ফ্লাডলাইটের জন্য পেছাচ্ছে এশিয়া কাপ হকি

খেলা

স্পোর্টস রিপোর্টার | ২০ মার্চ ২০১৭, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:০৭
ওয়ার্ল্ড কাপ হকি লীগ দ্বিতীয় রাউন্ড সফলভাবে আয়োজন করলেও এশিয়া কাপ আয়োজন নিয়ে বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। ফ্লাডলাইট স্থাপনে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় বড় এই টুর্নামেন্ট আয়োজন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে সেপ্টেম্বরের টুর্নামেন্ট গড়াতে পারে অক্টোবরে। এমন তথ্যই জানিয়েছেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাদেক। এশিয়া কাপ হকির যাত্রা শুরু ১৯৮২ সালে পাকিস্তানের করাচিতে। দ্বিতীয় আসর বসেছিল ঢাকায় ১৯৮৫ সালে। সর্বশেষ সাতবারের চারবারই হয়েছে মালয়েশিয়ায়। দু’বার ভারতে (নয়াদিল্লি ও চেন্নাই) এবং একবার জাপানের হিরোশিমায়। আগের নয় আসরের পাঁচটিতে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত গত আসরে আট দলের মধ্যে অষ্টম হয় জিমি বাহিনী। ৩২ বছর পর ফের এমন বড় আসর আয়োজনের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের সামনে। এশিয়া কাপ আয়োজনের জন্য ফ্লাডলাইট অত্যাবশ্যকীয়- এশিয়ান হকি ফেডারেশনের এমন শর্ত পূরণেই কিছুটা জট বেধেছে। ৩০শে সেপ্টেম্বর থেকে ৮ই অক্টোবর মওলানা ভাসানী হকি  স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা এশিয়া কাপের নবম আসর। যেখানে অংশ নেবে ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, চীন, ওমান, জাপান ও স্বাগতিক বাংলাদেশ। এই টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দেশটি মহাদেশীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। চারটি মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়ন দলই সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়ে থাকে। সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া কাপ হকির জন্য মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়াম ঢেলে সাজানোর কথা থাকলেও এখনো তার প্রস্তুতি শুরুই করতে পারেনি হকি ফেডারেশন। জানা গেছে, ফ্লাডলাইটের বিষয়ে কোনো কূল-কিনারা করতে পারছে না হকি ফেডারেশন। এক বছর আগে ফ্লাডলাইটের জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিল হকি ফেডারেশন। দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে সেই অর্থ বরাদ্দ পেলেও এখন তা আটকে রয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে। দৌড়ঝাঁপ করেও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র পাওয়া যাচ্ছে না। তাই টুর্নামেন্টটি পিছিয়ে নভেম্বরে নিতে এশিয়ান হকি ফেডারেশনের (এএইচএফ) কাছে আবেদন করেছিলেন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা। কিন্তু তা নাকচ করে দিয়েছে এএইচএফ। তারা জানিয়েছে ১৪ থেকে ৩১শে অক্টোবরের মধ্যেই এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করতে হবে বাংলাদেশকে। এমন শর্তের কারণেই এখন হাঁসফাঁস করছেন কর্তারা। এ বিষয়ে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাদেক জানান, ‘এশিয়া কাপ আয়োজনের জন্য সেপ্টেম্বরেই আমাদের আগের নির্ধারিত সময় ছিল। কিন্তু ফ্লাডলাইট স্থাপনে সময় ক্ষেপণ হচ্ছে। এখনো আমরা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে ছাড়পত্রই পাইনি। যেখানে ফ্লাডলাইট স্থাপনসহ আনুষঙ্গিক কাজ সারতে সময় লাগবে পাঁচ থেকে ছয় মাস। সেখানে আমরা কাজই শুরু করতে পারিনি। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ছাড়পত্র দিলেই ফ্লাডলাইটের জন্য দরপত্র দেবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। অনেক সময় লেগে যাবে। তাই টুর্নামেন্টটি দু’মাস পিছিয়ে নভেম্বরে নেয়ার জন্য এএইচএফের কাছে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু তারা ফিরতি মেইলে অক্টোবরের মধ্যেই টুর্নামেন্টের আয়োজন করার কথা বলেছে। এখন আমরা বেশ চাপে পড়ে গেছি। এখন যাতে দ্রুততম সময়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে ছাড়পত্র পাওয়া যায় সে জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’ এদিকে আর্থিক সমস্যায় ব্যাংকে থাকা স্থায়ী আমানত ভাঙতে বাধ্য হয়েছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। ওয়ার্ল্ড হকি লীগ দ্বিতীয় রাউন্ডের পৃষ্ঠপোষকতা বাবদ ইনডেক্স গ্রুপের কর্ণধার এবং ফেডারেশনের সহ-সভাপতি শফিউল্লাহ আল মুনীরের কাছ থেকে পুরো অর্থ পায়নি ফেডারেশন। তাই স্থায়ী আমানত ভেঙে পাওনাদারদের অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে বলে ফেডারেশন সূত্রে জানা গেছে।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন