উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের টার্গেট ৩১ দেশ

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৬ মার্চ ২০১৭, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৫৯
সাইবার হামলার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির পর সম্প্রতি ৩১টি দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করেছে উত্তর কোরিয়ার একটি হ্যাকিং গ্রুপ। তারা লাজারাস নামে পরিচিত। তারা ব্যাপক আকারে চেষ্টা করেছে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে সেখান থেকে অর্থ লুটে নিতে। এমন তথ্য প্রকাশ করেছে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা সিমেনটেক করপোরেশন। তবে কোন কোন প্রতিষ্ঠানকে হ্যাকাররা টার্গেট করেছে তা সনাক্ত করতে পারে নি তারা। নিশ্চিত করে বলতে পারে নি যে, এই হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে কোনো অর্থ চুরি করতে সক্ষম হয়েছে কিনা।
এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়, সিমেনটেক বুধবার এই তথ্য প্রকাশ করেছে। তারা এক ব্লগে বলেছে, তাদের গবেষকরা এমন দাবির পিছনে চারটি ডিজিটাল প্রমাণ হাতে পেয়েছেন। তাতে দেখা যায়, লাজারাস নামের ওই হ্যাকিং গ্রুপটি সাম্প্রতিক হ্যাকিংয়ের নেপথ্যে রয়েছে। তারা এক্ষেত্রে ‘লোডার’ সফটওয়ার দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে আক্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। এর মাধ্যমে ম্যালিসিয়াস প্রোগ্রাম প্রতিস্থাপন করে হামলা চালিয়েছে বা চালানোর চেষ্টা করেছে। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করে হ্যাকাররা। এমন সব হ্যাকিংয়ের জন্য দায়ী করা হয়েছে উত্তর কোরিয়ার ওই হ্যাকিং গোষ্ঠী লাজারাস’কে। এ ছাড়া তারা ২০১৪ সালে সনি পিকচার্স এন্টারটেইনমেন্টে হ্যাকিং করে। এর ফলে সনি পিকচার্সের নেটওয়ার্ক বেশ কয়েক সপ্তাহ বিকল হয়ে ছিল। লাজারাস দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও হ্যাকিং চালানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সিমেনটেকের গবেষক এরিক চিয়েন বলেছেন, সাম্প্রতিক এসব হামলার জন্য লাজারাসই দায়ী। এ বিষয়ে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। ওদিকে হ্যাকিংয়ের জন্য এর আগে ওয়াশিংটন ও সিউলের কর্মকর্তারা সহ নিরাপত্তা বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দায়ী করে আসছে উত্তর কোরিয়াকে। কিন্তু এ দেশটির সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সিমেনটেক এবার বলেছে, সম্প্রতি ৩১টি দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে যে হ্যাকিং চালানোর চেষ্টা হয়েছে তা উল্লেখ করার মতো। এক্ষেত্রে হ্যাকাররা ব্যবহার করেছে আগের সব হামলার চেয়ে অধিক কৌশলী। যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও বিভিন্ন ব্যাংকে এসব ক্ষেত্রে পরামর্শ দিয়ে থাকে ট্রেইল অব বিটস নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এর প্রধান নির্বাহী ড্যান গাইডো বলেছেন, হ্যাকাররা অধিক চৌকষ কৌশল অবলম্বন করায় হুমকি আগের চেয়ে বেড়েছে। সিমেনটেক যে তথ্য হাজির করেছে তা পর্যালোচনা করেছেন ড্যান গাইডো। তিনি আরো বলেছেন, ‘সফিসটিকেটেড টেকনিকস’-এর ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের মাধ্যমে হ্যাকাররা ব্যাংকগুলোতে আক্রমণ শাণাচ্ছে। এটা খুব বেশি উদ্বেগের। উল্লেখ, ইন্টারনেটে মেইলওয়্যার নিয়ে গবেষণায় বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গবেষক দল আছেন সিমেনটেকে। এ সংস্থাটি নিয়মিত উদ্ভূত সাইবার হামলা নিয়ে কাজ করে। যেসব ভোক্তা তাদের নিরাপত্তা বিষয়ক সেবা নিয়ে থাকেন তাদেরকে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সরকারকে সাইবার নিরাপত্তা দিতে সহায়তা করে। গত মাসে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, পোল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংক ব্যবস্থাকে মেইলওয়ারের মাধ্যমে আক্রান্ত করা হয়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সিমেনটেক হ্যাকিং বিষয়ে সেখানে কাজ করে। তবে তারা বলেছে, পোল্যান্ডের ওই ঘটনায় লাজারাসকে দায়ী করার মতো শক্ত প্রমাণ তাদের হাতে আসে নি। গত ফেব্রুয়ারিতে পেল্যান্ডের ব্যাংকগুলোর সবচেয়ে বড় লবিং গ্রুপ জেডবিপি বলে যে, এ খাতটি সাইবার আক্রমণের শিকার হয়েছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেন নি। 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

কানাডার উন্নয়নমন্ত্রী আসছেন মঙ্গলবার

ব্যক্তির নামে সেনানিবাসের নামকরণ মঙ্গলজনক হবে না: মওদুদ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়তার প্রস্তাব জাপানের

পানামা ও প্যারাডাইস পেপারসে নাম আসা ব্যক্তিদের তথ্য প্রকাশের দাবি সংসদে

সমাপনীতে অনুপস্থিত ১৪৫৩৮৩ শিক্ষার্থী

ঈদ-ই মিলাদুন্নবি ২ ডিসেম্বর

দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য তারেক রহমানকে দরকার: এমাজউদ্দিন

দল থেকে বরখাস্ত মুগাবে

দেখা হলো, কথা হলো কাদের-ফখরুলের

আখতার হামিদ সিদ্দিকী আর নেই

ইইউ প্রতিনিধি ও তিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন

‘এবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো সুযোগ নেই’

নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না শেখ হাসিনার সরকার-নৌ মন্ত্রী

‘আমি ব্যবসায়িক প্রতিহিংসার শিকার’

সেনা মোতায়েন নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি : সিইসি

২০১৮ সালে প্রবল ভুমিকম্পের আশঙ্কা!