সিরিয়ায় মসজিদে মার্কিন বিমান হামলার অভিযোগ

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৭ মার্চ ২০১৭, শুক্রবার
সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে একটি গ্রামের মসজিদে বোমা হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে। যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর) জানিয়েছে, মার্কিন বিমান হামলায় বিধ্বস্ত হয়ে যায় আল-জেনা গ্রামের একটি মসজিদ। এতে অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন। নিহতদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী ওই দাবির সঙ্গ দ্বিমত পোষণ করে বলেছে, বিমান হামলা চালানো হয়েছে ঠিকই। তবে হামলার টার্গেট ছিল ওখানে বৈঠকে মিলিত হওয়া আল কায়েদা জঙ্গিরা। তবে অভিযোগ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সামরিক বাহিনী। এ খবর দিয়েছে সিএনএন।
খবরে বলা হয়, এই হামলাটি নথিবদ্ধ করেছে সিরিয়া সিভিল ডিফেন্স বা হোয়াইট হেলমেটস নামে একটি মানবিক সংস্থাও। এতেও বলা হয়, হামলায় আক্রান্ত হয়েছে একটি মসজিদ। এমনকি আক্রান্ত মসজিদের ধ্বংসাবশেষে নিজেদের উদ্ধার অভিযানের ছবিও প্রকাশ করেছে গ্রুপটি।
মার্কিন একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, ওই অঞ্চলে অর্থাৎ ইদলিব প্রদেশ ও আলেপ্পো সীমান্তে মার্কিন বিমান হামলা চালানো হয়েছে। কিন্তু তার দাবি, হামলায় টার্গেট করা হয়েছে একটি ভবনকে যেখানে আল কায়দা সদস্যরা সভা করছিল বলে তাদের কাছে তথ্য ছিল। ওই হামলায় ‘কয়েকজন সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে বলেও দাবি মার্কিন সেনা মুখপাত্রের। তিনি আরও জানান, হামলায় ভবনের অর্ধেক ধ্বংস হয়েছে। বোমা হামলার সময় এতে বেশ কয়েকজন আল কায়দা সদস্য অবস্থান করছিল। ওই ভবনটি মসজিদ ছিল না, এমনকি মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃতও হচ্ছিল না। সেনা মুখপাত্র আরও বলেন, ভবনের পাশেই একটি মসজিদ রয়েছে। উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত সাম্প্রতিক ছবিতে দেখা যাচ্ছে ওই মসজিদ এখনও অক্ষত আছে।
মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, ওই হামলায় বেসামরিক জনগণ নিহত হওয়ার যেকোন অভিযোগ তারা তদন্ত করবে। মুখপাত্রের বক্তব্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইদলিব ছিল আল কায়দা নেতাদের নিরাপদ আবাসস্থল। জানুয়ারিতে সেখানে এক হামলায় আল কায়দার একটি প্রশিক্ষণ শিবির ধ্বংস হয়। সেখানে শতাধিক যোদ্ধা প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল। কিন্তু বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ওই হামলায় ৩০০ জনের মতো নিহত হয়।
পর্যবেক্ষক সংস্থা এসওএইচআর বলেছে, মসজিদে চালানো হামলার পর এখন উদ্ধারাভিযান চলছে। সিএনএন’কে সংস্থাটি বলেছে, সেখানে নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। কারণ কয়েক ডজন মানুষ এখনও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে আছেন। সিরিয়ায় এর আগেও আল কায়দা যোদ্ধাদের টার্গেট করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফেব্রুয়ারিতে ইদলিবের কাছে মনুষ্যবিহীন ড্রোন হামলায় ১০ আল কায়দা সদস্য নিহত হয় বলে পেন্টাগন দাবি করেছিল।
তবে মার্কিন সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর অভিযোগ নতুন নয়। ২০১৫ সালে আফগানিস্তানের কুন্দুজে প্রখ্যাত এনজিও ডক্টর উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ) চালিত এক হাসপাতালে হামলা চালায় মার্কিন বিমানবাহিনী। এতে ৪২ জন নিহত হয়।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন