টিলারসন-শি জিনপিং বৈঠক

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ২০ মার্চ ২০১৭, সোমবার
 চীন সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।  রোববার অনুষ্ঠিত বৈঠকে শি জিনপিং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার ও সংবেদনশীল ইস্যুগুলো সঠিকভাবে মোকাবিলার আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন, দু’ দেশের বিবাদের চেয়ে অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে বেশি। তিনি আঞ্চলিক উত্তেজনাকর বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আরো বেশি যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এসব বলা হয়েছে। অপরদিকে টিলারসন চীনের প্রেসিডেন্টকে বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চীন সফরের অপেক্ষায় রয়েছেন। জিনপিং বলেন, তিনি এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা উভয়েই গঠনমূলক উন্নয়নের নতুন যুগের প্রত্যাশায় রয়েছি।’ টিলারসন জবাবে বলেন, এ যোগাযোগকে খুবই গুরুত্ব দিয়ে থাকেন ট্রাম্প। এ খবর দিয়েছে বিবিসি। খবরে বলা হয়, বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কার্যক্রম ও তাইওয়ান ইস্যুতে কোনো আলাপ হয়নি। সিএনএনের খবরে বলা হয়, উত্তর কোরিয়া নতুন উন্নতমানের রকেট ইঞ্জিনের সফল পরীক্ষার ঘোষণা দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর এশিয়ায় নিজের প্রথম সরকারি সফরের শেষ দেশ হিসেবে চীন সফরে রয়েছেন টিলারসন। এর আগে তিনি জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াও সফর করেছেন। এর আগে উত্তর কোরিয়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এ নিয়ে কোরিয়ান উপদ্বীপে সৃষ্ট উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সফরে নেমেছেন টিলারসন। অনেকের আশঙ্কা, পিয়ংইয়ং আরো একটি পারমাণবিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। বিবিসি’র খবরে বলা হয়, ওয়াশিংটন চায় উত্তর কোরিয়ার প্রধান মিত্র ও বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে চীন দেশটির সমরাস্ত্র কার্যক্রম সীমিত করার চেষ্টা করুক। শুক্রবার টিলারসন যখন চীন সফরে ছিলেন, তখনই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক টুইটে তার হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি লিখেন, উত্তর কোরিয়া বেশ বাজেভাবে আচরণ করছে। তারা অনেকদিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মশকরা করছে। আর চীন তেমন কিছুই করেনি।’ আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রে শি জিনপিং-এর সম্ভাব্য সফরের জন্য দু’ দেশ আলোচনা চালাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বহু বছর ধরে চীনের বড় সমালোচক। বিশেষ করে, চীনের মুদ্রা নীতি ও দক্ষিণ চীন সাগরে দেশটির কার্যক্রম নিয়ে মুখর ছিলেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময়ও বারবার চীনকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছেন তিনি। হুমকি দিয়েছেন বাণিজ্য যুদ্ধের। এমনকি ‘ওয়ান চায়না’ পলিসি না মেনে তাইওয়ানকে স্বীকৃতি দেয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিতর্কের ঝড় তুলেছেন। তবে সম্প্রতি কিছুটা নরম হয়েছে তার সুর।
 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন