলারের কাজ পেতে এসএনসি-লাভালিনের কর্মীরা ২০১০ ও ২০১১ সালে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের ঘুষ দেয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে কানাডার আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। বিচারিক কার্যক্রম শেষে কানাডার আদালত গত ১০ই ফেব্রুয়ারি ওই মামলার তিন আসামিকে খালাস দেয়। রায়ে উল্লেখ করা হয়, এই মামলায় প্রমাণ হিসেবে যেসব তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়েছে সেগুলো অনুমানভিত্তিক, গাল-গল্প ও গুজবের বেশি কিছু নয়।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের জন্য চুক্তি করে বিশ্ব ব্যাংক। পরে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে তা স্থগিত ও বাতিল করে। দুর্নীতির ওই ষড়যন্ত্রে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ মাথায় নিয়ে পদত্যাগে বাধ্য হন ওই সময়ের যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন। এ ছাড়া সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী ও সাবেক সেতু সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলা হয়। এমনকি মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে কারাগারেও যেতে হয় এ অভিযোগে। একপর্যায়ে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন ছাড়াই নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমানে পদ্মা সেতুর কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। তবে, যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছিল তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি মর্মে দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়। পরে দুদকের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর ২০১৪ সালের অক্টোবরে সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াসহ সাত আসামির সবাইকে অব্যাহতি দেন আদালত।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

md. nurul alam

২০১৭-০৩-২১ ০২:৩৭:৪৪

মাননীয় আদালত, পদ্মা সেতু কেলেংকারীতে দেশের ভাবমুর্তি বিনষ্ট হওয়ায় এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি রুল জারির জন্য আপনাদের ধন্যবাদ । কিন্তু প্রশ্ন হল, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ তসরূপের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন তারিখ দিয়েও প্রকাশ করা হল না কেন- এর জন্য আপনাদের পক্ষ থেকে রুল জারি হলে সমগ্র জাতি তাদের গচ্ছিতা অর্থের চোরদের সম্পর্কে জানতে পারত না ?

আপনার মতামত দিন

লিভারপুলকে সেভিয়ার চমক

ক্যাচ মিসের খেসারত দিলো ঢাকা

মুগাবের পদত্যাগ, জিম্বাবুয়েজুড়ে উল্লাস

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের প্রস্তাব, যা বললেন মুখপাত্র...

তিন বাহিনীকে আধুনিক করতে সবই করবে সরকার

নিজেদের কার্যালয়ে এজাহার দায়েরের ক্ষমতা চায় দুদক

জাতিসংঘের সম্পৃক্ততায় আপত্তি মিয়ানমারের

চলতি সপ্তাহেই সমঝোতার আশা সুচির

বিচারক রেফারি মাত্র

বাংলাদেশে বসবাসকারী রোহিঙ্গা নেতা নিখোঁজ

অভিশংসনের মুখে মুগাবে

মাঠ গোছাতে ব্যস্ত প্রার্থীরা

নিজাম হাজারীর লোকজন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা করে

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নামে লুটপাট চলছে

দুদকের মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন মেয়র সাক্কু

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন টিটু রায়