কয়রায় বেড়িবাঁধের ভাঙন

বাংলারজমিন

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি | ২০ মার্চ ২০১৭, সোমবার
কয়রায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৩-১৪/১ পোল্ডারের কপোতাক্ষ নদের হরিণখোলা ও গোবরা এবং ১৩-১৪/২ পোল্ডারের শাকবাড়িয়া নদীর পবনা বেড়িবাঁধ ভয়বহ ভাঙনের কবলে পড়েছে। ইতিমধ্যে মূল বাঁধের অর্ধেক অংশ ধসে গিয়ে  বেশিরভাগ বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। এত কিছুর পরেও পাউবোর কর্তৃপক্ষের নিকট বার বার এলাকাবাসী জানালেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে না পারায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ঐ এলাকার হাজার হাজার মানুষ। গত এক সপ্তাহে এ সকল বেড়বাঁধ নদীগর্ভে ধসে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়লে দুটি ইউনিয়নের লোকজন ভীত হয়ে পড়েছে। জরুরিভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন আতঙ্কিত এলাকাবাসী। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েকদিন নদীতে প্রবল জোয়ারের পানি বৃদ্ধি ও স্রোতের বেগ বেশি হওয়ায় নদী ভাঙন বৃদ্ধি পেয়েছে।
যার কারনে ঐ এলাকায় বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ধস নেমেছে। যেকোন মুহূর্তে সম্পূর্ণ বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে পুরো এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আলহাজ আ. গফফার জানান, কপোতাক্ষ নদের হরিণখোলা থেকে গোবরা পর্যন্ত বিশাল এলাকাজুড়ে ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে। জরুরিভিত্তিতে এ এলাকার বেড়িবাঁধ রক্ষা করা সম্ভব না হলে যে কোনো মুহূর্তে প্লাবিত হতে পারে। প্লাবিত হওয়ার কারণে কয়রা ইউনিয়নের ৫টি গ্রাম লবণ পানিতে তলিয়ে যাবে এবং উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়বে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শুধু হরিণখোলা গোবরা নয় উত্তর বেদকাশি ইউনয়নের, গাজীপাড়া, কাটকাটা, কাঠমারচর, গাতিরঘেরী, গাববুনিয়া, হাজতখালী, কাশিরহাট, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের, তেতুলতলার চর, দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের  জোড়শিং, আংটিহারা, চোরামুখা, মেদেরচর, কয়রা ইউনিয়নের ৪নং কয়রা, ৬নং কয়রা, মদিনাবাদ লঞ্চঘাট এলাকার বেড়িবাঁধ ব্যাপক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এ সকল বাঁধ যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।

 মহারাজপুর ইউনিয়নের সমাজসেবক ব্রজেন মণ্ডল বলেন ১৩-১৪/১ পোল্ডারের পবনা বেড়িবাঁধের কয়েকটি স্থানে গত কয়েক দিনে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। যে জন্য বেড়িবাঁধ চরম হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধে বেড়িবাঁধ মেরামত করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এতে চিংড়ি ঘেরসহ মানুষের বসতভিটা লোনা পানিতে তলিয়ে যেতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের আমাদী সেকশন কর্মকর্তা মো. খায়রুল আলম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আ খ ম তমিজ উদ্দিন বলেন, কয়রার সব চেয়ে বড় সমস্যা হলো নদী ভাঙন তাই সেই দিকটা বিবেচনা করে আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে জরুরিভিত্তিতে পরিকল্পনা মাফিক বেড়িবাঁধ মেরামত করা প্রয়োজন। তিনি পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেছে বলে জানিয়েছে।
 

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন