‘তরুণদের সঙ্গে মিশলে নিজেকেও তরুণ মনে হয়’

বিনোদন

ফয়সাল রাব্বিকীন | ৯ মার্চ ২০১৭, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৩২
স্বনামধন্য সংগীতশিল্পী রফিকুল আলম। দীর্ঘ সময় ধরে গান করে চলেছেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের এই কণ্ঠযোদ্ধা। স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অবদানের কথা সবারই জানা। আর সেই বেতার কেন্দ্রে গান গেয়ে মানুষকে উদ্ধুদ্ধ করার মতো কাজটি সফলভাবে করেছেন রফিকুল আলম। স্বাধীনতার পরে নিজেকে আরও ভালোভাবে মেলে ধরেন তিনি। নিয়মিত গেয়েছেন রেডিও, টিভি ও সিনেমায়। বিশেষ করে সিনেমায় তার গাওয়া অনেক গানই বেশ শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছে। এসব গানের মধ্যে রয়েছে আমার বাউল মনের একতারাটা, আশা ছিলো মনে মনে, এক হৃদয়হীনার কাছে, একি খেলা চলছে হরদম, এক নদীরই উজান ভাটি সহ আরও অনেক গান। দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এ সংগীতশিল্পী এখনও নিয়মিত গান করছেন। এত দীর্ঘ সময় পারি দেয়ার পরও তার কণ্ঠের আবেদন রয়েছে ঠিক আগের মতোই। স্ত্রী আরেক জনপ্রিয় শিল্পী আবিদা সুলতানাও রফিকুল আলমকে সব সময় গানের ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা দিয়ে থাকেন। এখন টিভি চ্যানেল, স্টেজ ও সিনেমার গানেই ব্যস্ত রয়েছেন রফিকুল আলম। কেমন যাচ্ছে চলতি সময়? উত্তরে রফিকুল আলম বলেন, এখনতো বেঁচে থাকাটাই বড় বিষয়। তার উপর খানিক ভালো থাকারই চেষ্টা করি। কারণ সময়টা খুব অস্থির। তবে পরিবার নিয়ে আমি ভালো আছি। ব্যস্ততা কি নিয়ে? রফিকুল আলম হেসে বলেন, কি নিয়ে আর হবে! আমার পেশা ও নেশা যা তাই! গান নিয়েই সব ব্যস্ততা। এখনতো মার্চ চলছে। স্বাধীনতার মাস। এ মাসটি এলেই মনটা কেমন  যেন হয়ে যায়। আর এ মাস উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে গাইছি। সামনে ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবসে কিছু অনুষ্ঠানে গাওয়ার কথা রয়েছে। সেগুলোর প্রস্তুতিও নিচ্ছি। আর সিনেমায় গাওয়ার ব্যাপারেও কথা হচ্ছে। ব্যাটে বলে মিললে করবো। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পার করছি আমরা। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের একজন শিল্পী হিসেবে আপনার অনুভূতি কি? রফিকুল আলম বলেন, প্রথমেই বলে নেই কণ্ঠযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিয়ে কোন ধরনের সুযোগ নিতে চাই না আমি। আগেও কখনও নেইনি। অনেকেই হয়তো নিয়ে থাকেন। এর বাইরেও শিল্পী হিসেবে আমার একটি পরিচয় রয়েছে। আর স্বাধীনতার এতটা বছর আমরা পার করেছি। কি পেলাম, কি হারালাম সেই হিসেবে আমি যাবো না। তবে আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি। এই দেশে আমরা বাস করছি, সেটাই বা কম কিসের! নতুন গানের কি খবর? অ্যালবাম কি করছেন? রফিকুল আলম বলেন, অ্যালবামে এখন আর মন টানে না। কারণ সিডির দোকান নেই। কোথাও গান বাজতে শুনিনা। সিডি প্রকাশও অনেকাংশে বন্ধ হয়ে গেছে। আজ গান প্রকাশ করলে কাল সেটা অনলাইনে ফ্রি পাওয়া যাচ্ছে। এটা কোন ধরনের নিয়ম? এই প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই। তারপরও নতুন গান করছি। ফুয়াদ নাসের বাবু ও হৃদয় খানের সুরে দুটি গান করছি। এর মধ্যে বাবুর করা গানটির কাজ শেষ হয়েছে। হৃদয়েরটি সামনে হবে। অচিরেই ডিজিটালি গানগুলো প্রকাশ করবো ভিডিও আকারে। তরুণদের সঙ্গে কাজ করতে কেমন লাগছে? রফিকুল আলম বলেন, অনেক ভালো লাগছে। তরুণদের সঙ্গে মিশলে নিজেকেও তরুণ মনে হয়। আমি সব সময় তরুণদের উৎসাহ দেয়ার চেষ্টা করি ভালো কাজের ব্যাপারে। বাবুর কাজটি খুব ভালো হয়েছে। হৃদয়ও যে সুরটি করেছে সেটিও আমার মনে ধরেছে। আমার বিশ্বাস খুব ভালো কিছু হবে।  এই সময়ের গান সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কি?  রফিকুল আলম বলেন, এখন ভালো ও খারাপ দুই ধরনের কাজই হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ শিল্পীই গানের গভীরতা অনুভব করতে পারে না। কথা ও সুরের মর্মটা উপলব্ধি করতে চায় না। এখন সবাই অডিওর চেয়ে ভিডিও নিয়েই বেশি ব্যস্ত। অনেকেই অভিযোগ করেন এখনকার গান দীর্ঘ সময় টিকে থাকে না। আপনি কি মনে করেন? রফিকুল আলম বলেন, গানের প্রতি ভালোবাসাটা না থাকলে হবে না। আমি ইন্ডাস্ট্রিকে প্রমোট করার জন্য ১৫০-২০০ টাকা সম্মানিতেও গান করেছি। জনসচেতনাতামূলক বিভিন্ন কাজে বিনা সম্মানিতে গান করেছি। আমি গান গাইতে পারি। এটা দিয়ে কিন্তু আামি সমাজ ও মানুষেরও কল্যাণ করতে পারি। এই দ্বায়বদ্ধতা ও মানসিকতাটা থাকতে হবে। ভালো শিল্পী হতে গেলে আগে ভালো মানুষ হতে হবে।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ভবিষ্যৎ নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আস্থা নেই বিএনপির

রুবির বক্তব্য আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ

মিয়ানমারকেই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে হবে

সর্বশেষ আসা রোহিঙ্গাদের মুখে নির্যাতনের বর্ণনা

হঠাৎই সব এলোমেলো

হারানো দুর্গ পুনরুদ্ধার করতে চায় বিএনপি

পাহাড়ে দাঙ্গা সৃষ্টির চেষ্টা

একই চিত্র জাকিরুলের বাড়িতে

মা এখনো জানেন না

ত্রাণ ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে বিমান বাহিনী

ফের কমলো স্বর্ণের দাম

লিবিয়ার আইএস ঘাঁটিতে মার্কিন বিমান হামলা, নিহত ১৭

উল্টো পথে আবার ধরা সচিবের গাড়ি

ফের কমলো স্বর্ণের দাম

ছাত্রের হাতে শিক্ষক জখম

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ৮০ ভাগ নারী ও শিশু: কেয়ার