ম্যাচসেরা তামিমের উদারতা

খেলা

স্পোর্টস রিপোর্টার | ২০ মার্চ ২০১৭, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ৯:৫২
বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক টেস্টে খেলা সকল ক্রিকেটারের প্রার্থনা ছিল শততম টেস্টে জয়! অবশেষে সেই জয় ধরা দিলো টাইগারদের ব্যাটে-বলে দারুণ পারফরম্যান্সে। কলম্বোর পি সারা ওভালে ঐতিহাসিক এই টেস্ট জয়ের নায়ক কে! শ্রীলঙ্কার ১৯১ রানে লক্ষ্যে ৮২ রানের দারুণ ইনিংস খেলা তামিম ইকবাল? নাকি প্রথম ইনিংসে ১১৬ রান করে দলকে ১২৯ রানের লিড এনে দেয়া সাকিব আল হাসান? বল হাতেও দুই ইনিংসে তিনি নিয়েছেন ৬ উইকেট। কিন্তু রেকর্ডে নাম লেখা থাকবে তামিমেরই। চাপেও দলকে জয়ের পথ দেখানো এই ব্যাটসম্যানকেই ম্যাচসেরা ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও তামিম নিজেই তা মানেন না। তার কাছে ম্যাচসেরা সাকিব। তাই ম্যাচ শেষে বন্ধুর হাতেই তুলে দিয়েছেন এ স্বীকৃতি। শততম ম্যাচে ক্রিকেটের ব্যাট-বলের লড়াইয়ের মাঝে এই সৌজন্য বোধের কথাটি সবাইকে জানিয়েছেন ধারাভাষ্যকার রাসেল আর্নল্ড। যে আবেগের গল্প ক্রিকেটের রেকর্ড বইয়ে না খেলা থাকলেও তা হৃদয়ে ধারণ করবে যুগ যুগ ধরে ক্রিকেট প্রেমিরা। সাকিব অবশ্য টেস্টে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৫ বার ম্যাচসেরা হয়েছেন। কিন্তু তামিমের এই স্বীকৃতি তাকেও হয়তো আরো বেশি অনুপ্রাণিত করবে পথ চালায়। লঙ্কার বিপক্ষে এই সিরিজে সেরা সাকিবই। এই নিয়ে বাংলাদেশের হয়ে চতুর্থবার টেস্টে সিরিজ সেরা হলেন বিশ্বসেরা এই অল রাউন্ডার। তার ব্যাট থেকে এসেছে ২ ম্যাচের ৪ ইনিংসে ১৬২ রান। সেই সঙ্গে বল হাতে নিয়েছেন ৯টি উইকেট।  
শততম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে প্রথম ইনিংসে ৩৩৮ রানে অল আউট করে বোলাররা দারুণ সুযোগ করে দিয়েছিলেন। ব্যাট হাতে সেই সুযোগকে সম্ভাবনার পথ দেখান দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। ৯৫ রানের দারুণ এক জুটি গড়েছিলেন দু’জন। কিন্তু ৪৯ রানে তামিম আউট হওয়ার পর বড় রকম বিপর্যয়ে পড়ে দল। কিছুক্ষণের মধ্যে ১৯৮ রানে ৫ উইকেট হারায় দল। ক্রিজে এসে সাকিব এমন এলোমেলো খেলা শুরু করেন যে তাকে নিয়ে শুরু আবারো সমালোচনার ঝড়। কিন্তু রাত পার হতেই টেস্টের তৃতীয় দিন যেন বদলে যাওয়া এক সাকিব। ১৫৯ বলের ইনিংসে ১০টি চারে নিজের ৫ম টেস্ট সেঞ্চুরিই তুলে নেন। সেই সঙ্গে দলের  স্কোর বোর্ডে ৪৬৭ রান। পিছিয়ে থেকে ব্যাট করতে নেমে লঙ্কানরা দ্বিতীয় ইনিংসে দারুণ শুরু করলেও বোলাররা ফের পথ দেখান।  মোস্তাফিজুর রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজদের মতো তরুণদের সঙ্গে সাকিব তার অভিজ্ঞতা ও প্রতিভার সবটাই উজাড় করে দিতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত ৩১৯ রানে আটকাতে সফল হন। বল হাতে ১৪০ রান খরচ করে সাকিব নেন ৪টি উইকেট।
বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্য ১৯১ রানের। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের দোয়া তখন ভারত সাগরের ঢেউ হয়ে আছড়ে পড়ছিল দ্বীপদেশ শ্রীলঙ্কায়। সেই দোয়া আর প্রার্থনার আস্থা যেন তামিমের ব্যাট হলো ধৈর্যের প্রতীক। ২২ রানে ২ উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলে ১২৫ বলের ইনিংসে ৭টি চার ও একটি ছয়ে ৮২ রান। দলের জয় থেকে ৬০ রান দূরে আউট হলেও তার দেখানো পথেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দল। চাপের মধ্যেও দুই ইনিংসে মোট ১৩১ রান। তাই ম্যাচ সেরা পুরস্কারটাও উঠলো তার হাতে। তৃতীয়বার ম্যাচসেরা হয়ে তামিম স্পর্শ করলো মুশফিকুর রহীম ও আশরাফুলকে। এই সিরিজে তার ব্যাট থেকে ৪ ইনিংসে ২টি ফিফটিতে ৫৪.০৪ গড়ে ২০৭ রান। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ দল ১০০ টেস্টে জয় পেয়েছে ৯টি যার ৮টিতেই ছিলেন তামিম। আর ড্র করেছে ১৫টির যার ৯টি ম্যাচে ছিল তার অবদান। বিশেষ করে খুলনায় পাকিস্তানের বিপক্ষে দেশের হয়ে দ্বিতীয় ডবল সেঞ্চুরি করেন ম্যাচটি ড্র হয়।
বাংলাদেশের ৯ জয়
সাল     প্রতিপক্ষ     ভেন্যু      ফল
২০০৫     জিম্বাবুয়ে     চট্টগ্রাম     ২২৬ রানে জয়  
২০০৯     ও. ইন্ডিজ     কিংসটাউন     ৯৫ রানে জয়
২০০৯     ও. ইন্ডিজ     গ্রেনেডা     ৪ উইকেটে জয়
২০১৩     জিম্বাবুয়ে     হারারে     ১৪৩ রানে জয়
২০১৪     জিম্বাবুয়ে     মিরপুর     ৩ উইকেটে জয়
২০১৪     জিম্বাবুয়ে     খুলনা     ১৬২ রানে জয়
২০১৪     জিম্বাবুয়ে     চট্টগ্রাম     ১৮৬ রানে জয়
২০১৬     ইংল্যান্ড     মিরপুর     ১০৮ রানে জয়
২০১৭     শ্র্রীলঙ্কা     পিএসএস     ৪ উইকেটে জয়
স্কোর কার্ড (পঞ্চম দিন)
বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় টেস্ট
পি সারা ওভাল স্টেডিয়াম, কলম্বো
১৫-১৯শে মার্চ ২০১৭
টস: শ্রীলঙ্কা, ব্যাটিং
শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংস: ৩৩৮ (চান্ডিমাল ১৩৮, মিরাজ ৩/৯০, মোস্তাফিজ ২/৫০, শুভাষিস ২/৫৩, সাকিব ২/৮০, তাইজুল ১/৪০)
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৪৬৭ (সাকিব ১১৬, মোসাদ্দেক ৭৫, সৌম্য ৬১, মুশফিক ৫২, তামিম ৪৯, হেরাথ ৪/৮২, সান্দাকান ৪/১৪০)
শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ইনিংস: ৩১৯ (করুণারত্নে ১২৬, পেরেরা ৫০, লাকমাল ৪২,  সাকিব ৪/৭৪, মোস্তাফিজ ৩/৭৮, তাইজুল ১/৩৮, মিরাজ ১/৭১)।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস     রান     বল    ৪     ৬
তামিম ক চান্ডিমাল ব পেরেরা     ৮২     ১২৫     ৭     ১
সৌম্য ক থারাঙ্গা ব হেরাথ ১০     ২৬     ২     ০
ইমরুল ক গুনারত্নে ব হেরাথ ০     ১     ০     ০
সাব্বির এলবি পেরেরা     ৪১     ৭৬     ৫     ০
সাকিব ব পেরেরা     ১৫     ৪৩     ১     ০
মুশফিক অপরাজিত     ২২     ৪৫     ১     ০
মোসাদ্দেক ক ডিকওয়েলা ব হেরাথ ১৩     ২৮     ২     ০
মিরাজ অপরাজিত     ২     ২     ০     ০
অতিরিক্ত (বা ৪, লেবা ১, ও ১)     ৬
মোট (৬ উইকেট, ৫৭.৫ ওভার)     ১৯১
উইকেট পতন: ১-২২ (সৌম্য, ৭.৫ ওভার), ২-২২ (ইমরুল, ৭.৬), ৩-১৩১ (তামিম, ৩৬.৫), ৪-১৪৩ (সাব্বির, ৪০.৫), ৫-১৬২ (সাকিব, ৪৮.১), ৬-১৮৯ (মোসাদ্দেক, ৫৭.২)।
বোলিং: পেরেরা ২২-১-৫৯-৩, হেরাথ ২৪.৫-২-৭৫-৩, ডি সিলভা ২-০-৭-০, সান্দাকান ৬-১-৩৪-০, লাকমাল ২-০-৭-০, গুনারত্নে ১-০-৪-০।
ফল: বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী
ম্যাচসেরা: তামিম ইকবাল (বাংলাদেশ)
সিরিজ সেরা: সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ)
দুই ম্যাচ সিরিজ: ১-১ সমতা

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন