সুখী জীবনের একমাত্র রহস্য- নিবিড় সম্পর্ক: হার্ভার্ডের গবেষণা

এক্সক্লুসিভ

মানবজমিন ডেস্ক | ২০ মার্চ ২০১৭, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:১০
সুখময়, সুস্থ জীবনের রহস্য কী? এর উত্তর জানতে দীর্ঘ ৭৫ বছর ধরে একটি গবেষণা চালিয়েছে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি। ২০০৩ সালে গ্রান্ড স্টাডি নামের ওই গবেষণাটির দায়িত্ব নেন ইউনিভার্সিটির মনোরোগ বিশেষজ্ঞ রবার্ট ওয়ালডিঙ্গার। এ গবেষণার নেতৃত্ব দেয়া চতুর্থ ব্যক্তি তিনি।
কয়েক দশকব্যাপী এই গবেষণা প্রকল্প ১৯৩৮ সালে হার্ভার্ডে সুযোগ পাওয়া পুরুষ শিক্ষার্থীদের জীবনধারা পর্যবেক্ষণ করা শুরু করে। এদের মধ্যে ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি এবং ওয়াশিংটন পোস্টের সাবেক সম্পাদক বেন ব্র্যাডলি। গবেষণায় তাদের জীবনের প্রতিটি দিকের ওপর নজর রাখা হয়। ৭০-এর দশকে গবেষণা দলটি একইরকম আরেকটি দলের সঙ্গে জোট বাঁধে, যারা ১৯৪০-এর দশক থেকে বোস্টন শহর নিবাসী নিম্নবিত্ত একদল যুবকের জীবনধারা পর্যবেক্ষণ করছিল।
এতে করে সামাজিক অবস্থান ও বেড়ে ওঠার পরিবেশের পারস্পরিক তুলনা করতে পেরেছেন গবেষকরা। এছাড়া, যাদের নিয়ে গবেষণা চালানো হয়েছে তাদের প্রত্যেকেই শেতাঙ্গ পুরুষ। নিয়মিত বিরতিতে এসব পুরুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা পর্যালোচনা করা হয়। সম্প্রতি যোগ হয়েছে জিনগত পরীক্ষা। তরুণ-যুবক থেকে বার্ধক্যে যাওয়া পর্যন্ত তাদের ওপর চালানো পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা থেকে অনেক উপসংহার টানা হয়েছে। তবে, রবার্ট ওয়ালডিঙ্গার মনে করেন গবেষণা থেকে নেয়ার বিষয় একটাই। সেটা হলো- উভয় দলে সুখী ও সুস্থ তারাই ছিলেন, যারা ঘনিষ্ঠ, নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।  
২০১৫-র নভেম্বরে টেড টকসে ওয়ালডিঙ্গার বলেন, ‘যেসব মানুষ তাদের চাওয়ার থেকে বেশি বিচ্ছিন্ন বা একা তারা কম সুখী বোধ করেন। মাঝবয়সে গিয়ে তাদের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে শুরু করে। তাদের মস্তিষ্কের সক্রিয়তা কমে যায় আগে ভাগে। আর তারা যাদের একাকিত্ব নেই, তাদের তুলনায় কম সময় বাঁচে। আর দেখা যাচ্ছে ভালো, নিবিড় সম্পর্কগুলো বুড়িয়ে যাওয়ার কিছু লক্ষণ, প্রভাব থেকে বাঁচিয়ে রাখে।’
ওয়ালডিঙ্গারের প্রত্যাশা, মানুষ এটা উপলব্ধি করুক যে ভালো জীবনের বাণিজ্যিক যে চিত্রায়ন- সম্পদ, খ্যাতি, ক্যারিয়ার সফলতা; এসব সুস্থতা বা সুখ এনে দেয় না। বরং অন্যদের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখতে যে শ্রম একজন মানুষ দেয়, সেটাই কাজে আসে।
সম্পর্কের মান আর ঘনিষ্ঠতার পাশপাশি এর স্থায়িত্ব আর দৃঢ়তাও গুরত্বপূর্ণ। ক্যাজুয়াল রিলেশনশিপ কাজে আসবে না যেমন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা যে সম্পর্ক তৈরি করি। বিবাদমূলক সম্পর্ক যেমন অশান্তি, অপমানের বৈবাহিক সম্পর্ক বা অবিশ্বস্ত কোনো বন্ধু- এগুলোও উপকারী নয়। ভালো একটি জীবনের জন্য তো বটেই, ব্যক্তিগত শান্তির জন্যও ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ।
টেড টকে বক্তব্য রাখার পর এখন পর্যন্ত ওয়াল্ডিঙ্গারের ভিডিওটি দেখা হয়েছে ১ কোটি ৩৪ লাখ বার। তার কাছে শ’ শ’ মেল গেছে। আর জীবনকে আরও ভালো, সুখময় করা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে তিনি একটি ব্লগ চালু করেছেন।  
টেড টকে ওয়াল্ডিঙ্গার বলেছেন, ‘আমাদের পছন্দ হলো দ্রুত সমাধান। এমন কিছু যদি পাওয়া যেতো যেটা আমাদের জীবনকে সুন্দর করে দেবে আর ওভাবেই রাখবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সম্পর্কগুলো তালগোল পাকানো হয়। থাকে নানা জটিলতা। আর পরিবার, বন্ধুজনদের খোঁজখবর রাখা আর যত্ন-আত্তি করার কঠিন কাজ ঠিক আকর্ষণীয় নয়। এটা আবার সারা জীবনের কাজ। কখনই তা শেষ হয় না।’

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

অভিযোগের পাহাড়, অসহায় ইউজিসি

প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে না আজ

মৈত্রী এক্সপ্রেসে শ্লীলতাহানির শিকার বাংলাদেশি নারী

‘২০৬ নম্বর কক্ষে আছি, আমরা আত্মহত্যা করছি’

ট্রেনে কাটা পড়ে দুই পা হারালেন ঢাবি ছাত্র

পুলে যাচ্ছে সেই সব বিলাসবহুল গাড়ি

নীলক্ষেত মোড়ে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ, এমপির আশ্বাসে স্থগিত

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সফর সফল করতে নির্দেশনা

নেতাকর্মীরা জেলে থাকলে নির্বাচন হবে না: ফখরুল

তিন দিনের ধর্মঘটে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা

ইডিয়ট বললেন মারডক

সহায়ক সরকারের রূপরেখা প্রণয়নের কাজ শেষ পর্যায়ে

২৩শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

বাসায় ফিরছেন মেয়র আইভী

‘আমাকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে’

জনগণ রাস্তায় নেমে ভোটাধিকার আদায় করবে: মোশাররফ