বেড আছে রোগী নেই সরজমিন মুগদা জেনারেল হাসপাতাল

এক্সক্লুসিভ

ফরিদ উদ্দিন আহমেদ | ২০ মার্চ ২০১৭, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৫০
 জীবন চন্দ্র শীল। বয়স ৬০। রক্ত শূন্যতার কারণে জীবন বাঁচাতে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ৭ই মার্চ ভর্তি হন। তিনি মেডিসিন ওয়ার্ডের এমএনপি-এক্স-শূন্য ৪ নম্বর বেডে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। ৯ই মার্চ কথা হয় রোগী ও তার দুই মেয়ের সঙ্গে। তারা হাসপাতালের নার্স ও বয়দের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ তুলেন।
মুগদা এলাকার বাসিন্দা রোগীর বড় মেয়ে অঞ্জনা রানী শীল বলেন, এই হাসপাতালের নার্সদের আচার-ব্যবহার খুব খারাপ। তারা রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে ধমকের সুরে কথা বলেন। নার্সরা ডেস্কে বসে গল্প করেন। ডাকলে ক্ষেপে যান। রক্তে স্যালাইন শেষ হলেও তা খুলতে বললে, ধমক দিয়ে তারা বলতে থাকেন আমাদের চেয়ে বেশি বুঝলে রোগী নিয়ে আসবেন না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তার বাবাকে হাসপাতালে ভর্তির পর তিন দিনেও বেডশিট পরিবর্তন করে দেয়নি। তার পাশের আরেক রোগীর স্বজনও প্রায় একই অভিযোগ করলেন।
শুধু নার্স ও বয়দের দুর্ব্যবহারই নয়, রয়েছে রাজধানীর মুগদাপাড়ায় অবস্থিত ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটিতে চিকিৎসা সেবায় চরম বিশৃঙ্খলাও। বাইরে থেকে হাসপাতালটি চমৎকার দৃষ্টিনন্দন এবং চাকচিক্য দেখা গেলেও প্রতিষ্ঠানটি থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়ার জন্য এসে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় রোগীদের। সরজমিন দেখা গেছে, ৩৪৪ নম্বর কক্ষে ইকো করার জন্য এক নারী পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে নগদ টাকার উৎকোচ গ্রহণ করছেন। অথচ দীর্ঘ লাইনে থেকেও অনেক রোগীকে বহু পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়েছে। মুগদা হাসপাতালে আসা রোগীদের হাসপাতালের পাশে স্থানীয় সুরাইয়া হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাড়ে ৯ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত ৫০০ শয্যার হাসপাতালটিতে ২৪টি বিভাগ, চিকিৎসক আছেন ১৪৩ জন। রাজধানীর অন্য সব সরকারি হাসপাতালে যেখানে বিছানার দ্বিগুণ রোগী, সেখানে এই হাসপাতালে রোগী খু্‌বই কম। কোনো কোনো ওয়ার্ডে হাতেগনা চার-পাঁচ জন রোগী রয়েছে। সার্বিকভাবে হাসপাতালটিতে ৫০ শতাংশও রোগী আছে কিনা স্বয়ং প্রশ্ন তুলেন নার্সরা। অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয় রাজধানীর দক্ষিণ এলাকার বাসিন্দাদের। সে জন্য মুগদা জেনারেল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে সরকার। তিন বছর পেরিয়ে গেলেও হাসপাতালটির অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। গত ৯ই মার্চ হাসপাতাল ঘুরে বিভিন্ন ওয়ার্ডে সারি সারি বিছানা ফাঁকা থাকতে দেখা গেছে। তবে হাসপাতাল সূত্র বলছে, রোগীর সংখ্যা এক-দুবার ২০০ ছাড়িয়েছে। হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের ৫০টি শয্যার অধিকাংশই ফাঁকা। হৃদরোগ বিভাগে ২০ শয্যার অধিকাংশ ছিল ফাঁকা। রোগীর চাপ না থাকায় বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকদের দেখা গেছে গল্পগুজব করতে। কয়েকজন নার্স বলেন, প্রচার কম হওয়ায় এখানে রোগী আসে না। শুধু অন্তর্বিভাগে নয়, বহির্বিভাগেও রোগীর খুব একটা চাপ দেখা যায়নি সেদিন। মেডিসিন বিভাগ ঘুরে রোগীদের চরম ভোগান্তি এবং নানা অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গেছে। মেডিসিন বিভাগে গিয়ে নার্সদের অবহেলা এবং কর্মচারীদের দুর্ব্যবহারে রোগী এখানে থাকছে না বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন বয়ও। এ বিষয়ে নার্স স্টেশনে গিয়ে জানতে চাইলে তারা কোনোভাবেই বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি। তারা জানান, এখানে সব লোক নতুন নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া এখানে লোকবল সংকট রয়েছে। মুগদা হাসপাতালে যারা ক্লিনার পদে চাকরি করেন তারাই মূলত রোগীদের প্রেসার মাপেন ও স্যালাইন পুশ করে থাকেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোস্তাফিজ

২০১৭-০৩-২০ ০০:০৫:১২

কি বলবেন ? না কিছুই বলা যাবেনা,আর বল্লেইতো হলো, হসপাতালের গেট বন্ধ করে, রোগীদের জিম্মি করে কর্ম বিরতী,উনারা এ দেশের কৃতী সন্তান, আর আমরা উনাদের কছে কিল ঘুষি,চড় থাপ্পড় মূল্যায়ীত,মানুষ, সরকার উনাদের আর কি দিলে খুশি হবেন উনারা জানিনা,

Z Ahmed

২০১৭-০৩-১৯ ১৯:১৬:২৪

This is a gloomy picture of Bangladesh hospitals especially govt hospitals. Corruption, malpractices, negligence of duties, misbehavior, mis-dealings are common practices everywhere although so called reports, statistics show that corruption is less in Bangladesh!!!! Who will stand against corruption? Is there any "missil", any protest against corruption, against crimes, injustice in this country? There's none. So it will continue as usual and people will have to bear the consequences.

আপনার মতামত দিন

সাবেক প্রক্টর কারাগারে, প্রতিবাদে অবরুদ্ধ চবি

আপন জুয়েলার্সের তিন মালিকের জামিন স্থগিত

এবারে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁস

‘বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেনা’

লেবাননে বৃটিশ কূটনীতিককে শ্বাসরোধ করে হত্যা

বিমানে দেখা এরশাদ-ফখরুলের

হলফনামার তথ্য গ্রহণযোগ্য নয়: সুজন

ছিনতাইকারীর টানাটানিতে মায়ের কোল থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু

গুজরাট ও হিমাচলে বিজেপিই জিততে চলেছে

আরো ৪০ রোহিঙ্গা গ্রাম ভস্মীভূত:  এইচআরডব্লিউ

ভর্তি জালিয়াতি সন্দেহে রাবির দুই ছাত্রলীগ নেতা আটক

‘এটাও কিন্তু একটা চ্যালেঞ্জের বিষয়’

সৌদিই ব্যতিক্রম

তাদের কি বিবেক বলে কিছু নেই

ঢাকা উত্তরের উপনির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে

‘উন্নয়ন কথামালায়, মানুষ কষ্টে আছে’