বাংলা সিরিয়ালের ক্ষতিকর দিক নিয়ে বিতর্ক

বিনোদন

কলকাতা প্রতিনিধি | ২০ মার্চ ২০১৭, সোমবার
সন্ধ্যার প্রাইম টাইমে টিভিতে বিভিন্ন বাংলা চ্যানেলে দেখানো হয় নানা ধরনের সিরিয়াল। আর এই সিরিয়ালে বুঁদ হয়ে থাকেন দর্শকরা। গৃহবধূ থেকে শুরু করে বাড়ির পরিচারিকারা মনের আনন্দে এগুলো দেখেন। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়িয়ে বাংলাদেশেও এসব বাংলা সিরিয়ালের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। তবে এসব সিরিয়াল নিয়েই প্রবল আপত্তি তুলে ধরেছেন পশ্চিমবঙ্গের গভর্নর কেশরী নাথ ত্রিপাঠি। এসব সিরিয়াল সমাজের জন্য, বিশেষ করে মহিলাদের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর জানিয়ে অভিযোগও জমা পড়েছে পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কমিশনে।
‘এই ছেলেটা বেলবেলেটা’, ‘পুণ্যি পুকুর’, ‘মেম বৌ’, ‘রাধা’ প্রভৃতি সিরিয়ালে যেভাবে মহিলাদের তুলে ধরা হচ্ছে তা অস্বাস্থ্যকর বলে মন্তব্য করেছেন একদল ইন্ডিপেন্ডেন্ট মহিলা সাংবাদিক। সম্প্রতি কলকাতায় একটি অনুষ্ঠানে গভর্নর কেশরী নাথ ত্রিপাঠি অধিকাংশ বাংলা সিরিয়াল নিয়ে অসন্তোষ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি এসব সিরিয়াল সমাজের পক্ষে ক্ষতিকর বলে বর্ণনা করে বলেছেন, দুর্ভাগ্যের বিষয়, বেশ কিছু চ্যানেলে এমন কিছু সিরিয়াল প্রচার হচ্ছে, যেখানে সংসারে নানা অশান্তি, ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ঝগড়াসহ নানা বিষয় তুলে ধরা হয়। রাজ্যপালের বক্তব্যের সঙ্গে অনেকেই একমত। বাংলা সিরিয়ালগুলো সাংসারিক ঝামেলা বা পারিবারিক ষড়যন্ত্রে ভরপুর। একই সঙ্গে সিরিয়ালে মহিলাদের ওপর অত্যাচার এবং একাধিক বিয়ে ও তাদের নিয়ে একসঙ্গে সংসার করার মতো ঘটনা স্বাভাবিক হিসেবেই দেখানো হচ্ছে। সাংবাদিক মঞ্জিরা মজুমদার বলেছেন, সিরিয়াল গুলোতে মহিলাদের অগ্রগতির আসল দিকটি তুলে ধরার পরিবর্তে তাদের হীন করেই তুলে ধরা হচ্ছে। হিংসা, ঝগড়া ও পরস্পরকে আক্রমণ, সর্বোপরি পুরুষতন্ত্রকেই ভয়ঙ্করভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, বহুগামিতা অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও সিরিয়ালে এসব দেখানো হচ্ছে। এর ফলে এসব সিরিয়াল পারিবারিক মূল্যবোধ নিয়ে সমাজে ভুল বার্তাই দিচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন। রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপারসন অনন্যা চ্যাটার্জি বলেছেন, মহিলাদের অগ্রগতি নিয়ে যেখানে আশাপূর্ণা দেবী, মহাশ্বেতা দেবী, নবনীতা দেবসেন, সুচিত্রা ভট্টাচার্য্যের মতো লেখিকারা অসংখ্য গল্প লিখেছেন সেখানে অবাস্তব অর্থহীন বাংলা সিরিয়ালগুলো দেখে দুঃখই হয়। আর তাই এগুলো বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তিনি। তবে শ্রীকান্ত মোহতাবের মতো প্রযোজক, যিনি এই ধরনের অনেক সিরিয়াল করেছেন, তিনি বলেছেন, আমরা সিরিয়ালে যা তুলে ধরছি তা সত্যি ঘটনা। যারা প্রতিবাদ করছেন, তারা কি বুক ঠুকে বলতে পারবেন সমাজে বহুগামিতা নেই।  তিনি জোরের সঙ্গে বলেছেন, আসল সত্যটা হলো আমাদের সমাজের নানা ক্ষেত্রে যেসব অন্যায় হচ্ছে সেসব অস্বীকার করে মুখ ঘুরিয়ে থাকতে চাইছে সবাই। অভিনেত্রী বিদীপ্তা চক্রবর্তী বলেছেন, সিনেমা বা টিভির নিউজেও তো মেয়েদের ওপর অত্যাচারের নানা ঘটনা দেখানো হয়, তাহলে টিভি সিরিয়ালগুলোকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে কেন? অবশ্য সামাজিক মাধ্যমে এসব সিরিয়াল নিয়ে অনেক দিন ধরেই প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। কিন্তু তাতে কান দিতে রাজি হয়নি টিভি চ্যানেলগুলোর কর্তৃপক্ষ। টিআরপির দিকে নজর রেখে এসব সিরিয়ালকে গেলানোর জন্য একাধিকবারও দেখানো হচ্ছে একই পর্ব।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

অভিযোগের পাহাড়, অসহায় ইউজিসি

প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে না আজ

মৈত্রী এক্সপ্রেসে শ্লীলতাহানির শিকার বাংলাদেশি নারী

‘২০৬ নম্বর কক্ষে আছি, আমরা আত্মহত্যা করছি’

ট্রেনে কাটা পড়ে দুই পা হারালেন ঢাবি ছাত্র

পুলে যাচ্ছে সেই সব বিলাসবহুল গাড়ি

নীলক্ষেত মোড়ে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ, এমপির আশ্বাসে স্থগিত

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সফর সফল করতে নির্দেশনা

নেতাকর্মীরা জেলে থাকলে নির্বাচন হবে না: ফখরুল

তিন দিনের ধর্মঘটে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা

ইডিয়ট বললেন মারডক

সহায়ক সরকারের রূপরেখা প্রণয়নের কাজ শেষ পর্যায়ে

২৩শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

বাসায় ফিরছেন মেয়র আইভী

‘আমাকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে’

জনগণ রাস্তায় নেমে ভোটাধিকার আদায় করবে: মোশাররফ